বিশ্বকাপের ফরম্যাটে পরিবর্তন চান বিরাট কোহলি

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : ম্যানচেস্টারে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে গতকাল বুধবার নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে চোখ ভেজেছে ভারতের কোটি সমর্থকের। এমন স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর বিশ্বকাপের ফরম্যাটে পরিবর্তন চেয়েছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

সেমি থেকে ছিটকে পড়ায় হতাশ ভারতের প্রায় ১০০ কোটি ক্রিকেট ভক্ত। মন ভাঙায় বুক চাপড়াচ্ছেন তারা। সমব্যথিত ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পর বিশ্বকাপের ফরম্যাট নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ফরম্যাটে পরিবর্তন আনা উচিত।

বলাবলি হচ্ছে, ২০০৭ সালে বাংলাদেশের কাছে ত্রিনিদাদে হেরে বিদায় নেয়ার পর বিশ্বমঞ্চে এটি ভারতের সবচেয়ে বাজে হার। ক্রিকেটে অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী দলটি ওই আসরে মাত্র তিন ম্যাচ খেলেই বাদ পড়ে।

গতকাল বুধবার ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোহলি বলেন, ২০২৩ বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে প্রাথমিক পর্ব শেষ করেছিল ভারত। মাঠের পারফরম্যান্সে তাদেরকে মনে হয়েছে অপ্রতিরোধ্য। প্রথম সেমি-ফাইনালে তারাই ছিল ফেভারিট। সম্ভাবনায় এগিয়ে ছিল রিজার্ভ ডে শুরুর সময়ও। কিন্তু টুর্নামেন্টের ৪১ দিন পরও যাদেরকে মনে হয়েছে দাপুটে, সেই দল হেরে গেছে ৪০-৪৫ মিনিটের বাজে ক্রিকেটে। ম্যাচ শেষে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির সবচেয়ে বড় আক্ষেপ সেখানেই।

ওই ৪৫ মিনিটে রীতিমত ঝড় বয়ে গেছে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের ওপর দিয়ে। ২৩৯ রানের পুঁজিতে বোলিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ড উড়িয়ে দেয় ভারতের টপ অর্ডার। নতুন বলে ম্যাট হেনরি ও ট্রেন্ট বোল্টের অসাধারণ বোলিংয়ের জবাব পায়নি ভারত।

টপ অর্ডারের যে তিনজনের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে ভারতীয় ব্যাটিং, তিনজনই বিদায় নেন চার ওভারের মধ্যে। রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল ও কোহলি, সবাই ফিরেছেন ১ রান করে। ৫ রানে ভারত হারায় ৩ উইকেট।

পাঁচে নামা দিনেশ কার্তিক ২০ বলে রানশূন্য থাকার পর পেয়েছিলেন প্রথম রানের দেখা। তার ভোগান্তি শেষ হয় ৬ রানে। ১০ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ২৪ রান তুলে ভারত তখন ধুঁকছে।

পরে রবীন্দ্র জাদেজা ও মহেন্দ্র সিং ধোনির লড়াইয়ে জয়ের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিল ভারত। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়নি। কোহলি দায় দিলেন সেই বাজে শুরুকেই।

গ্রুপ পর্বে সেরা হয়ে একটা দল একটা বাজে দিনের জন্য বিদায় নেবে কেন? ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের এমন কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে কোহলি বলেন, ‘যদি পয়েন্ট তালিকার এক নম্বরে থাকার কোনো গুরুত্ব থাকে, তাহলে এখানে একটা যুক্তিসঙ্গত জায়গা আছে আমার কথার, তবে আমি জানি না কি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।’

কোহলি বলেন, আপনি পয়েন্ট তালিকার এক নম্বরে আছেন। এর পর অল্প সময়ের জন্য বাজে খেললেন। এতে আপনি বাদ, এটি আপনাকে মেনে নিতে হচ্ছে। আগে কে কী করেছে, সেটি ব্যাপার নয়। এটি একটি আনকোরা, নতুন দিন। আপনি যদি যথেষ্ট ভালো না হন, আপনাকে বাড়ি যেতে হবে- এটিই বাস্তবতা।

কোহলি যোগ করেন, ছেলেরা দুঃখ পেয়েছে। কিন্তু সেটি খুব বেশি নয়। কারণ যে মানের ক্রিকেট খেলেছে, তাতে সন্তুষ্ট তারা। তার ভাষ্যমতে, পুরো টুর্নামেন্টে ৪৫ মিনিট বাজে ক্রিকেট খেলেছে ওরা। সেটিরই মূল্য দিতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, আইপিএলে পয়েন্ট তালিকার এক নম্বর আর দুই নম্বর দল প্রথমে কোয়ালিফায়ার খেলে, যেখানে হেরে গেলেও দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সুযোগ থাকে ফাইনালে ওঠার।

আইপিএল, বিপিএল বা অন্য কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে শেষ চার থেকে ফাইনালে ওঠার ফরম্যাট একটু ভিন্ন। সেমি-ফাইনাল বলে কিছু সেখানে নেই, প্রাথমিক পর্বের শীর্ষে থাকা দুই দল সেখানে অন্তত দুটি সুযোগ পায় ফাইনালে ওঠার। তিন ও চারে শেষ করা দলকে ফাইনালে উঠতে হয় দুই ধাপ পেরিয়ে। বিশ্বকাপেও তেমন হওয়া উচিত কিনা, সেই প্রশ্ন উঠল। কোহলি জানালেন, তিনি তাকিয়ে থাকবেন এমন কোনো পরিবর্তনের জন্য।

x

Check Also

১১৭ দেশের মধ্যে ক্ষুধার সূচকে বাংলাদেশ ৮৮তম

এমএনএ রিপোর্ট : বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১১৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান গত বছরের চেয়ে দুই ...

Scroll Up