বাংলাদেশের চার কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত থাকে

78

khudha-5

এমএনএ রিপোর্ট : বাংলাদেশের চার কোটি মানুষ এখনো ক্ষুধার্ত থাকে। অর্থাৎ, মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের খাদ্য নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২ (এসডিজি-২) অর্জনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা বেশ উদ্বেগজনক। সরকার ও জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচির এক যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

khudha-3আজ বুধবার ‘বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি-বিষয়ক কৌশলগত পর্যালোচনা’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ পর্যাপ্ত পুষ্টিকর ও বিভিন্ন ধরনের খাবার খায় না। প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন শিশুর সঠিক শারীরিক বিকাশ বা বৃদ্ধি হয় না এখানে। এ ছাড়া গেল কয়েক বছরে তীব্র অপুষ্টির হার খুব উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি।

প্রতিবেদনের অন্যতম গবেষক khudha-1আয়ারল্যান্ডের আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অর্থনীতির অধ্যাপক বলেন, ‘অপুষ্টির কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশের জনগণের উৎপাদনশীলতা কমছে, যার আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বেশি।’

খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ও শিশু অপুষ্টি হ্রাসে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করা হলেও এই সাফল্যই যথেষ্ট নয় বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান khudha-6অর্থসামাজিক পরিস্থিতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সঠিক পুষ্টির অভাবে স্থূলতা এবং শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তার অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এ জন্য কৃষি খাতে আরও বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে এমনভাবে জোরদার করতে হবে, যাতে একজনও এ থেকে বাদ না যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণে khudha-8নারীর ক্ষমতায়ন মূল চাবিকাঠি হতে পারে।

এই প্রতিবেদনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘যেসব বিষয় উঠে এসেছে, তা বাংলাদেশের এসডিজি-২ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা ২০২৪ সাল নাগাদ পুরোপুরি ক্ষুধা নিবৃত্ত এবং ২০২৩ সাল নাগাদ পুষ্টি নিশ্চিত করতে চাই।’

ট্যাগ : বাংলাদেশের, চার কোটি, মানুষ, ক্ষুধার্ত, থাকে