বিশ্বজুড়ে চায়ের ঐতিহ্য এবং ব্যবহার

মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) : ক্লান্তি দূর ও বিনোদন ছাড়াও চা আনুষ্ঠানিকতা ও ঐতিহ্যের একটি বিশেষ অংশ। অতিথি আপ্যায়নে চা ছাড়া চলে নাকি! সর্বোপরি বিশ্বজুড়ে চায়ের ভূমিকা আজ অপরিসীম পর্যায়ে।

মসলা চা, দুধ চা, ব্ল্যাক টি বা হারবাল টি। হোক তা বাহারি চিনেমাটির কাপ, মগ বা মাটির ভাড়ে। এক চুমুক চায়ে সবসময়ই মেলে প্রশান্তি।

যুগ যুগ ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আতিথেয়তা পালনে চা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। একটু দেখে নেওয়া যাক বিভিন্ন দেশের চায়ের ঐতিহ্য কেমন।

চাডো বা সেডো জাপানিদের চা অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে মাটচা নামে এক প্রকার গুঁড়া গ্রিন টি তৈরি, পরিবেশন ও পান করা হয়। তাদের এ চা অনুষ্ঠানের গোড়াপত্তন চীনে। কিন্তু গত কয়েকশো বছরে জাপানে এই চা পর্ব বেশ ভালোভাবেই বিকশিত হয়েছে।

ভারতে প্রতিদিনের একটি অপরিহার্য উপাদান চা। গল্প, আড্ডা ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার টেবিলে চাই গরমা-গরম চা। ভারতে মসলা চায়ের চাহিদা বেশি। ব্ল্যাক টি-তে দারুচিনি, আদা, রসুন, লবঙ্গ প্রভৃতি দিয়ে তৈরি করা হয় মসলা চা।

তাইওয়ান ওলং চায়ের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদনকারী দেশ। ফলে চা পানের রীতিতে তারা প্রসিদ্ধ। ওলং চা ছাড়াও তাইওয়ানের অধিবাসীরা বাবল বা পার্ল মিল্ক টি খেতে ভালোবাসেন। পার্ল মিল্ক টি তৈরির রীতি আবিষ্কার হয় ১৯৮০ সালে। মূলত ঠাণ্ডা চায়ে ফল বা দুধ ও এক চামচ টাপিওকা বল (সাগুসদৃশ শস্য) দিয়ে তৈরি হয় এই চা।

চীনে চা উৎসবের নাম চেই। দেশটিতে এ উৎসব সম্মান ও কৃতজ্ঞতাবোধের প্রতীক। এছাড়া এটি পারিবারিক মিলনায়তনের অন্যতম উদ্দীপনা। চীনের জনপ্রিয় একটি উক্তি হলো, ‘জীবনের সাতটি চাহিদার মধ্যে চা একটি’। চীনে তিন প্রকার চা জনপ্রিয়- গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি ও সুগন্ধি চা।

মেঘরেবি মিন্ট টি মরোক্কান টি নামেও পরিচিত। আনুষ্ঠানিক এই চা অতিথিকে দেওয়ার পর যদি তিনি তা পান না করেন তাহলে অভদ্রতা বলে বিবেচিত হয়। ফ্রান্স ও স্পেনে মেঘরেবি মিন্ট টি মূলত গ্রীষ্মে ঠাণ্ডা আইস টি হিসেবে পরিবেশন করা হয়।

বিকেলবেলা ক্লাসিক চা অনুষ্ঠান ইংল্যান্ডের অতি প্রাচীন ঐতিহ্য। সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে দেশটির কোনো স্থানে এটি শুরু হয়। দুপুরের আহার পরবর্তী ক্ষুধা নিবারণ ছিল এ চা অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, সেখানে চায়ের পাশাপাশি টারও আনাগোনা থাকে বৈকি। টেবিলে সাধারণত মাংস, কেক ও পাই থাকে চায়ের সঙ্গে।

রাশিয়ানরা ভদকা ছাড়াও চা পিপাসু। সাধারণত ভারতীয় ও চায়নিজ চা পান করেন তারা। তবে রাশিয়ায় স্টোভে পানি সেদ্ধর পরিবর্তে লোহার তৈরি চায়ের পাত্রে চা তৈরি কর‍া হয়। এ পাত্রের নাম সামোভার।

কোরিয়ায় চা হলো ক্লান্তি দূর ও শিথিলায়নের জনপ্রিয় মাধ্যম। তারা চা-কে আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ভাবতেই বেশি পছন্দ করেন।

চা তুর্কি সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে, চা ছাড়া আলাপচারিতা যেন চাঁদহীন রাতের আকাশের মতো। তুর্কিরা ছোট গ্লাসে চা পান করেন ও এই চায়ে দুধ মেশানো হয় না। তারা চায়ের পাত্রে চিনি না মিশিয়ে চিনির খণ্ড জিহ্বা ও গালের মধ্যবর্তী স্থানে রেখে ঠোঁট ভেজান চায়ে।

x

Check Also

নিজামুদ্দিনে যোগ দেয়া ৬৪৭ জন করোনায় আক্রান্ত

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাতের সমাবেশে যোগদানকারীদের ৬৫০ জন করোনা ভাইরাসে ...

Scroll Up