প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে খালি হাতে ফিরেছেন: খালেদা জিয়া

31

এমএনএ রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে খালি হাতে ফিরেছেন, তার ভারত সফর ব্যর্থ।’

আজ বুধবার বিকেলে চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর এবং ভারতের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিছু আশ্বাস নিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছেন। সুন্দরবন ও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একটি কথাও বলেননি।’

খালেদা জিয়ার দাবি, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি বা সমঝোতার ক্ষেত্রেই জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারেনি বা করেনি। তারা কেবল কৃতজ্ঞতার ঋণই ক্রমাগত শোধ করে চলেছে। এতে বিসর্জন দেয়া হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা। খর্ব হয়েছে আমাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘তিনি ( শেখ হাসিনা) এই সফরে তৃপ্ত। কিন্তু দেশের জনগণ এই সফরের ফলাফলে তৃপ্ত তো নয়ই বরং আতঙ্কিত। তারা জাতীয় স্বার্থবিরোধী একগাদা চুক্তি ও সমঝোতা চায়নি। হিসাবের পাওনা চেয়েছে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘ভাটির দেশ হিসাবে সকল আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের অধিকার। এটা কারো কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য বা করুণার বিষয় নয়। তিস্তার পানি বন্টনের বিষয়টি দুই সার্বভৌম দেশের মধ্যকার বিষয়। এ জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেই বিষয়টি ফয়সালা করতে হবে। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে দুই দেশের মধ্যেকার আলোচনায় সংশ্লিষ্ট করায় বাংলাদেশের সার্বভৌম মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে।’

তিনি বলেন, দেশের মানুষ তাদের ন্যায্য পাওনা কী এসেছে সেটা জানতে চায়। সেটা চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকের সংখ্যা ও বন্ধুত্বের কথামালার ওপর নির্ভর করে না। দুর্ভাগ্যের বিষয় এইসব জমকালো আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে বাংলাদেশ যে বঞ্চিত ছিল সেই বঞ্চিতই থেকে গেলো। বাংলাদেশ আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলো।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘দু’দেশের যৌথ ইশতেহারে যে গণতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে বাংলাদেশে এখন সেই গণতন্ত্র নেই। জনগণের কোনো অধিকার নেই। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নেই। জনগণ তাদের অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরে পাবার জন্য সংগ্রাম করছে। গণতান্ত্রিক ভারতের অবস্থান সেই গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে থাকবে সেটাই সকলের প্রত্যাশা। তাহলেই দু’দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরো দৃঢ় ও ফলপ্রসূ হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বিএনপি নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।