বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়া নন, আ’লীগ নেতারা জড়িত : ফখরুল

এমএনএ রিপোর্ট : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জড়িত নন, আওয়ামী লীগের নেতারাই জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান জড়িত- আওয়ামী লীগের নেতাদের এমন অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘকাল ধরেই এই ইতিহাস তারা বিকৃত করার চেষ্টা করছেন। এটা ধ্রুব তারার মতো সত্য, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি কোনো মতেই কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ইতিহাসই এর প্রমাণ। জড়িত ছিল তাদের (আওয়ামী লীগ) লোকেরা। যারা পরবর্তীতে সরকার গঠন করেছে, পার্লামেন্টে গেছে।’

জিয়াউর রহমানের শাসনকাল নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন যদি অবৈধ হয়ে থাকে, তা হলে আওয়ামী লীগও অবৈধ। কারণ তার সরকারের সময় তার বিধিমালা অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন করেছিল। পরবর্তীকালে সংসদ নির্বাচন, পরবর্তী রাজনীতি কিন্তু তার ওপর দিয়ে চলেছে। আমরা বলতে চাই, বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসা অবৈধ হতে পারে না, মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া অবৈধ হতে পারে না, সাংবাদিকদের মুক্ত করে দেয়া ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেয়া অবৈধ হতে পারে না।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর স্টেডিয়ামের কাছে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে জিয়াউর রহমানকে ‘অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী’ বললেও মির্জা ফখরুলরা এ বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

‘বিএনপি চামড়া কিনে ফেলে দিয়েছে’- শিল্পমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সমস্যা হচ্ছে কী, এরা তো দেশ চালাতে পারছে না। সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। একটি অনির্বাচিত সরকার দেশ চালাতে পারে না। তারা অবৈধ। জনগণের ম্যান্ডেট তাদের প্রতি নেই। পার্লামেন্ট বলুন আর সরকারই বলুন, জনগণের প্রতিনিধি নেই। সুতরাং এই ধরনের অর্বাচীনের মতো কথা বলা ছাড়া তাদের তো আর কোনো কিছু করার নেই।

এই সরকারের একনায়কত্ব জনগণ মেনে নেবে না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতি দূর করে দিয়ে তারা এখানে প্রভুত্ব কায়েম করতে চায়। যেটা সম্ভব হবে না, এই দেশের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না। এদেশের মানুষ অবশ্যই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করবে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের ঢাকা সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব বেশিকিছু প্রত্যাশা করছি না। কারণ আমরা গত ১০-১২ বছর ধরে শুনছি আওয়ামী লীগের সাথে ভারত সরকারের সম্পর্ক সুউচ্চ পর্যায়ে আছে। তো, এখন পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাইনি। সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়নি। বাণিজ্য ঘটতি পূরণ করার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আমাদের কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি। যেটা হয়েছে, ভারতের সমস্যার সমাধান। সেজন্য আমরা খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছি না।’

এ সময় জিয়ার মাজারে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েল প্রমুখ।

x

Check Also

ছাত্রলীগের নতুন দুই কাণ্ডারির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এমএনএ রিপোর্ট : ছাত্রলীগের নতুন দুই কাণ্ডারি হিসেবে আল-নাহিয়ান খান জয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং লেখক ...

Scroll Up