বন্ধুত্ব নিয়ে হলিউড-বলিউডের সেরা ২৮টি সিনেমা

119

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : বন্ধুত্ব মানব সম্পর্কের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন্ধু ছাড়া জীবনের অনেক কঠিন সময় পার করা যেন মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। কারো কারো জীবনের প্রতিটি পদে পদে থাকে বন্ধুর জন্য আত্মত্যাগ। আর তাই বন্ধুত্বের মত জাদুকরী এই সম্পর্ককে উদযাপন করা হয় একটি বিশেষ দিনে। প্রতি বছর আগস্টের প্রথম রবিবার পালিত হয় বিশ্ব বন্ধু দিবস।

মানুষ কিন্তু বন্ধুত্বকে শুধু একটি দিনের মধ্যেই আটকে রাখেনি। বন্ধু ছাড়া জীবনটাকে যেন কল্পনাই করা যায় না। মন খারাপ হলেই মনের কথাগুলো শেয়ার করার জন্য ছুটে যাওয়া হয় বন্ধুর কাছে।

এমন ঝরো ঝরো বাদল দিনে অথবা তপ্ত রৌদ্রজ্জ্বল দিনে বন্ধুকে নিয়ে দেখা যায় বন্ধু এবং বন্ধুত্ব নিয়ে নির্মিত বিখ্যাত সব সিনেমা। শুধু সময় কাটানো নয়- বন্ধুদের নিয়ে আইএমডিবির টপচার্টের এসব সিনেমা দিতে পারে বন্ধুত্বের নতুন রসদ। হলিউড বলিউডে এই সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হয়েছে বেশ কিছু বিখ্যাত সিনেমা। আজকের এই বিশেষ দিনে সময় সুযোগ মত দেখে নিন বন্ধুত্ব নিয়ে হলিউড বলিউড সেরা সিনেমাগুলো।

বলিউড সিনেমা

১. জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা (২০১১)
বন্ধুত্বের যাত্রাপথে ঘটে নানা অপ্রীতিকর ঘটনাও, কিন্তু তাতে কি বদলে যায় বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা? না- দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিন বন্ধুর বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এবং আশ্রয়ে ফেরার গল্প নিয়েই এ ছবিতে অভিনয় করেছেন ফারহান আখতার, অভয় দেওল, হৃত্বিক রোশন, ক্যাটরিনা কাইফ, কালকি কোয়েচিন সহ অনেকে। ভারতের খ্যাতনামা নারী নির্মাতা জয়া আখতার ২০১১ সালে নির্মাণ করেন ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ সিনেমাটি। অর্জুন, ইমরান ও কবির নামের তিন বন্ধুর গল্প নিয়ে এই ছবির কাহিনী। বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়ই জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় তা দেখানো হয়েছে সিনেমাটি। জীবনে চলার পথে বন্ধুরাই দেখাতে পারে সঠিক পথ। ‘জিন্দেগি না মিলেঙ্গে দোবারা’ সিনেমাটিতে দেখানো হয়েছে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বন্ধু কেমন ভূমিকা রাখতে পারে। বন্ধু ছাড়া জীবনে যে কিছু নয় তা তুলে ধরা হয়েছে এ সিনেমায়। কর্মব্যস্ত জীবন থেকে নিজেদের স্বপ্নের ছুটি কাটানোর জন্য তিন বন্ধুর গল্পের তালেই এগিয়েছে এই ছবি।

২. রঙ দে বাসন্তি (২০০৬)
২০০৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে মুক্তি পায় তারকা বহুল সিনেমা ‘রঙ দে বাসন্তি’। জীবনের চলার পথে বন্ধুত্ব বারবার পরীক্ষিত হয়েছে সিনেমাটিতে। সঙ্গে ছিল দেশপ্রেম। একদল বন্ধুর একাত্বতা, দেশপ্রেম এবং একই সঙ্গে বন্ধুত্ব দেখানো হয়েছে এতে। একদল বন্ধু তাদের দেশের জন্য লড়াই করে গেছে এবং বন্ধুদের জন্য একের পর এক আত্মত্যাগ করে গেছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা। অভিনয় করেছেন আমির খান, শারমান জোশি, আর মাধবন, সোহা আলি খান সহ অনেকে। বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদেরও প্রশংসা পেয়েছিল ছবিটি।

৩. থ্রি ইডিয়টস (২০০৯)
দুই বন্ধু খুঁজে বেড়ায় তাদের কলেজের বন্ধুকে, যে নিজের ভাবনা দিয়ে বদলে দিয়েছে চারপাশের মানুষের জীবন। যদিও তাকে সবাই এক কথায় ‘ইডিয়ট’ বলে, তবুও বন্ধুত্বের টানে যাত্রাপথের গল্পটা বদলে দেবে দর্শকের অনেক ভাবনা। রাজকুমার হিরানি পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন আমির খান, মাধবান, শারমান জোশি, কারিনা কাপুর খান সহ অনেকে। ২০০৯ সালে মুক্তি পায় বন্ধুত্ব নিয়ে নির্মিত বলিউডের এই বিখ্যাত সিনেমাটি। তিন বন্ধুর দেখা হয় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। এরপর জীবনের সঙ্গে মিশে যায় তাদের বন্ধুত্ব। একজন বন্ধু জীবনে অর্থ, সান্ত্বনা, সুখ, সহযোগিতা ছাড়া সঠিক পথও যে দেখাতে পারে, এ সিনেমায় তা-ই দেখানো হয়েছে। একজন বন্ধু সঠিক পথ দেখিয়ে বন্ধুদের সুপ্ত স্বপ্ন পূরণে ভূমিকা রাখে। জানা গেছে, ছবিটির ব্যাপক জনপ্রিয়তার কথা ভেবে শিগগিরই নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘থ্রি ইডিয়টস’ এর সিক্যুয়েল।

৪. দিল চাহতা হ্যায় (২০০১)
সেই শৈশব থেকে তিন বন্ধুর বন্ধুত্ব- কিন্তু তিন জন তিন ধরনের। এই তিনজনের মধ্যে অন্য কিছু কখনোই প্রাধান্য পায় না- কিন্তু ভালোবাসা বদলে দেয় তাদের জীবন। প্রেমের কারণেই আলাদা হয় তারা, প্রেমের কারণেই ফিরে আসে অকৃত্রিম বন্ধুত্বের টানে। ফারহান আখতারের পরিচানায় ছবিতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আমির খান, সাঈফ আলী খান, অক্ষয় খান্না, ডিম্পল কাপাডিয়া, সোনালি কুলকার্নি ও প্রীতি জিনতা। বন্ধুত্বের কাহিনীতে এই ছবিটি বলিউডে অন্য রকম স্থান করে নিয়েছে। তিন বন্ধুর কাহিনি নিয়ে এগিয়ে চলা এই ছবি বলিউডে বন্ধুত্বের উপস্থাপন এবং দৃষ্টিভঙ্গিকে নিয়ে গিয়েছিল ভিন্নপর্যায়ে। এই ছবির পর বন্ধুত্বের কাহিনী নিয়ে সিনেমা বানানোর ঢল নেমেছিল! নির্মাতা হিসেবে ফারহান আখতারের অভিষেক হয় এই ছবি দিয়ে। ২০০১ সালে মুক্তি পায় ছবিটি।

৫. রক অন (২০০৮)
বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলন ফিরিয়ে দিতে পারে জীবনের স্বাদ, বেঁচে থাকার সাধ- ছবিটি দেখলে এমন অনুভূতিই হবে। অভিষেক কাপুর পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন ফারহান আখতার, অর্জুন রামপাল, ল্যুক কেনি, পুরাব কোহলি- যারা একটা সময় একত্রিত হয় তাদের বন্ধুত্বের টানে। ফারহান আখতারের অভিনয়ের অভিষেক হয় এ সিনেমার মাধ্যমে। সিনেমাটিতে সংগীত নিয়ে একদল বন্ধুর টানাপোড়েন এবং শেষ পর্যায়ে আবার তাদের মিলনকে তুলে ধরা হয়েছে।

৬. শোলে (১৯৭৫)
বলিউডে বন্ধুত্ব নিয়ে যে কয়েকটি সিনেমা তৈরি হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ১৯৭৫ সালের ‘শোলে’ ছবিটি। ছবিটির পরিচালক রমেশ সিপ্পি। বন্ধুত্বের আসল সংজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে এ সিনেমায়। জয় এবং ভীরু দুই বন্ধুর কাহিনি উঠে এসেছে এতে। এই দুই চরিত্রে অভিনয় করেন অমিতাভ এবং ধর্মেন্দ্র। সিনেমাটি মুক্তির পর বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছিলেন তারা। সিনেমাটির ‘ইয়ে দোস্তি হাম নেহি ছোড়েঙ্গে’ গানটি বন্ধুদের আড্ডাতে এখনো বেশ জনপ্রিয়।

৭. ইয়ারানা (১৯৮১)
কিষান এবং বিষান দুই বন্ধুর গল্প নিয়ে তৈরি সিনেমা ‘ইয়ারানা’। সিনেমাটিতে কিষানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন এবং বিষানের চরিত্রে অভিনয় করেন আমজাদ খান। সিনেমার গল্পে দেখা যায়, ভালো গায়কী প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগাতে পারছে না কিষাণ। তাই বন্ধুর সফলতার জন্য নিজের সম্পত্তি বন্ধক রেখে সেই টাকা বন্ধুর জন্য ব্যয় করেন বিষান।

৮. দোস্তি (১৯৬৪)
প্রকৃত বন্ধুত্ব বলতে যা বোঝায় তা দেখানো হয়েছে এ সিনেমাটিতে। দুই বন্ধু যাদের একজন অন্ধ এবং অন্যজন খোঁড়া। একে অপরের সহযোগী হয়ে তারা চলতে থাকে নিষ্ঠুর এবং স্বার্থপর এ পৃথিবীতে। জীবনের চলার পথে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে বন্ধুত্ব। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন সুশীল কুমার এবং সুধির কুমার। ১৯৬৪ সালে বলিউডে মুক্তি পেয়েছে দোস্তি।

৯. কুচ কুচ হোতা হ্যায় (১৯৯৮)
এ সিনেমাটির কাহিনি গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব নিয়ে। সিনেমাটিতে দেখা যায় রাহুল এবং অঞ্জলির অসাধারণ বন্ধুত্ব। বন্ধুর জন্য নিজের সুখ এবং ভালোবাসা ত্যাগ ছিল সিনেমার মূল উপজীব্য বিষয়। সিনেমাটিতে রাহুল চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহরুখ এবং অঞ্জলি চরিত্রে দেখা যায় কাজলকে।এছাড়াও করণ জোহর পরিচালিত এই ছবিতে অভিনয় করেছেন রানি মুখার্জি, অনুপম খের, সানা খান ও ফরিদা জালাল।

১০. জানে তু ইয়া জানে না (২০০৮)
একদল বন্ধুর গল্প ‘জানে তু ইয়া জানে না’ সিনেমাটি। এদের মধ্যে অদ্বিতি এবং জয়ের বন্ধুত্ব একটু আলাদা। তারা দুজন জানে কীভাবে একে অপরের মুখে হাসি ফোটানো যায়। তবে অন্যরাও কম নয়। একে অপরের সুখ দুঃখে সব সময় পাশে তারা। এমনকি বন্ধুত্বের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত। কিন্তু এক পর্যায়ে গিয়ে অদ্বিতি এক ছেলের এবং জয় অন্য এক মেয়ের প্রেমে পড়ে এরপর তারা একে অপরের থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। কিন্তু তারপরেই বুঝতে পারে একে অপরকে ভালোবাসে তারা। ইমরান খান ও জেনেলিয়া ডি’ সুজা, দুজনেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন এই ছবির মাধ্যমে। আব্বাস টায়ারওয়ালার নির্মিত এই ছবিতেই ইমরানের বলিউড অভিষেক।

হলিউড সিনেমা

১. ইটি
১৯৮২ সালে মুক্তি পায় ‘ইটি দ্য এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল’ শিরোনামের সায়েন্স ফিকশন ছবিটি। পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়া একটি এলিয়েনকে নিজ গ্রহে ফিরিয়ে দেয় একটি কিশোর ছেলে- বন্ধুত্ব ও মানবতার এই ছবিটি আজও শিশু কিশোরদের মধ্যে জনপ্রিয়। স্টিভেন স্পিলবার্গের পরিচালনায় এ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন হেনরি থমাস ও ড্রিউ ব্যারিমুর।

২. সন অব র‍্যাম্বো (২০০৭)
গ্রীষ্মের ছুটিতে কি করা যায়, ভাবতে ভাবতেই স্কুলের দুই বন্ধু সিদ্ধান্ত নেয়- র‍্যাম্বো সিরিজের ‘ফার্স্ট ব্লাড’ ছবিটির মতোই একটা ছবি বানাবে তারা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন গ্র্যাথ জেনিংস এবং অভিনয় করেছেন বিল মিলনার, উইল পোওল্টার, জেসিকা হাইনেস, অ্যানা উইং।

৩. টয় স্টোরি
১৯৯৫ সাল থেকে শুরু হয় অ্যানিমেশন ছবি ‘টয় স্টোরি’ সিরিজের সিনেমা নির্মাণ। একে একে চারটি সিক্যুয়েল মুক্তি পায় এই ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে। নিজের খেলনা পুতুলগুলো খুব বেশিই প্রিয় অ্যান্ডি নামের এক কিশোরের কাছে, বিশেষ করে ‘উডি’নামের কাউবয়টি। অনেকটা জাদুর বলেই অ্যান্ডির অনুপস্থিতিতে তার খেলনা পুতুলগুলো হয়ে ওঠে জীবন্ত। বড় হয়ে যাওয়ার পর অ্যান্ডি বাড়ির বাইরে রেখে আসে পুতুলগুলো। নিজেদের বন্ধুত্বের জোরে সমস্যার সমাধান করে এগিয়ে চলে তারা। ‘টয় স্টোরি’ সিরিজের অ্যানিমেটেড সিনেমা তিনটিতে পুতুলদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক এতটাই গভীরভাবে দেখিয়েছেন পরিচালক জন ল্যাসেটার যে সিরিজটি শেষ হবার পর তাদের আর একসঙ্গে দেখা যাবে না বলে অনেক ভক্তের চোখেই অশ্রু ঝরেছে। টম হ্যাঙ্কস, টিম অ্যালেনের মত তারকারা সিনেমায় বিভিন্ন চরিত্রের কণ্ঠদান করেছেন।

৪. সার্কেল অব ফ্রেন্ড (১৯৯৫)
১৯৫০ সালে আয়ারল্যান্ডের পটভূমিতে দুই বন্ধু বেনি হোগান ও তার বন্ধু ইভ মেলোনকে নিয়ে পরিচালক প্যাট ও’কনর নির্মাণ করেছেন ছবিটি। অভিনয় করেছেন ক্রিশ ও’ডনেল, মিনি ড্রাইভার, গারালডাইন ও’রয় প্রমুখ।

৫. ব্রিজ অব টেরাবিথিয়া (২০০৭)
ছবিটি শুধু বন্ধুত্বের নয়- স্বপ্ন এবং বাস্তবায়নের। স্কুলে নতুন এক মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে একটি কিশোরের জীবন বদলে যায়। বাস্তবতা থেকে দূরে পালাতে তারা নির্মাণ করে স্বপ্নের এক জগত। বন্ধুত্বের সম্মানে একদিন ঠিকই ধরা দেয় সে অধরা পৃথিবী। গ্যাবোর কাসপো পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন যশ হ্যাচারসন, অ্যানাসোফিয়া রব, রবার্ট প্যাট্রিক প্রমুখ।

৬. স্ট্যান্ড বাই মি (১৯৮৬)
রব রেইনারের পরিচালনায় ‘স্ট্যান্ড বাই মি’ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৮৬ সালে। অভিনয় করেছেন উইল হুইটন, রিভার ফনিস্ক, জেরি ও’কনেল প্রমুখ। দীর্ঘদিন যোগাযোগ নেই, এমন এক বন্ধুর মৃত্যু সংবাদে বদলে যায় এক যুবকের জীবন। মৃতদেহ সনাক্ত করতে ঘুরে আসেন নিজের ছেলেবেলা। এভাবেই এগিয়ে যায় স্টিফেন কিংয়ের রচনায় বন্ধুত্বের পটভূমির এই ছবির গল্প।

৭. ডাম্ব অ্যান্ড ডাম্বার (১৯৯৪)
উজ্জ্বল মনের দুই বন্ধু দেশের সীমা পেরিয়ে বেরিয়ে পরে অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে। তাদের সহজ সরল আচরণে ছবির যাত্রাপথের বাঁকে বাঁকে যোগায় হাসির খোরাক। পিটার ফ্যারেলি পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন জিম ক্যারি, জেফ ড্যানিয়েলস, লরেন হলি, ম্যারি স্টার।

৮. দ্য ফার্স্ট ওয়াইভস্ ক্লাব (১৯৯৬)
কলেজের এক বন্ধুর মৃত্যুতে এক হয় তিন জন ডিভোর্সি নারী, কম বয়সী মেয়ের লোভে তাদের ছেড়ে গেছে স্বামী। একে অন্যকে সান্তনা দিতে গিয়েই সিদ্ধান্ত হয়- উচিৎ শিক্ষা দেয়া হবে স্বামীদের, ঘটতে থাকে একের পর এক ঘটনা। হিউ উইলসনের পরিচালনায় ছবিতে অভিনয় করেছেন গোল্ডি হওন, বেটি মিডলার, ড্যানি কেইটন, ম্যাগি স্মিথ।

৯. রোমি অ্যান্ড মিশেলস হাই স্কুল রিইউনিয়ন (১৯৯৭)
দীর্ঘ ১০ বছর পর স্কুলের পূণর্মিলনিতে দেখা হয় দুই বন্ধুর- একে অন্যের ঠিক উল্টো। কিন্তু অন্যসব ক্লাসমেটদের সঙ্গে একের পর এক মিথ্যা বলতে থাকে তারা। ডেভিড মিরকিন পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন মিরা সরভিনো, লিসা কুড্রো প্রমুখ।

১০. মাই গার্ল (১৯৯১)
একটি মেয়ে নিজের জীবন নিয়েই ব্যস্ত- কিন্তু অপছন্দের এক বন্ধুর সঙ্গে ভিন্নভাবে তার যোগাযোগ বদলে দেয় তার জীবনধারা। হাওয়ার্ড জেফ নির্মিত বন্ধুত্ব ও বিনিময়ের এ ছবিতে অভিনয় করেছেন অ্যানা চমস্কি, ম্যাকালে চকিন, ড্যান অ্যাক্রয়েড প্রমুখ।

১১. দ্য সিস্টারহুড অব দ্য ট্রাভেলিং প্যান্টস (২০০৫)
২০০৫ সালে মুক্তি পায় বন্ধুত্ব নির্ভর হলিউড ছবি ‘দ্য সিস্টারহুড অব দ্য ট্রাভেলিং প্যান্টস’। পেশাগত জীবন কিংবা সংসারের কারণে বন্ধুত্ব নষ্ট হতে পারে, এমন ধারণা থেকেই চারটি মেয়ে জিন্স প্যান্ট একে অন্যের সঙ্গে বদলে নেয়। কেন কপিস পরিচালিত এ ছবিটি দেখলে জানা যাবে বাস্তবতা কি তাদের এই নির্মল বন্ধুত্ব নিয়মিত করে কিনা। এতে অভিনয় করেছেন অ্যাম্বার টম্বলিন, অ্যালেক্সিস ব্লেডেল, আমেরিকা ফেরেরা ও ব্লেক লাইভলি।

১২. দ্য উইজার্ড অব ওজ (১৯৩৯)
ডরোথি গেল হঠাৎ করেই চলে যায় জাদুকরী এক দুনিয়ায়, একজন জাদুকরের খোঁজে থাকে যে সাহায্য করবে বাস্তব জগতে ফিরে আসতে। কিন্তু ‘ওজ’ শহরের সবাই তার অপেক্ষাতেই ছিল। ভিক্টর ফ্লেমিং পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন জুটি গারল্যান্ড, ফ্র্যাঙ্ক মর্গান, রে বোলগার প্রমুখ।

১৩. ফ্রি উইলি (১৯৯৩)
ছোট্ট একটি ছেলে জানতে পারে একটি তিমি কিছুদিনের মধ্যেই অ্যাকুরিয়ার কর্তৃপক্ষের হাতে খুন হবে- তিমিটিকে মুক্ত করে সাগরে ছেড়ে দিতে জীবনে ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করেনা সেই কিশোর। বন্ধুত্বের এমন নিদর্শন ফ্রেমে বন্দি করেছেন সাইমন উইনচার। অভিনয় করেছেন জ্যাসন জেমস রিচার, লরি পেটি, মাইকেল ম্যাডসেন প্রমুখ।

১৪. হ্যারি পটার (২০০১-২০১১)
২০০১ থেকে শুরু, আর ২০১১ তে এসে সমাপ্তি- মাঝের ১০টি বছরে নির্মিত ‘হ্যারি পটার’ সিনেমাগুলো হ্যারি, রন এবং হারমায়োনির অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্বের নিদর্শন হয়ে রয়ে গেছে। জে.কে রাওলিং এর উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের প্রত্যেকটি সিনেমাই যেন চরিত্রগুলোর বন্ধুত্বের সম্পর্কটাকে করে তুলেছে আগের চেয়ে আরও বেশি জোরালো। হ্যারি পটার, রন উইসলি এবং হারমায়োনি গ্রেঞ্জার- তিন হগওয়ার্টস পড়ুয়া বন্ধু সবসময় এক সঙ্গে লড়ে গেছে অশুভ শক্তির বিপক্ষে। ডার্ক লর্ড ভোল্ডেমর্টের হাত থেকে রেহাই পাওয়া বিস্ময় বালক হ্যারি তার বন্ধুদের স্বার্থে নিজেকে প্রতিবার দাঁড় করিয়েছে মৃত্যুর মুখে, তবে কম যায়নি বাকি দুইজনের কেউই।

১৫. থেলমা অ্যান্ড লুইস (১৯৯১)
রেস্টুরেন্টের একজন পরিবেশনকর্মী এবং একজন গৃহিনী- দুজনের একই উদ্দেশ্য, একজন ধর্ষককে খুন করা। সম্পূর্ন ভিন্ন পরিবেশ থেকে আসা দুই নারীর বন্ধুত্বটা হয়ে যায় অগোচরে, হয়ে ওঠেন একে অপরের অবলম্বন। রিডলি স্কট পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন সুজান স্যারান্ডন, জিনা ডেভিস, মাইকেল ম্যাডসেন প্রমুখ।

১৬. ব্রোকডাউন প্যালেস (১৯৯৯)
মাদক পাচারের অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পরে দুই নারী- অথচ তাদের দাবী, থাইল্যান্ডে ছুটি কাটাতে এসেছে তারা। দ্বিধায় পুলিশ- তারা কি আগে থেকেই পরিচিত? নাকি পিছনে আছে অন্য কোন কাহিনি? জোনাথন ক্যাপলানের পরিচালনায় এ ছবিতে অভিনয় করেছেন ক্ল্যারি ডেনস, কেট ব্যাকিনসেল, বিল পুলম্যান, জ্যাকলিন কিম প্রমুখ।

১৭. ফ্রাইড গ্রিন টমোটোস (১৯৯১)
নিজের জীবন ও সংসার নিয়ে বিরক্ত এক নারীর বন্ধুত্ব হয় নার্সিং হোমের প্রবীণ এক নারীর সঙ্গে। ধীরে ধীরে নার্সিং হোমের অনেকের কাছ থেকেই অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ নিয়ে পরিপূর্ণ করেন নিজের জীবন। জন অ্যাভান্টের পরিচালনায় ছবিতে অভিনয় করেছেন ক্যাথি বেটস্, জেসিকা টেন্ডি, ম্যারি স্টুয়ার্ট মাস্টারসন, ম্যারি লুইস পার্কার প্রমুখ।

১৮. দ্য সিক্রেট গার্ডেন (১৯৯৩)
ভারতের এব ভূমিকম্পে বাবা মাকে হারায় এক কিশোরী। চাচার কাছে ইংল্যান্ডে চলে যেতে বাধ্য হয়- তারপর তার মনোজগতে ঘটে পরিবর্তন। অ্যাগনেসকা হল্যান্ডের পরিচালনায় অভিনয় করেছেন কেট মাবেরলি, ম্যাগি স্মিথ, হেইডন প্রোয়েস প্রমুখ। ১৯৫০ সালে আয়ারল্যান্ডের পটভূমিতে দুই বন্ধু বেনি হোগান ও তার বন্ধু ইভ মেলোনকে নিয়ে পরিচালক প্যাট ও’কনর নির্মাণ করেছেন ছবিটি।