বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেটের সফল উৎক্ষেপণ

22
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ‘ফ্যালকন হেভি’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করল ব্যক্তিমালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স। নিঃসন্দেহে বিলিয়নেয়ার উদ্যোগপতি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এলন মাস্কের ব্যক্তিগত রকেট কোম্পানির জন্য এটা একটা নয়া মাইলফলক।
গতকাল মঙ্গলবার  ‘ফ্যালকন হেভি’ রকেটটি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশের পথে পাড়ি জমালো। কয়েক দশক আগে এখান থেকেই প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১ চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিল তিন নভোচারী নিয়ে।
কেপ ক্যানাভেরালের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৩টায় এ লাল টেসলা রোডস্টার অটোমোবাইল নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দেয় ২৩তলার সমান জাম্বো রকেট। উৎক্ষেপণের লাইভ ভিডিও দেখে ক্যালিফোর্নিয়ার হথোর্নে কোম্পানির হেডকোয়ার্টারে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন কর্মীরা। এই রকেটের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সাক্ষী থাকতে স্পেস সেন্টার থেকে ৮ কিলোমটিার দূরে কোকো বিচের কাছে ভিড় জমিয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ।
বড় ধরনের কোনো ঝামেলা ছাড়াই জোরালো গর্জন তুলে প্রবল বেগে আটলান্টিক মহাসাগরের তীর ঘেঁষে নিরাপদে মহাকাশের পথে রওনা দেয় পাহাড়সমান উচ্চতার অতিকায় রকেটটি। পরীক্ষামূলক এই ফ্লাইটকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছিল।
রকেটটি উৎক্ষেপণ-সফলতায় আনন্দ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্সের প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্ক। তাকে বিশ্বের সবচেয়ে মেধাবী উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৪৬ বছর বয়সী এ প্রযুক্তিবিদ বলেন, নতুন রকেট তৈরির পর চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ, এর সফলতার হার ছিল ৫০-৫০। বিশাল এক বিস্ফোরণের আশঙ্কা ছিল। সৌভাগ্য যে এ রকম কিছু ঘটেনি। পরীক্ষা সফল হওয়ায় ফ্যালকন হেভি রকেটটি সবচেয়ে সক্ষম মহাকাশযান উৎক্ষেপণ যান হিসেবে গণ্য হবে। এর উদ্দেশ্যে হচ্ছে মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে যন্ত্রপাতি পাঠানো।
এই রকেটের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি আগের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ডেল্টা ফাইভ হেভির তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ শক্তিশালী এবং বেশি ভার বহন করতে পারবে। এটি মোট ৬৪ টন ওজনের বস্তু পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আর এ কারণেই এর যাত্রা নিয়ে মহাকাশ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কাছে কৌতূহলের সীমা ছিল না।
তবে স্বভাব রসিক মানুষ বলে পরিচিত এলন মাস্ক রকেটটি উৎক্ষেপণের সময় একটু রসিকতা না করে যেন পারলেন না। ফ্যালকন হেভির কার্গোতে তিনি রেখেছেন তার নিজের লাল রংয়ের টেসলা গাড়িটি। গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসানো হয়েছে স্পেস স্যুট পড়া একটি পুতুল। আর গাড়িটির স্টেরিওতে সেট করা হয়েছে ব্রিটিশ গায়ক ডেভিড বোয়ির সেই বিখ্যাত গান ‘স্পেস অডিটি’।
জানা যায়, এটি ছিল ফ্যালকন ফাইভের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। এ রকেটের ইঞ্জিনের সংখ্যা ২৭টি। ইঞ্জিনগুলো তিনটি বুস্টারের সঙ্গে সংযুক্ত। তাছাড়া ব্যক্তিগত অর্থায়নে কার্গো নিয়ে মহাকাশের পথে পাড়ি জমানো এটিই প্রথম রকেট।
স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠাতার মতে, এ রকেটের উৎক্ষেপণ সফলতার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যসব হেভি-লিফটিং রকেটের দিন ঘনিয়ে এসেছে।
স্পেসএক্স এদিকে মনোনিবেশ করছে পরবর্তী প্রজন্মের রকেট নির্মাণে। এর নাম হতে যাচ্ছে ‘বিগ ফ্যালকন রকেট’।
রকেটটি যেমন শক্তিশালী তেমনি এর খরচও কমিয়ে আনা হয়েছে দ্বিতীয় শক্তিশালী রকেটের তিন ভাগের একভাগ।
মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এই মিশনের উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। ফ্যালকন হেভির মতো রকেটের মাধ্যমে ইলন মাস্কের কম্পানি আরো বেশি সংখ্যায় এবং বড় আকারের স্যাটেলাইট মহাকাশে পৌঁছে দিতে পারবে। মহাকাশের নতুন রেসে এভাবেই এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে কোন রাষ্ট্র নয় বরং ব্যাক্তিমালিনাধীন কম্পানি।
আন্তর্জাতিক স্পেস সেন্টার ঘুরে আসা একজন নভোচারী কমান্ডার লিরয় চাও এই উৎক্ষেপণ দেখার পর তার অনুভূতি ব্যাখ্যা করে বলছিলেন তার কাছে দিনটি একটি মহা উত্তেজনার দিন।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই রকেটযাত্রা ভবিষ্যতে মহাকাশে অনুসন্ধান ও গবেষণার কাজে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।