বিশ্ব ইজতেমা স্থলে যাবেন না মাওলানা সাদ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

51
এমএনএ রিপোর্ট : টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা স্থলে ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভী যাবেন না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তাবলিগ জামাতের বিবদমান দু’পক্ষ এবং দেশের জ্যেষ্ঠ কওমি আলেমদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমা চলাকালে মাওলানা সাদ কাকরাইল মসজিদে অবস্থান করবেন এবং সুবিধা মতো সময়ে তিনি দেশে ফিরে যাবেন। বিষয়টি নিয়ে তাবলিগ জামাতের দু’পক্ষের বিরোধ গত বছরও ছিল। এবার এটা তীব্র হয়েছে, বলেন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
মাওলানা সা’দ কান্ধলভির ইজতেমায় অংশ নেওয়াকে ঘিরে গতকাল বুধবার থেকে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। তাকে প্রতিহত করতে তাবলিগ জামাতের একটি পক্ষ এবং কওমি মাদ্রাসার আলেম ও শিক্ষার্থীরা এদিন থেকে আন্দোলনে নামেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। ইজতেমায় মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর যোগ দেওয়া না দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে তাবলিগের মুরব্বিদের ওপর। সরকার আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি দেখভাল করবে।
এরপর আজ দুপুর বিষয়টি নিয়ে তাবলিগের বিবদমান দুই পক্ষকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে বৈঠক শুরু হয়। এর আগে গত সোমবারও তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া গত ২৯ অক্টোবর মন্ত্রীর বাসায় দু’পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল।

বিরোধ নিরসনে সব পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে গত ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ীতে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদ্রাসায় বৈঠক হয়। তখনকার মতো মীমাংসা হলেও সাদ কান্ধলভির আগমনের খবরে আবারও উত্তাপের সৃষ্টি হয়।
তাবলিগ জামাতের বিবদমান দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে মাওলানা সাদ তার বয়ানে মুসা (আ.) সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তাকে ‘গুমরাহ’ বলে ফতোয়া দিয়েছে ভারতের দেওবন্দ দারুল উলুম।
ভারতীয় উপমহাদেশের সব কওমি মাদ্রাসা দেওবন্দের আদর্শে পরিচালিত হয়। দেওবন্দের ফতোয়ায় বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামারাও সাদ কান্ধলভির বিরোধিতা করছেন।
তাবলীগের শীর্ষ পরামর্শ সভা থেকে সাদ কান্ধলভিকে ইজতেমায় অংশ না নেয়ার অনুরোধ করা হলেও গতকাল বুধবার দুপুরেই তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছান। তখনই বিমানবন্দর এলাকায় তাবলীগের একাংশের অবস্থান নেয়ার কারণে ইজতেমার মাঠে না গিয়ে কাকরাইল মসজিদে যান মাওলানা সাদ।
এদিকে, মাওলানা সাদের বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সকালেও কাকরাইল মসজিদের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভের চেষ্টা করে তাবলিগ জামাতের একাংশ। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেন।