বৈশ্বিক উষ্ণতায় ধনী দেশগুলোর পোয়াবারো

এমএনএ ডেস্ক রিপোর্ট : বৈশ্বিকভাবেই উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু সবাই একই ধরনের প্রভাব অনুভব করছে না। গত অর্ধশতকে জলবায়ু পরিবর্তন বিভিন্ন দেশের মধ্যে অসমতা বাড়িয়েছে। দরিদ্র দেশগুলো যেখানে আরো দরিদ্র হয়েছে, সেখানে ধনী দেশগুলো আরো ধনী হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন ফলাফলই উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দাবি করা হয়, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি না ঘটলে বিশ্বের ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে অসমতা ২৫ শতাংশের অধিক বৃদ্ধি পেত না।

ক্রান্তীয় অঞ্চলের আফ্রিকান দেশগুলো এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উষ্ণতা বৃদ্ধি না পেলে মৌরিতানিয়া ও নাইজারের মতো দেশের মাথাপিছু জিডিপি প্রত্যাশিতের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম হতো না।

গবেষণায় বলা হয়, ২০১০ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি প্রত্যাশিতের চেয়ে ৩১ শতাংশ কম হয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) যেখানে দাবি করছে, চলতি বছরে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে দাঁড়াবে ভারত। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে বিশ্বের নবম বৃহত্তম অর্থনীতি ব্রাজিলের মাথাপিছু জিডিপি প্রত্যাশিতের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম অর্জিত হয়েছে।

অন্যদিকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বেশ কয়েকটি ধনী দেশের মাথাপিছু জিডিপি বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলোও।

দ্য প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস জার্নালে সম্প্রতি এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটির সহলেখক স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব আর্থ সিস্টেম সায়েন্সের অধ্যাপক মার্শাল বার্ক ১৯৬১ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ১৬৫টি দেশে উষ্ণতা ও অর্থনৈতিক ওঠানামার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে কয়েক বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতিটি দেশের উষ্ণতা কতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে, তা নির্ধারণের জন্য গবেষণায় ২০টি জলবায়ু মডেল ব্যবহার করা হয়েছে। উষ্ণতা বৃদ্ধি না পেলে তাদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হারে কেমন প্রভাব রাখত এ-সংক্রান্ত ২০ হাজার নমুনা উপাত্ত প্রস্তুত করা হয় গবেষণায়।

বার্কের গবেষণায় দেখা গেছে, গড় উষ্ণতার দেশগুলোর তুলনায় শীতপ্রধান দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে। অন্যদিকে উষ্ণ দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি থমকে দাঁড়িয়েছে। বার্ক বলেন, ‘ঐতিহাসিক উপাত্তে স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে, যখন তাপমাত্রা নাতিশীতোষ্ণ থাকে, তখন শস্যের ফলন ভালো হয়, মানুষ অধিক স্বাস্থ্যবান ও শ্রমসহিষ্ণু হয়। উষ্ণতা বৃদ্ধিতে শীতপ্রধান দেশগুলো এর সুবিধা ঘরে তুলেছে, অন্যদিকে উষ্ণ দেশগুলো এর সাজা ভোগ করেছে।

উষ্ণতা বৃদ্ধি যেকোনো দেশের কৃষি খাতে প্রভাব রাখে। এ বিষয়ে প্রধান গবেষক নোয়া ডিফেনবাও বলেন, শীতপ্রধান দেশগুলোয় শীতের কারণে শস্য উৎপাদনের সময় কম মেলে। উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে শীতপ্রধান দেশগুলোয় শস্য উৎপাদনে অধিক অনুকূল পরিবেশ পাওয়া যায়। অন্যদিকে উষ্ণপ্রধান দেশগুলোর শ্রম সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা হ্রাস পায়। এছাড়া সেসব অঞ্চলের মানুষ কলহপ্রবণ হয়।

গবেষকরা স্বীকার করেন, জলবায়ু পরিবর্তনে ধনী দেশগুলো যে উপকৃত হয়েছে, সে বিষয়টি একেবারে সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা না গেলেও দরিদ্র দেশগুলো যে দরিদ্রতর হয়েছে, সেটি সুস্পষ্ট। উপরন্তু তারা মনে করেন, যদি শিল্পবিপ্লবের শুরু থেকে উপাত্ত বিবেচনায় আনা যেত, তাহলে দেখা যেত ফলাফল কত স্পষ্ট ও ব্যাপক বিস্তৃত।

গ্রিনপিস আফ্রিকার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক উপদেষ্টা হ্যাপি খাম্বুলে বলেন, সাইক্লোন কেনেথের আঘাতের পর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে মোজাম্বিকের মতো দেশগুলো কত অপ্রস্তুত ও অসহায়। ঘূর্ণিঝড় শেষের ভূমিধসে গত ২৫ এপ্রিল ৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। গত মার্চে সাইক্লোন ইদাইয়ে মোজাম্বিক, মালাওয়ি ও জিম্বাবুয়েতে ৯০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। খাম্বুল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আফ্রিকার দেশগুলোর অবদান খুব সামান্য, কিন্তু তাদের ওপর প্রভাব পড়ছে বেশি এবং এ প্রভাব মোকাবেলায় তারা অনেকটাই অপ্রস্তুত।

এদিকে প্রতিবেদনটির সমালোচকরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব শুধু দরিদ্র দেশগুলোতেই নয় বরং ধনী দেশগুলোতেও পড়ছে। বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানসহ মধ্য অক্ষাংশে থাকা দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়টি প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

x

Check Also

সগিরা মোর্শেদ হত্যার ছক করেন ভাশুড় ডা. হাসান

এমএনএ রিপোর্ট : সিদ্ধেশ্বরীতে সগিরা মোর্শেদ হত্যার ছক হয়েছিল ডা. হাসান চৌধুরীর চেম্বারে। ৩০ বছর ...

Scroll Up