প্রাথমিক সমাপনী বৃত্তির ফল প্রকাশ

এমএনএ রিপোর্ট : প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-২০১৯ এর ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাথমিক সমাপনী ও ইবতেদায়ি সমাপনীর বৃত্তির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মোট ৮২ হাজার ৪২২ জন বৃত্তি পেয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ফল প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

২০১৯ সালের পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীর ফলাফলের ভিত্তিতে এ বৃত্তির ফল তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, এ বছর পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে ৮২ হাজার ৪২২ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মেধা কোটায় (ট্যালেন্টপুল) বৃত্তি পেয়েছে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। সাধারণ কোটায় বৃত্তি পেয়েছে সাড়ে ৪৯ হাজার। মেধা কোটায় বৃত্তিপ্রাপ্তরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং আর সাধারণ কোটায় ২২৫ টাকা করে বৃত্তির অর্থ পাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যার অনুপাতে উপজেলা/থানার কোটা নির্ধারণ করে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি বণ্টন করা হয়। সাধারণ বৃত্তি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ওয়ার্ডভিত্তিক বিতরণ করা হয়। এবার মোট ৮ হাজার ২৪টি ইউনিয়ন/পৌরসভার ওয়ার্ডে প্রতিটিতে ৬টি (৩ জন ছাত্র ও ৩ জন ছাত্রী) হিসাবে মোট ৪৮ হাজার ১৪৪টি এবং অবশিষ্ট ১ হাজার ৩৫৬টি বৃত্তি থেকে প্রতিটি উপজেলা/থানা থেকে আরও ২টি (একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রী) করে ৫১১টি উপজেলা/থানায় ১ হাজার ২২টি সাধারণ এবং আরো অবশিষ্ট ৩৩৪টি বৃত্তি থেকে প্রতিটি জেলা থেকে আরও ৪টি (২ জন ছাত্র ও ২ জন ছাত্রী) করে ৬৪টি জেলায় ২৫৬টি সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও পুনঃনিরীক্ষায় ফল পরিবর্তন হওয়ায় ৭৮টি বৃত্তি রিজার্ভ রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে আগে ৫৫ হাজার শিক্ষার্থীকে মেধার ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়া হতো। ২০১৫ সাল থেকে ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী এ সুযোগ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বৃত্তির অর্থের পরিমাণও ২০১৫ সাল থেকে বাড়ানো হয়েছে। আগে ট্যালেন্টপুলো বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ২শ টাকা করে দেওয়া হলেও ২০১৫ থেকে ৩শ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ১৫০ টাকার পরিবর্তে ২২৫ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী, যা আগে ছিল ২২ হাজার। সাধারণ কোটায় পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ জন, যা আগে ছিল ৩৩ হাজার জন। যারা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি পাবে তাদের ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত এই বৃত্তি দেওয়া হবে।

প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফল অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (www.dpe.gov.bd) এবং স্থানীয়ভাবে বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে পাওয়া যাবে।

গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫০ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থী। ১৭ নভেম্বর শুরু হয় পিইসি ও ইইসি পরীক্ষা। এতে ২৯ লাখ ৩ হাজার ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরমধ্যে প্রাথমিক সমাপনীতে ২৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৬৭ জন ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৭১ জন ছাত্র-ছাত্রী ছিল। এদের মধ্যে প্রাথমিক সমাপনীতে পাস করে ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭৪৩ জন পরীক্ষার্থী। উত্তীর্ণদের মধ্যে ১০ লাখ ৭২ হাজার ১৫৪ জন ছাত্র এবং ১২ লাখ ৭১ হাজার ৫৮৯ জন ছাত্রী।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

x

Check Also

আজ শুক্রবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ২৭ মার্চ ২০২০, শুক্রবার। নতুন সূর্যালোকে আজ শুক্রবারের দিনটি আপনার ...

Scroll Up