বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের অজানা ২০টি তথ্য

62
বলিউড বাদশা শাহরুখ খান
এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : বলিউড বাদশাহ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা শাহরুখ খান সম্পর্কে জানতে তার ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। বলিউড বাদশাহর ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক তথ্য জানার জন্য গভীর আগ্রহ থাকে দর্শকদের।
ভক্তদের কৌতূহল মেটাতে শাহরুখ খান নিজেও বিভিন্ন সময় ভক্তদের কৌতূহল মেটাতে নানা তথ্য তুলে ধরেছেন। বৃহস্পতিবার ৫২ বছরে পা দিয়েছেন উপমহাদেশের তুমুল জনপ্রিয় এ অভিনেতা।
তার জন্মদিন উপলক্ষে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিসি। চলুন জেনে নেই শাহরুখ খান সম্পর্কে ২০টি তথ্য।
১. তাজ মুহম্মদ খান আর লতিফ ফাতিমার পরিবারে ১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর জন্ম হয় শাহরুখের। পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি নানির সঙ্গে ব্যাঙ্গালোরে থাকতেন। নানি তার দেখাশোনা করতেন। শাহরুখের নানা ব্যাঙ্গালোর বন্দরের মুখ্য প্রকৌশলী ছিলেন।
২. শাহরুখের বাবা পাকিস্তানের পেশোয়ারের মানুষ, মা ভারতের হায়দ্রাবাদের আর দাদি কাশ্মিরের।
৩. বাড়িতে শাহরুখের বাবা ‘হিন্দকো’ ভাষায় কথা বলতেন। এই ভাষা পাকিস্তানে ব্যবহৃত পাঞ্জাবি কথ্য ভাষা।
৪. পাকিস্তানের পেশোয়ারের সঙ্গে শাহরুখের যোগাযোগ নিয়মিত ছিল। ১৯৭৮-৭৯ সালে তিনি গিয়েছিলেন বাবার ফেলে আসা শহরে। সে প্রথমবার শাহরুখ বাবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ভারতে শুধু তার মায়ের দিকের আত্মীয়স্বজন ছিলেন, বাবার গোটা পরিবারই পেশোয়ারে থাকতেন।
৫. একটু বড় হওয়ার পরে শাহরুখের পরিবার দিল্লিতে চলে আসেন। সেন্ট কলাম্বাস স্কুলে পড়াশোনা করেছেন তিনি। খেলাধুলায় খুব আগ্রহী ছিলেন শাহরুখ।
৬. স্কুলে পড়ার সময়ে শাহরুখ হিন্দিতে খুব একটা দক্ষ ছিলেন না। তবে একবার হিন্দি পরীক্ষায় দশে দশ পেয়েছিলেন তিনি, পুরস্কার হিসেবে তার মা সিনেমা দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন।
৭. দিল্লির হংসরাজ কলেজ থেকে অর্থনীতিতে বিএ পাস করেন আর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়াতে মাস কমিউনিকেশন নিয়ে এমএ পড়তে ভর্তি হন। তবে সেটা আর শেষ করা হয়নি তার।
৮. শাহরুখ খানের স্ত্রী গৌরীর বাবা একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। স্কুলে পড়ার সময় গৌরীর সঙ্গে প্রথম চেনা পরিচিতি হয় শাহরুখের। একটা পার্টিতে দুজনের মধ্যে বেশ অনেকক্ষণ গল্প চলে। তখন থেকেই শুরু হয় শাহরুখ-গৌরীর প্রেম পর্ব।
৯. সেই তারিখটাও মনে আছে শাহরুখের – দিনটা ছিল ১৯৮৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখে। সেই দিনই শাহরুখ ড্রাইভিং লাইসেন্সও পেয়েছিলেন।
১০. গৌরী আর শাহরুখের বিয়ে হয় ১৯৯১ সালের ২৫ অক্টোবর।
১১. শাহরুখের যখন ১৫ বছর বয়স, তখনই তার বাবা মারা যান ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে। পেশায় উকিলও ছিলেন আবার স্বাধীনতা সংগ্রামেও অংশ নিয়েছিলেন শাহরুখের বাবা তাজ মুহম্মদ খান। অল্প বয়সে একবার জেলও খেটেছেন, পরে মৌলানা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ভোটেও দাঁড়িয়েছিলেন তাজ মুহম্মদ খান।
১২. শাহরুখ খানের প্রথম রোজগার ছিল ৫০ টাকা। গায়ক পঙ্কজ উদাসের একটা কন্সার্টে কাজ করে সেই টাকা পেয়েছিলেন। প্রথম রোজগারের টাকা দিয়ে ট্রেনের টিকিট কেটে শাহরুখ আগ্রা গিয়েছিলেন।
১৩. তবে শাহরুখের প্রথম টেলি-সিরিয়াল শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। কর্নেল কাপুরের পরিচালনায় ‘ফৌজি’ নামের সেই ধারাবাহিক খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। সেখানেই প্রথমবার ভারতের দর্শক দেখলেন পরের কয়েক বছরে স্টার থেকে সুপার স্টার হয়ে ওঠা শাহরুখ খানকে।
১৪. ছোট থেকেই শাহরুখ খানের ইচ্ছা ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার। কলকাতার ‘আর্মি স্কুল’-এ ভর্তিও হয়েছিলেন শাহরুখ, কিন্তু ছেলেকে ছাড়তে রাজি হননি তার মা।
১৫. ১৯৮৯-৯০ সালে রেণুকা সাহানের সঙ্গে ‘সার্কাস’ সিরিয়ালে কাজ করতে শুরু করেন শাহরুখ। সেই সময়ে তার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মাকে ধারাবাহিকটার একটা পর্ব দেখানোর জন্য বিশেষ অনুমিত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার মা তখন এতটাই অসুস্থ, যে ছেলেকে চিনতেও পারেননি। ১৯৯১ সালের এপ্রিল মাসে মৃত্যু হয় শাহরুখ খানের মায়ের।
১৬. মায়ের মৃত্যুর শোক থেকে দূরে সরে যেতে এক বছরের জন্য শাহরুখ দিল্লি থেকে মুম্বাই গিয়েছিলেন। কিন্তু তার ফেরা আর হয়নি।
১৭. সে বছরই প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন শাহরুখ খান। সেটি ছিল হেমা মালিনী অভিনীত ‘দিল আসনা হ্যায়’। নায়ক হিসেবে শাহরুখকে প্রথম দেখা গেল পরের বছর ২৫ জুন ১৯৯২-তে ‘দিওয়ানা’য়।
১৮. কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন শাহরুখ। মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান তিনি। তার প্রিয় উক্তি হলো, ‘ঘুমানো মানে জীবন নষ্ট করা’।
১৯. স্ত্রী-সন্তান ছাড়া শাহরুখের সঙ্গে তার বাড়িতে থাকেন বড় বোন লালারুখ।
২০. শাহরুখ খানের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রায় তিন কোটি ফলোয়ার রয়েছে।