বরিস জনসনের হার, আগাম নির্বাচনের পথে ব্রিটেন

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রেক্সিট ইস্যু নিয়ে পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে হেরে গেছেন। জনসন ভোটে হেরে যাওয়ায় বিরোধী এমপিরা এখন চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট ঠেকাতে বিল আনতে পারবেন। তবে ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর জনসন বলেছেন, তিনি আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনবেন।

চুক্তিহীন ব্রেক্সিট আটকাতে আইন পাস করার প্রথম ধাপে জয় পেয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিরোধীরা। এই ভোটে হেরে দেশটিতে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিস।

ব্রেক্সিট নিয়ে বিতর্কের জেরে গতকাল মঙ্গলবার সরকারি দলের একজন এমপির দলত্যাগের ফলে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।

ফিলিপ লি নামের ওই এমপি বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ছেড়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ভোটাভুটিতে জনসন ভোটে হেরে যাওয়ায় পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটবিরোধী এমপিরা।

এর আগে সম্প্রতি কনজারভেটিভ পার্টির আরেক এমপি সারাহ ওলাস্টোন-ও নিজ দল ছেড়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেন। গতকাল মঙ্গলবার তার সঙ্গে যুক্ত হন ফিলিপ লি। এর ফলে ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে একটি সংখ্যালঘু সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

নিজের পদত্যাগপত্রে বরিস জনসনের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন ফিলিপ লি। ১৯৯২ সালে কনজারভেটিভ পার্টিতে যোগ দেওয়া এ রাজনীতিক বলেন, বরিস জনসনের নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টিতে পপুলিজম (লোকরঞ্জনবাদ) ও ইংলিশ জাতীয়তাবাদের সংক্রমণ ঘটছে।

ব্রেক্সিট ইস্যু নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বিরাজ করছে। এর মধ্যে ছুটি শেষে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বৈঠকে বসে ব্রিটেনের পার্লামেন্ট।

বৈঠকের আগেই এক সভায় বরিস জনসন জানিয়েছিলেন, ব্রেক্সিট নিয়ে নিজ দলের যারা বিরোধিতা করবেন তাদের বহিষ্কার করা হবে। তবে বিরোধী দলের পাশাপাশি নিজ দলের বিদ্রোহী এমপিদের কাছে হাউজ অব কমন্সে ৩২৮-৩০১ (২৭ ভোটে) ভোটে হেরে যান জনসন।

৩২৮ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন ব্রেক্সিট বিরোধী এমপিরা। বরিসের পক্ষে গেছে ৩০১টি। তার মানে ব্রেক্সিট পিছিয়ে দিতে তারা পার্লামেন্টে বিল উত্থাপন করতে পারবেন। বরিসের দল অর্থাৎ টোরি পার্টির ২১ জন এমপি তার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যুক্তরাজ্যকে ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। অথচ ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের হাতে কোনো পথরেখা নেই। ওদিকে বিরোধী দলের সঙ্গে মিলে বিদ্রোহী টোরি এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর চুক্তিহীন ব্রেক্সিট আটকাতে চেষ্টা করছেন।

এই ভোটে হারার পর বরিস জানিয়েছেন, কোনো বিলের অনুমতি না দিয়ে তিনি আগাম সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবেন।

ব্রিটেনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো সরকার একা নিতে পারে না। ইস্যুটি নিয়ে মতভেদ দেখা দিলে সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে ‘কি’ বা ‘ক্রাঞ্চ’ ভোট হয়। সেখানে তিনি হারলে পদত্যাগ বা সরে যেতে বাধ্য করা হয়। ব্রেক্সিট ইস্যুতে বরিস এমনই একটি ভোটে হারলেন।

বরিস হারতে যাচ্ছেন সেটি বোঝা যায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলের অধিবেশনে। তার শুভেচ্ছা বক্তব্যের সময় টোরি এমপি ফিলিপ লি লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের বেঞ্চে যোগ দেন। তখনই তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান।

বিরোধীরা বলছেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট না আটকালে তারা সাধারণ নির্বাচনে যাবেন না। ওই নির্বাচনের আগেই তারা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে আইন চান।

‘ব্রিটেন এক্সিট’কে সংক্ষেপে বলা হয় ব্রেক্সিট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া এটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশ একে অন্যের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারে, নাগরিকেরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে পারে এবং সেখানে বসবাস করতে পারে।

চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) কার্যকর হওয়ার কথা। কীভাবে, কোন চুক্তিতে সেই বিচ্ছেদ কার্যকর হবে-তা নিয়েই আলোচনা চলছে। তবে এ বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, নির্ধারিত তারিখেই ব্রেক্সিট কার্যকরের ব্যাপারে অনড় ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

প্রায় ৪০ বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পর ২০১৬ সালের জুনে একটি গণভোট আয়োজন করে যুক্তরাজ্য। অধিকাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দেন।

এই ভোটের পর সেখানকার রাজনীতি রীতিমতো এলোমেলো হয়ে গেছে। সরকারি-বিরোধী দলের অনেকেই ব্রেক্সিটের বিপক্ষে। পক্ষে থাকার কারণে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে থেরেসা মেকে। নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিসও থেরেসার মতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে অনড়।

x

Check Also

ঢাকার ক্যাসিনোতে প্রতি রাতেই ১২০ কোটি টাকার জুয়া

এমএনএ রিপোর্ট : বিদেশে নয় এবার খোদ রাজধানী ঢাকায় ৬০টি অবৈধ ক্যাসিনো রমরমাভাবে চলছে। ক্যাসিনো ...

Scroll Up