বিলিয়নেয়ার থেকে ‘দৈন্যদশায়’ অনিল আম্বানি

এমএনএ ডেস্ক রিপোর্ট : একদশক আগেও বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের কাতারে ছিলেন ভারতের ধনকুবের অনিল আম্বানি। সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩,৫৫,০৪০ কোটি টাকা। যারা এখনো আকারটা অনুমান করতে পারছেন না; তাদের জানিয়ে রাখি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ছিল ৩,৪০,৬০৫ কোটি টাকা। মাত্র ১০ বছরে এই সম্পদের পরিমাণ এসে দাঁড়িয়ে মাত্র দেড়শ কোটি ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় ১২ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। বিলিয়নেয়ার থেকে ‘দৈন্যদশায়’ অনিল আম্বানির এখন পথে বসার দশা।

এখনো অনিল আম্বানির কোম্পানিগুলো ডুবে আছে বিশাল অংকের ঋণে। তার বর্তমান সম্পদের মধ্য থেকেই পরিশোধ করতে হবে ঋণের টাকা। সবকিছু মিটিয়ে একরকম দৈন্যদশাতেই পড়তে যাচ্ছেন অনিল আম্বানি। বলা হচ্ছে, তার কাছে ব্যক্তিগত যে সম্পদ এখন রয়েছে তা তার ব্যবহৃত একটি প্রিয় উড়োজাহাজের (বম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল এক্সপ্রেস) দামের দ্বিগুণ মাত্র।

এরই মধ্যে অনিল আম্বানির কোম্পানি রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেডের (আরকম) কাছে ২১০ কোটি ডলার দাবি করেছে চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না ও এক্সিম ব্যাংক অব চায়নাসহ চীনের বেশকিছু ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের শুরুতে দেউলিয়াত্বের মুখে পড়ে কোম্পানিটি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ঋণজর্জরিত ভারতীয় টেলিকম কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় ঋণদাতা। স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির একটি ফাইলিং থেকে জানা গেছে, ব্যাংকটির কাছে আরকমের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪০ কোটি ডলার (৯ হাজার ৮৬০ কোটি রুপি)। এর বাইরে এক্সিম ব্যাংক অব চায়না প্রায় ৪৮ কোটি ২১ লাখ ডলার (৩ হাজার ৩৬০ কোটি রুপি) এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক অব চায়না প্রায় ২২ কোটি ৩০ লাখ ডলার (১ হাজার ৫৫৪ কোটি রুপি) দাবি করেছে আরকমের কাছে।

ভারতের দেউলিয়া আদালতে ঋণদাতা ও সাবেক ধনকুবের অনিল আম্বানির কোম্পানিটির শুনানি চলছে। দেউলিয়া কোম্পানিটির সম্পদের ক্রেতা অনুসন্ধান ও ঋণ পরিশোধের প্রচেষ্টায় রয়েছেন আদালত। এদিকে অনিল আম্বানির বড় ভাই ও এশিয়ার শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিও ইনফোকম লিমিটেড এর আগে প্রায় ২৪৮ কোটি ডলারে (১৭ হাজার ৩০০ কোটি রুপি) আরকমের সম্পদ কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল। এর ফলে কোম্পানিটির আংশিক ঋণ পরিশোধ সম্ভব হতো। কিন্তু নিয়ন্ত্রক জটিলতার কারণে চুক্তিটি ব্যর্থ হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, এক সময় তার বড় ভাই আরেক ধনকুবের মুকেশ আম্বানির সঙ্গে টক্কর দিয়ে ব্যবসা করতেন অনিল। ২০০৮ সালে স্ত্রী টিনা আম্বানিকে ৪০০ কোটি রুপি মূল্যের একটি বিলাসবহুল ইয়ট কিনে দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। কিন্তু ওই বছরই শেয়ার বাজারে ৩ হাজার কোটি ডলার হারান তিনি। এক ধাক্কায় মোট সম্পত্তির পরিমাণ এসে দাঁড়ায় ১২০০ কোটি ডলারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকে প্রাধান্য দিতে ২০১০ সালে ইন্দোনেশিয়ায় একটি কয়লা খনি কেনেন তিনি। তাতে সামান্য উন্নতি হয় তার ব্যবসার। ১২০০ কোটি ডলার থেকে তার সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৭০ কোটি ডলারে। কিন্তু টু-জি স্ক্যামে ১২২টি টেলিকম লাইসেন্স বাতিলের ঘটনায় রিলায়েন্সেরও উপরও প্রভাব পড়ে। সিবিআইয়ের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অনিল আম্বানিকে। ২০১১ সালে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৮০ কোটি ডলারে।

২০১৩ সালে ৫২০ কোটি ডলার থেকে ২০১৬-তে অনিল আম্বানির মোট সম্পত্তির পরিমাণ কমে ২৫০ কোটি ডলারে এসে পৌঁছায়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে ২০১৮ সালে মুম্বাইয়ে রিলায়েন্স ইনফ্র্যাস্ট্রাকচারের বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবসা গুজরাটের আদানি গ্রুপকে বেচে দেন তিনি। বিক্রি করে দেন তিলাইয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পও। যার পর ঋণদাতাদের চাপে দেউলিয়া ঘোষিত হয় রিলায়েন্স নাভাল।

তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা আসে এ বছর। দেউলিয়া হয়ে যায় তার রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস। সেই সঙ্গে সুইস কোম্পানি এরিকসনের স্থানীয় ইউনিটের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাবদ প্রাপ্য ৮ কোটি ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেয় আদালত। পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনিল আম্বানির তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হবে বলে আদালত জানিয়েছিলেন। পরে তার হয়ে সেই অর্থ পরিশোধ করেন তার বড় ভাই মুকেশ আম্বানি। হাজতবাস থেকে রক্ষা পান অনিল।

সোমবার ঋণদাতাদের তালিকা প্রকাশ করেছে আরকম। এ তালিকার শীর্ষ ঋণদাতাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিবেদন অনুসারে, কোম্পানিটির প্রায় ৮২৪ কোটি ডলার (৫৭ হাজার ৩৮২ কোটি রুপি) ঋণ দেউলিয়া আদালতের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরকমের ঋণদাতাদের তালিকায় রাশিয়ার বিনিয়োগ ব্যাংক ভিটিবি ক্যাপিটাল রয়েছে, কোম্পানিটির কাছে ব্যাংকটির পাওনার পরিমাণ ৭ কোটি ৩৩ লাখ ডলার (৫১১ কোটি রুপি)। এর বাইরে যেসব বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে আরকমের ঋণ আছে, তার মধ্যে লন্ডনের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, হংকংয়ের ডয়েচে ব্যাংক, ডিবিএস ব্যাংক ও এমিরেটস এনবিডি ব্যাংক রয়েছে।

x

Check Also

সগিরা মোর্শেদ হত্যার ছক করেন ভাশুড় ডা. হাসান

এমএনএ রিপোর্ট : সিদ্ধেশ্বরীতে সগিরা মোর্শেদ হত্যার ছক হয়েছিল ডা. হাসান চৌধুরীর চেম্বারে। ৩০ বছর ...

Scroll Up