বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় রাজধানীতে জন্মাষ্টমী পালন

এমএনএ রিপোর্ট : বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশে সারাদেশে আজ বৃহস্পতিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। হিন্দুদের প্রাণপুরুষ মহাবতার পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উদযাপনকে ঘিরে দেশজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। এ দিন উপলক্ষে হাজারও মানুষের অংশগ্রহণে আজ বিকেলে ঢাকায় বর্ণাঢ্য এক শোভাযাত্রা বের করা হয়।

এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নেওয়া হয়েছিল নানা কর্মসূচি। অনুষ্ঠানমালায় ছিল গীতাযজ্ঞ, জন্মাষ্টমীর মিছিল ও আনন্দ শোভাযাত্রা, কৃষ্ণপূজা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, কীর্ত্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতা, গীতিনৃত্য, নাটক প্রভৃতি।

হিন্দু পুরাণমতে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টম তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়-নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল।

Janmastami Festival Rally In Dhaka 2দিনটি ছিল সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এছাড়াও দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে।

মহানগর সর্বজনীন পূজা উদ্‌যাপন কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের আয়োজনে বিকেলে রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে বের হয় জন্মাষ্টমীর মূল আকর্ষণ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা রাজধানীতে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে এই শোভাযাত্রার অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

পলাশীর মোড়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন এই ব্রত নিয়ে আসেন শ্রীকৃষ্ণ। যুগে যুগে এসব মহাপুরুষদের আবির্ভাব হয়, যারা সমাজে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দেশ। এদেশে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ আবহমান কাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির মধ্য দিয়ে বসবাস করছে। কিন্তু একটি গোষ্ঠী এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা নষ্টের নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সাঈদ খোকন বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই উৎসবে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’- এ কথা আবারো প্রমাণ হয়েছে।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডি. এন. চ্যাটার্জীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হাজী মো. সেলিম এমপি, পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ্যামল কুমার রায় প্রমুখ।

Janmastami Festival Rally In Dhakaউদ্বোধন শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা শুরু হয়। হিন্দুধর্মাবলম্বীর হাজার হাজার নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ বণিতা, শিশু-কিশোর রংবেরঙের পোশাকে সজ্জিত হয়ে এবং বেলুন, ব্যানার, ফেস্টুন ও শ্রীকৃষ্ণের প্রতিকৃতিসহ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। ব্যান্ড পার্টি ও মাইকের তালে তালে নেচে গেয়ে শোভাযাত্রাকে উৎসবমুখর করে তোলেন তারা। হাতি আর অশ্বারোহীর হাতে জাতীয় পতাকা শোভা পেয়েছে। শতাধিক ধর্মীয় সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও পূজা কমিটির ব্যানারে ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল ও ভ্যানসহ ছোট-বড় নানা যানবাহনে ও হেঁটে শোভাযাত্রায় অংশ নেন ভক্তরা। হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি, রথের বহর এবং দেড় শতাধিক ঢাকের সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য বাদ্য প্রদর্শনীও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই জীবন্ত শ্রীকৃষ্ণ, রাধা ও কংসসহ বিভিন্নসাজে সজ্জিত হয়ে এবং বর্ণাঢ্য ডিসপ্লের মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম, জীবন-কর্ম ও বাণীর বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলেন। যাত্রাপথে রাস্তার দুইপাশে হাজার হাজার মানুষ হাত নেড়ে স্বাগত জানিয়েছে শোভাযাত্রাকে।

শোভাযাত্রাটি পলাশী বাজার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট মাজার, গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজার, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর রোড ও রায় সাহেব বাজার হয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় বিপুল জনসমাগমের কারণে বিকেল থেকে সংলগ্ন সড়কগুলোতে ব্যাপক যানজটও দেখা গেছে। অন্যদিকে শোভাযাত্রার যাত্রাপথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এছাড়া রাজধানীর স্বামী ভোলানন্দ গিরি আশ্রম, প্রভু জগন্ধু মহাপ্রকাশ মঠ, রাধামাধব জিও দেব বিগ্রহ মন্দির, রাধা গোবিন্দ জিও ঠাকুর মন্দির, রামসীতা মন্দির এবং মাধব গৌড়ীয় মঠসহ বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে।

ট্যাগসমূহ : ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,  শুভ জন্মাষ্টমী, শোভাযাত্রা, রাজধানী, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, হিন্দু
x

Check Also

আজ শুক্রবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ২৭ মার্চ ২০২০, শুক্রবার। নতুন সূর্যালোকে আজ শুক্রবারের দিনটি আপনার ...

Scroll Up