প্লাস্টিকের বোতল কতদিন ব্যবহার করবেন?

25

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্র ব্যবহারে আমরা সকলেই অভ্যস্ত। অফিস কিংবা কাঁধের ব্যাগের সাইড পকেট, সর্বত্রই ‘বিরাজ করছে’ প্লাস্টিকের বোতল। শুধু পানির বোতলই নয় রান্নাঘরের মশলার বৈয়াম থেকে শুরু করে, টিফিন বক্স, সফট ড্রিংকের বোতল, আইসক্রিম বক্স, সিরাপ জাতীয় ওষুধের বোতল, জগ, মগ, পেয়ালাসহ প্রভৃতি সব জায়গাতেই প্লাস্টিকের ছড়াছড়ি। তবে দিনের পর দিন একই প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা ক্ষতিকর। তাহলে এই প্লাস্টিকগুলো কতদিন ব্যবহার করা যায়? এ নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন- মোসাম্মৎ সেলিনা হোসেন

Plastic-2

অর্থাৎ প্লাস্টিকের পাত্র প্রতিনিয়ত আমাদের কোনো না কোনোভাবে ব্যবহার করা লাগেই। কিন্তু কখনো কী খেয়াল করেছেন, প্লাস্টিকের পাত্রে লেখা থাকা বিভিন্ন লেখাগুলোকে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রের তলায় কিংবা নিচের দিকে থাকা ত্রিভুজ চিহ্নটিকে?

প্লাস্টিকের বোতল থেকে ফুড কন্টেইনারের নীচে ত্রিভুজের মধ্যে কিছু নম্বর দেয়া থাকে। যে চিহ্নতে নির্দিষ্ট করে বলা থাকে কোন বোতল কতদিন ব্যবহার করা উচিত। আর কোনটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। না জেনে অনেক সময়ই সেই সব চিহ্নের দিকে আমাদের খেয়াল থাকে না কোন চিহ্নের কী অর্থ?

এই নম্বরগুলো আসলে ওই প্লাস্টিকের মান নির্ধারণ করে। অর্থাৎ প্লাস্টিকের পাত্রটি কতখানি নিরাপদ বা অনিরাপদ, তা ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে থাকা নম্বরটির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

সুতরাং জেনে নিন, প্লাস্টিক পণ্যে থাকা ত্রিভুজ চিহ্নটির মধ্যে থাকা কোন নম্বর কী অর্থ প্রকাশ করে।

Botol-1

ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে ‘১’ নম্বর লেখা দেখলে বুঝবেন, প্লাস্টিক পাত্রটি পলিথিলিন টেরেফথালেট (পেট) দিয়ে নির্মিত। একবার ব্যবহারের জন্য এসব প্লাস্টিকের বোতল নিরাপদ। বোতলবন্দি পানি এবং সফট ড্রিংকের বোতল এটা দিয়েই তৈরি। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। এগুলো বারবার ব্যবহার করলে এর মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয়। তাই মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগেই এসব বোতল ব্যবহার করুন। এবং গরম স্থানে এসব বোতল রাখবেন না। এসব বোতলের গায়ে দেখবেন লেখা রয়েছে, ব্যবহারের পর তা ধ্বংস করে ফেলার জন্য।

Botol-2

ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে ‘২’ নম্বর দেওয়া থাকলে বুঝবেন, এ ধরনের বোতলে সাধারণত ঘন পলিথিন বা এইচডিপিই জাতীয় পলিথিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ডিটারজেন্ট, জুস, শ্যাম্পু, টয়লেট ক্লিনার ঘরানার বোতল বা প্যাকেট এই ধরনের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে। অস্বচ্ছ হয় এই ধরনের প্লাস্টিক।

Botol-3

ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে ‘৩’ নম্বর লেখা দেখলে বুঝবেন, এই ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার না করার জন্য এটি একটি সতর্কতাসংকেত। কারণ ‘৩’ নম্বর লেখা প্লাস্টিকগুলো পলিভিনাইল ক্লোরাইড বা পিভিসি দিয়ে তৈরি, যা থেকে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কয়েক ধরনের খাবারের আইটেমের পাত্র এ ধরনের প্লাস্টিকের অন্তর্ভুক্ত। যেমন-চিনাবাদাম ও মাখনের বয়াম, রান্নার তেলের বোতল, খাবার র‌্যাপিংয়ের জন্য ব্যবহৃত পলিথিন/পেপার সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। বেশি বার ব্যবহার করলে হরমোনাল সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের প্লাস্টিকের পাত্রে কোনো গরম খাবার রাখবেন না।

Botol-4

ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে যদি ‘৪’ নম্বর লেখা দেখেন, তাহলে বুঝবেন এই প্লাস্টিকটি রিইউজেবল বা পুনরায় বা বহু ব্যবহারযোগ্য। শপিংয়ের সময় যে প্লাস্টিকের ব্যাগ দেওয়া হয় তা এ ধরনের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। কারণ এই ধরনের পাত্র পাতলা পলিথিন বা এলডিপিই জাতীয় পলিথিন দিয়ে তৈরি। দামি বোতলে এই চিহ্ন থাকে। প্লাস্টিকের প্যাকেটেও এই চিহ্ন থাকে।

Botol-5

ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে যদি ‘৫’ নম্বর লেখা দেখেন, তাহলে বুঝবেন এই প্লাস্টিকের পাত্র ক্ষতিকারক নয়। সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিছু জলের বোতল, আইসক্রিম বক্স, ইয়োগার্টের পাত্র, সিরাপ বোতল, সসের বোতল এবং বেশ কিছু দামি প্লাস্টিকের কন্টেইনারে এই চিহ্ন থাকে। এসব বোতল বা কন্টেইনারে উল্লেখিত ধরনের বিভিন্ন খাবার ও ওষুধ রাখা হয়।

Botol-6

ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে যদি ‘৬’ কিংবা ‘৭’ নম্বর দেখেন তাহলে বুঝবেন এই প্লাস্টিক পণ্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। বিশেষত খাবার বা পানীয়ের জন্য কখনওই এই ধরনের পলিথিন ব্যবহার করা উচিত নয়। এ ধরনের প্লাস্টিক পণ্য পলিস্টেরিন বা স্টাইরোফোম কিংবা পলিকার্বোনেট বাইস্ফেনল-এ (বিপিএ) দিয়ে তৈরি। যা মানবদেহের ক্ষতিসাধন করে। খুব বেশি বার ব্যবহার করা উচিত নয় এই ধরনের পাত্র। বিশেষত এই ধরনের পাত্রে কখনওই খাবার গরম করা উচিত নয়। ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে ক্যান্সার এবং হৃদরোগের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। সাধারণত প্লাস্টিকের চামচ, প্লাস্টিকের কাঁটাচামচ ইত্যাদি পণ্য তৈরি হয় এ ধরনের প্লাস্টিকে।