প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগের বৈঠক আগামী রবিবার

এমএনএ রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী রবিবার যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের (সম্মেলন) বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবেন। ঐ দিন বিকাল ৫টায় গণভবনে যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, একজন বাদে সকল প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, গতকাল দুপুরে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের অনুমতি নেয়ার জন্য গণভবনে যান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সময় চান। প্রধানমন্ত্রী আগামী রবিবার বিকাল ৫টায় গণভবনে যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের অনুমতি দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হারুনুর রশিদকে বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ আছে এমন কেউ যেন তোমাদের সঙ্গে গণভবনে না আসে।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের শুরুতেই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়ে অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি (গ্রেপ্তারের পরে বহিষ্কৃত) ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াসহ যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে। অন্যদিকে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সময় ওমর ফারুকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে? এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে? প্রধানমন্ত্রীও তাদের বিষয়ে ক্ষুব্ধ। তিনি চান না রবিবারের বৈঠকে তারা উপস্থিত থাকুক। এটি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে থাকবেন না সংগঠনটির বর্তমান চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর রাতে ওমর ফারুক চৌধুরী গণভবনে গিয়েছিলেন। ওইদিন ভারত সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন। ওইদিন গণভবনে উপস্থিত থাকা একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুবলীগ নেতারা যে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সেদিকে প্রধানমন্ত্রী তাকাননি। এর আগে গত ৩ ও ১ অক্টোবরও ওমর ফারুক চৌধুরীকে গণভবনে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক হিসাব তলব ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার পর থেকে তিনি আর প্রকাশ্য আসছেন না। সর্বশেষ ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রেসিডিয়াম বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন না ওমর ফারুক। সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে চেয়ারম্যানের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন নেতা। তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার কথাও বলেন তারা।

জানা গেছে, সাধারণত সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক থাকেন চেয়ারম্যান, কিন্তু সপ্তম কংগ্রেসের প্রস্তুতি কমিটিতে ওমর ফারুক চৌধুরীকে না রাখার জন্য আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী রবিবারের বৈঠকে তাকে যুবলীগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিও দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন অভিযোগ আসায় যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকেও সম্মেলনের আগে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে যে কঠোর রয়েছেন সেই বার্তাটা দেয়া হবে।

জানতে চাইলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, আগামী জাতীয় কংগ্রেসের বিষয়ে নেত্রীর গাইডলাইন দরকার আমাদের। এ বিষয়ে নেত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠকের অনুমতি নিতে আজকে (বুধবার) নেত্রীর সঙ্গে আমি দেখা করেছিলাম। তিনি আমাদের আগামী রবিবার বিকাল ৫টায় গণভবনে সময় দিয়েছেন।

ওই বৈঠকে সংগঠনের চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান যেহেতু প্রেসিডিয়ামে আসেননি, সেহেতু রবিবারের বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকবেন কিনা সেটা পরিষ্কার নয়।

চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে হারুনুর রশিদ বলেন, এ বিষয়টা জানার জন্য আপনারা আমাদের আগামী রবিবারের বৈঠক পর্যন্ত অপেক্ষা করেন ।

তিনি বলেন, গণভবন একটি পবিত্র জায়গা। এখান থেকে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নেত্রী তার সব পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যান। কাজেই এই পবিত্র জায়গায় কোনো বির্তকিত লোক যাওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।

আপনি কি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেই আজকে (বুধবার) গণভবনে গিয়েছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সাধারণ সম্পাদক বলেন, না। ওনার (ওমর ফারুক চৌধুরী) সঙ্গে এ বিষয়ে আমার কোনো কথাই হয়নি। ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে আমাকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাই আমি একাই গণভবনে গিয়েছিলাম।

চেয়ারম্যানের সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১১ অক্টোবর প্রেসিডিয়ামের বৈঠকের আগে তার সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছিল। এরপর কোনো কথা হয়নি। আজকের গণভবনে যাওয়ার বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হয়নি।

এদিকে আগামী রবিবারের ঐ বৈঠকে যুবলীগের সম্মেলনকে সফল করতে ১২টি উপকমিটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ যুবলীগের সম্মেলনের তারিখও চূড়ান্ত হবে। এক্ষেত্রে ২২ নভেম্বর দুই মহানগর শাখার সম্মেলন হতে পারে। জানা গেছে, বর্তমান চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতে আগামী ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে যুবলীগের প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্য কংগ্রেসে সভাপতিত্ব করতে পারেন। কে সভাপতিত্ব করবেন সেটি নির্ধারণের জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ওপর ছেড়ে দিবেন প্রেসিডিয়াম সদস্যরা। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী রবিবারের বৈঠকে ঠিক করে দিতে পারেন। এছাড়া যুবলীগ নেতাদের বয়সসীমা নির্ধারণও করা হতে পারে এ বৈঠকে।

x

Check Also

আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস আজ

এমএনএ রিপোর্ট : আজ মঙ্গলবার যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। ১৯৯৯ সালের ১৯ ...

Scroll Up