প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা

এমএনএ রিপোর্ট : হোয়াইট হাউসে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মো. আসাদ উল্লাহ্ নামে একজন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এর আগে ঢাকায় একই অভিযোগে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়।

আজ রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে একটি মামলাটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি নেন এবং নথি পর্যালোচনা শেষে পরে আদেশ দেবেন বলে জানান। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাওন আহমেদ, জুয়েল শিকদারসহ আরও অনেকে শুনানি করেন।

অন্যদিকে একই অভিযোগে ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী সদস্য ইব্রাহীম খলিল তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান নোমানের আদালতে দণ্ডবিধি ১২৪ (ক) ধারায় তিনি মামলাটি করেন। ইব্রাহীম খলিল পেনাল কোডের ১২৪ (এ) ধারা অনুযায়ী প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

মামলার আরজি থেকে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই প্রিয়া বালা বিশ্বাস ওরফে প্রিয়া সাহা বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের সংঘালঘু নির্যাতন নিয়ে বক্তব্য দেন। সে বক্তব্য গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন বাদী।

আরজিতে বলা হয়, আসামি প্রিয়া সাহার এ বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ তৈরি হয়। যাতে দেশকে অস্থিতিশীল ও বিদেশি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তাই আসামির বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১৬ জুলাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হওয়া কয়েকজন ব্যক্তি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে চীন, তুরস্ক, উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমারসহ ১৭টি দেশের নির্যাতিত ব্যক্তিরা ছিলেন। সেখানে নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দেয়া প্রিয়া সাহা বলেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বিলীন হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই। সেখানে এখনো ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছে। আমার অনুরোধ দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু থাকার জন্য সাহায্য করুন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আমার বাড়ি-ঘর হারিয়েছি, তারা আমার বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমিজমা দখল করে নিয়েছে। কিন্তু তারা (সরকার) কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এখন পর্যন্ত।’

এ সময় ট্রাম্প ওই নারীকে প্রশ্ন করেন, ‘কারা জমি দখল করেছে, করা বাড়ি-ঘর দখল করেছে?’

ট্রাম্পের প্রশ্নের উত্তরে ওই নারী বলেন, ‘তারা মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এবং তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। সব সময়ই পায়।’

ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে এমন অভিযোগের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তার বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

x

Check Also

ছাত্রলীগের নতুন দুই কাণ্ডারির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এমএনএ রিপোর্ট : ছাত্রলীগের নতুন দুই কাণ্ডারি হিসেবে আল-নাহিয়ান খান জয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং লেখক ...

Scroll Up