বাড়ি বাড়ি না গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ!

এমএনএ রিপোর্ট : ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি না গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটাররা জানিয়েছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনেক স্থানে ভোটার হালনাগাদ করা হচ্ছে না।

বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীর অধিকাংশ বাসা বাড়িতে যাননি তথ্য সংগ্রহকারীরা। অভিযোগ রয়েছে, তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়িতে না গিয়ে এক স্থানে বসেই ফরম পূরণ করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন। এছাড়া প্রচার-প্রচারণার জন্য বরাদ্দ থাকলেও তা সঠিকভাবে ব্যয় করা হয়নি।

তথ্য সংগ্রহকারীদের বাড়ি বাড়ি না যাওয়ার বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, কেউ যদি ওই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটার হওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। তথ্য সংগ্রহের সময় কেউ বাদ পড়ে থাকলে রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রে গিয়েও ভোটার হতে পারবেন।

গত ২৩ এপ্রিল থেকে সারাদেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়। গত ৩ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত রাজধানীর ভোটার তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলে। চলতি বছর হালনাগাদে প্রায় ৮০ লাখ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সংস্থটি।

আইনানুযায়ী তথ্য সংগ্রহকারীগণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন ও বাদপড়া ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ সময় তথ্য সংগ্রহকারীকে মৃত ভোটারদের তথ্য দিতে হবে। তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত রাজধানীতে কতজন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান জানাতে পারেনি ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইনে থাকলেও বেশকিছু তথ্য সংগ্রহকারীরা ভোটারদের বাড়িতেই যাননি। বাড়ি বাড়ি না গিয়েই পাড়া-মহল্লার প্রভাবশালী ও পরিচিতদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেছেন কেউ কেউ। আবার তথ্য সংগ্রহকারীরা তাদের পছন্দমতো কোনো স্কুল, কলেজ, স্থানীয় কোনো ক্লাব কিংবা মসজিদ প্রাঙ্গণে বসে নিজেদের বেঁধে দেয়া সময়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ফলে ভোটারযোগ্য অনেকে না জানার কারণে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি।

রাজধানীসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহকারীদের দেখা পাননি ভোটার হতে ইচ্ছুক অনেক মানুষ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের বিধান থাকলেও অনেক তথ্য সংগ্রহকারী এ বিধানের ধার ধারেননি। তারা ফ্ল্যাটে গিয়ে দারোয়ানকে বলে আসেন ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে ভোটার হতে। তাছাড়া, অনেকে যার যার দলীয় লোকদের খবর দিচ্ছে অন্যদের খবর দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পর্কে চালানো হয়নি পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা। এখনো রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় ভোটার যোগ্য নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। অনেকের অজান্তেই রাজধানীতে শেষ হয়েছে নতুন ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম। এতে রাজধানীতে টার্গেটের চেয়ে অর্ধেক ভোটার কম হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এনআইডির পরিচালক (অপারেশন) মো. আবদুল বাতেন বলেন, কোনো কারণে তথ্য সংগ্রহের সময় কেউ যদি বাদ পড়েন তবে তিনি নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়েও তার তথ্য দিয়ে নিবন্ধিত হতে পারবেন। ভোটারযোগ্য প্রত্যেককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। হালনাগাদের প্রাপ্ত ভোটার তথ্য নিবন্ধন শেষে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

x

Check Also

তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ যুদ্ধবিমান বিক্রি

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : চীনের সঙ্গে চলমান ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন সংকটের মধ্যেই তাইওয়ানের কাছে ৬৬টি ...

Scroll Up