ফেসবুকের পৌনে ৯ কোটি গ্রাহকের তথ্য বেহাত

24
এমএনএ সাইটেক ডেস্ক : ফেসবুকের পাঁচ কোটি নয়, প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য লন্ডনভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার হাতে গেছে বলে ধারণা করছে ফেসবুক।
ফেসবুকের বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই গ্রাহকদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। তবে এক কোটি ৬০ লাখ গ্রাহক অন্য দেশের, যাদের মধ্যে প্রায় ১১ লাখ যুক্তরাজ্যে থাকেন।
ফেসবুকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মাইক স্ক্রফারের ব্লগে প্রকাশ করার পর নতুন এই তথ্য উঠে আসে।
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারের কৌশল নির্ধারণে ওই ফেসবুক গ্রাহকদের তথ্য ব্যবহার করেছিল কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা।
ব্রিটিশ ওই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মী ও এই কেলেঙ্কারি ফাঁস করে দেয়া ক্রিস্টোফার উইলির বরাত দিয়ে এর আগে বলা হয়েছিল নিয়মবহির্ভূতভাবে ফেসবুকের প্রায় ৫ কোটি মানুষের তথ্য বেহাত হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দিস ইজ ইওর ডিজিটাল লাইফ’ নামের একটি কুইজ অ্যাপের মাধ্যমে এই তথ্য ফাঁস সম্ভব হয়েছে। ফেসবুক ধারণা করছে, ৩ লাখেরও বেশি মানুষ এই অ্যাপটি ব্যবহার করেছেন। আগে বলা হয়েছিল এই সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজার।
অ্যাপ ব্যবহারকারীদের প্রায় ৯৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী। মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের।
যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশনের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানান, কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে তারা এই বিষয়ের তথ্য-প্রমাণাদি আরো যাচাই করবেন।
এই কেলেঙ্কারি প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ফেসবুক। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানতো যে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা লক্ষাধিক ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু লন্ডনভিত্তিক সংস্থাটি সেসময় দাবি করে যে তারা সেসব তথ্য মুছে দিয়েছে। এই বক্তব্যের ওপর বিশ্বাস করে ফেসবুক।
চ্যানেল ফোর নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাঁস হয়ে যাওয়া কিছু তথ্য এখনো পাওয়া যাচ্ছে। যদিও ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা বলছে, তারা তাদের কাছে থাকা তথ্য নষ্ট করে দিয়েছে।
আগামী ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘হাউজ অব কমন্স’এ এই বিষয়ে নিজের যুক্তি তুলে ধরবেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ।
গ্রাহকের অজ্ঞাতে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশে তাদের তথ্য ব্যবহার করার এই খবর রটে গেলে ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে ব্রিটিশ সংসদে তলব করা হয়।
এ বিষয়ে তাদের ভুল হয়েছিল স্বীকার করেন জাকারবার্গ এবং গ্রাহকদের তথ্য তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনাটিকে ‘গ্রাহকদের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ’ করার সামিল বলে এক বিৃবতিতে উল্লেখ করে।
ফেসবুকের নেয়া পদক্ষেপসমূহ
বিভিন্ন অ্যাপ ভবিষ্যতে যাতে ফেসবুককে ব্যবহার করে গ্রাহকের তথ্য সহজে হাতিয়ে নিতে না পারে সেজন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের প্রাইভেসি সেটিংসে পরিবর্তন আনে বলে জানিয়েছেন মার্ক জাকারবার্গ। বিজ্ঞাপনদাতাদের পরামর্শক হিসেবে কাজ করে- এমন কয়েকটি ডেটা ব্রোকার ফার্মের সঙ্গে ব্যবসাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ফেসবুকের শীর্ষ প্রযুক্তি কর্মকর্তা স্ক্রফার ফেসবুকের নিতে যাওয়া পদক্ষেপগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। সেগুলো হলো:
>> ফোন নম্বর বা ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়ে খোঁজ করে কোনো ব্যক্তিকে যেন খুঁজে না পাওয়া যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ। ফেসবুক বলছে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে এর আগে অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
>> কোনো অ্যাপের মাধ্যমে কোনো ইভেন্ট পেইজের অতিথিদের তালিকা বা ওই পেইজের মেসেজ দেখা যাবে না।
>> মেসেঞ্জারের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন ও ফেসবুক লাইট ব্যবহার করে করা ফোন কল ও মেসেজ হিস্টরি একবছরের বেশি সেইভ করা থাকবে না এমন প্রতিশ্রুতি। কোন সময় ফোন কল করা হয়েছে সেই তথ্যও সেইভ করা থাকবে না।
>> ব্যবহারকারীদের নিউজ ফিডে আগামী সপ্তাহ থেকে একটি লিঙ্ক দেখা যাবে । তারা কি কি অ্যাপ ব্যবহার করে সেগুলো পর্যালোচনা করে কি তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে সে বিষয়ে ব্যবহারকারীদের জানানো হবে।