বিমানের চেয়েও দ্রুতগতিতে ছুটবে হাইপারলুপ ট্রেন

এমএনএ সাইটেক ডেস্ক : প্রযুক্তির নিত্য নতুন সংযোজন মানুষকে অবিশ্বাস্য সব সুবিধা এনে দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিমানের চেয়েও দ্রুতগতির ট্রেন আবিস্কারে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞানীরা। নতুন এ ট্রেনের নাম হবে হাইপারলুপ ট্রেন।

দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে মানুষ একের পর এক যান তৈরি করে চলেছে। এবার হাইপারলুপ রেল নেটওয়ার্ক নিমিষের মধ্যে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে ও প্রায় নীরবে পরিবহনের ক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে পারে। হাইপারলুপ ট্রেন চুম্বকের ওপর ছুটবে।

তখন কয়েক মিনিটের মধ্যে ইউরোপের সব শহরে পৌঁছে যাওয়া যাবে। নেদারল্যান্ডসের ডেফট প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাইপারলুপ বিভাগ এমন স্বপ্নই দেখছে। ইউরোপীয় হাইপারলুপ নেটওয়ার্কের রূপরেখা তুলে ধরে তারা জানিয়েছেন, এতে ইউরোপে আর কোনো সীমানা টের পাওয়া যাবে না।

কোনো এক স্টেশনে গিয়ে হাইপারলুপে চড়ে বসলেই সামান্য সময়ের মধ্যে ইউরোপের যে কোনো প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে ট্রেনে কয়েক ঘণ্টা, অথবা বিমানে চড়ে যাতায়াত করতে হয়। বিমান দ্রুত হলেও তাতে প্রবেশ করতেই অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু এটা কি নিছক অলীক স্বপ্ন? নাকি কোনো একসময় ঘণ্টায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার গতিতে মানুষ সত্যি যাতায়াত করতে পারবে?

ডেভেলপার টিমের প্রধান হিসেবে টিম ফ্লেসহুয়ার হাইপারলুপকে পরিবহনের পঞ্চম যান হিসেবে বর্ণনা করছেন। তার মতে, এ হল পরিবহনের ভবিষ্যৎ। এটি অনেকটা ট্রেনের মতো, যা পাইপের মধ্যে ভরা থাকে। নল থেকে বাতাস বের করে নিয়ে প্রায় ভ্যাকুয়াম সৃষ্টি করা হয়। ফলে বাতাসের ধাক্কা প্রায় আর থাকে না।

তাই অত্যন্ত কম জ্বালানি ব্যবহার করেও বিশাল গতিতে চলা সম্ভব হয়। তাছাড়া ট্রেন চুম্বকের ওপর ভাসতে থাকে। ফলে ঘর্ষণও হয় না। ছোট আকারের এ চুম্বকগুলোকে হলবাখ-অ্যারেস বলা হয়, যা অত্যন্ত শক্তিশালী চুম্বক। এর সুবিধা হল চৌম্বক শক্তি নিচের দিকে পরিচালিত হয়।

তাই যাত্রীরা ওপরে বসে কিছুই টের পাবেন না। হলবাখ-অ্যারে আসলে বিশেষভাবে সাজানো চুম্বকের সমষ্টি, যার ফলে সম্মিলিত চৌম্বক শক্তি আরও বেড়ে যায়। রেললাইন ও ট্রেনের চুম্বক পরস্পরকে ঠেলা মারে। ফলে ট্রেনটি ভাসমান অবস্থায় থাকে। এক ইলেকট্রিক ইঞ্জিন ট্রেনটিকে রেলের ওপর সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় হাইপারলুপ নেটওয়ার্কের কাজ শেষ করা ডেফট বিশ্ববিদ্যালয়ের টিমের লক্ষ্য। এ এক বিশাল কর্মযজ্ঞ।

সেখানে একদল তরুণ-তরুণী চলতি বছরেই ক্যাপসুলের মিনিয়েচার বা ক্ষুদ্র সংস্করণ গড়ে তোলার কাজ করছেন। এ প্রকল্পের জন্য সবাই এক বছর ছুটি নিয়েছেন। সব মিলিয়ে ৩৯ জন ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরোপুরি এই কাজে জড়িত।

তাদের অনেকেই ব্যাচেলর ডিগ্রির পর হাতেনাতে কাজ করতে এক বছরের বিরতি নিয়েছেন। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তারা এখানে থাকেন। চলতি বছর স্পেস-এক্স হাইপারলুপ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। সেই লক্ষ্যে কঠিন পরিশ্রম করছেন সবাই। সবার মনে রয়েছে বিপুল উৎসাহ।

ডেফট টিমের সামনে এখনও বিশাল কাজ পড়ে রয়েছে। ইউরোপ আদৌ এক হাইপারলুপ নেটওয়ার্ক পাবে কিনা তা কেউ জানে না। সেটা সম্ভব হলে ইউরোপের মানুষ আরও দ্রুত, আরও শান্ত পরিবেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।

x

Check Also

টাকার অবমূল্যায়ন শুরু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

এমএনএ রিপোর্ট : দীর্ঘদিন বিনিময়মূল্য ধরে রাখার পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন শুরু করেছে ...

Scroll Up