বাংলার যথাযথ ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

59
এমএনএ রিপোর্ট : দেশের অধিকতর উন্নয়ন ও বিশ্বে জাতির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে বাংলা ভাষার যথাযথ চর্চা, ব্যবহার এবং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৮ উপলক্ষে আজ বুধবার বিকেলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের চার দিনের কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশের চেতনায় দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলাই এই সরকারের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছি। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছি। এটি আমাদের জন্য বিরাট গৌরবের বিষয়। তাই এ ভাষার চর্চা ভুলে যাওয়া উচিত হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাঙালি হিসেবে আমরা আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অন্যান্য গৌরব সমুন্নত রাখব এবং এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করব।’
একুশের পথ ধরে স্বাধীনতা এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা জাতিকে ধ্বংস করার জন্য তার ভাষার ওপর, সংস্কৃতির ওপর আঘাত করা হয়। সেই ষড়যন্ত্রটা পাকিস্তানি শাসকেরা আমাদের ওপর করেছিল। এরই পথ ধরে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে বাঙালি জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মর্যাদা পেয়েছি। রাষ্ট্র পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন না করলে পাকিস্তান শাসনতন্ত্রে বাংলা ভাষা মর্যাদা পেতো না। তখন ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ঘোষণা করে। শহীদ মিনার গঠন করে। এজন্য বাজেটও করা হয়। তবে আইযুব খান সামরিক শাসন দেওয়ার পর সেটা তখন এগোয়নি।’
রক্তের অক্ষরে ভাষার মর্যাদাকে রক্ষার প্রসঙ্গে টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছি। এটা আমাদের জন্য বিরাট গর্বের। কাজেই এই ভাষার ব্যবহার ও চর্চা ভুলে গেলে চলবে না। বাঙালি হিসেবে সব ঐতিহ্য আমাদের ধারণ করতে হবে। চর্চা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ দিয়েছিলেন। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমি প্রতিবছর জাতিসংঘে বাংলাভাষায় ভাষণ দিয়ে থাকি।’
শ্রীলঙ্কায় এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সেখানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের কিছু কিছু চিত্র দেখেছি। এজন্য সত্যিই আমরা আনন্দিত। জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত সব দেশে যেন এই দিবসটি পালিত হয়, আমরা এর জন্য তথ্য সব জায়গায় পাঠিয়েছি। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকেও প্রতিবছর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাহলে সবাই বিষয়টি জানতে পারবে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের নিজস্ব মিলনায়তনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এবং ঢাকায় ইউনেসকোর প্রধান প্রতিনিধি বি কালদুনও বক্তব্য দেন।
এতে ‘লিঙ্গুইস্টিক ডাইভার্সিটি অ্যান্ড মাল্টিলিঙ্গুয়ালিজম কাউন্ট ফর সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল কো-এক্সিজটেন্স ডায়ালগ অ্যান্ড অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজের সচিব ডব্লিউএমপিজি বিক্রমসিংগে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভাগের সচিব সোহরাব হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। ধন্যবাদ জানান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জিনাত ইমতিয়াজ আলী।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, লেখক, কবি, সাংবাদিক, একুশে পদকপ্রাপ্ত এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।