ব্যবসা গুটিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে যাচ্ছে সানোফি

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : ব্যবসা গুটিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানালো ওষুধ খাতের আন্তর্জাতিক কোম্পানি সানোফি, যারা ছয় দশকের বেশি সময় ধরে ওষুধ প্রস্তুত ও বাজারজাত করে আসছিল।

বাংলাদেশে ব্যবসার সম্ভাবনা পুরোপুরিভাবে কাজে লাগাতে না পারার কারণ দেখিয়ে সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডে থাকা শেয়ারের মালিকানা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুত ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সানোফি। আজ সানোফি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ব্যবসা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও দেশের বাজারে প্রতিষ্ঠানটি তাদের পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখবে।

আজ বুধবার সানোফির এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা মনে করি, বাংলাদেশে ব্যবসার সম্ভাবনা পুরোপুরিভাবে কাজে লাগানোর মত অবস্থানে সানোফি নেই। এ অবস্থার পরিবর্তনে সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডে থাকা আমাদের শেয়ার হস্তান্তরের জন্য অংশীদার খুঁজছি আমরা।”

সানোফি তাদের মালিকানা ছেড়ে দিলেও তাদের ওষুধ বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

তদের বিবৃতিতে বলা হয়, “মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সানোফি এমন একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের সন্ধানে রয়েছে, যারা নৈতিক এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সানোফির পণ্য প্রচারে প্রতিষ্ঠানটির সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারা দীর্ঘ সময়ের জন্যে সমুন্নত রাখার পাশাপাশি রোগী এবং একই সাথে সানোফি বাংলাদেশের কর্মীদের কল্যাণে কাজ করে যাবে।”

সানোফি যে বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে চায়, সে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা চলছিল গত কয়েক মাস ধরেই। সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেড শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছিল।

এতদিন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও বুধবারের বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করল প্যারিসভিত্তিক এই বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। গ্লাক্সোস্মিথক্লাইনের পর সানোফি হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় কোম্পানি, যারা বাংলাদেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিল।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে সানোফির দেশ ছাড়ার খবর প্রকাশের পর তা ‘গুজব’ দাবি করে প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি চেয়ার অ্যান্ড জেনারেল ম্যানেজার রামপ্রসাদ ভাট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুইন উদ্দিন মজুমদার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, তারা বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে না।

ব্যবসা বিক্রির সিদ্ধান্ত জানিয়ে গতকাল সানোফি বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মুইন উদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘নিজেদের ব্যবসার পোর্টফোলিও পুনর্গঠন, উদ্ভাবনের ধারা বজায় রাখতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে সানোফি প্রতিনিয়ত তার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনে থাকে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশে ব্যবসার সম্ভাবনা পুরোপুরিভাবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সানোফি তার সেরা অবস্থানে নেই। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্যই সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডে থাকা শেয়ার মালিকানা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সানোফি।’

প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা কাদের হাতে ছেড়ে দেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন, এমন একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের সন্ধান তারা করছে, যেটি নৈতিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সানোফির পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেবে। পাশাপাশি ক্রেতা ও সানোফি বাংলাদেশের কর্মীদের কল্যাণে কাজ করে যাবে।

সানোফি জানিয়েছে, শেয়ারের মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৮ মাস লাগতে পারে। এছাড়া মালিকানা হস্তান্তর হলেও কর্মী, ক্রেতা ও পণ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এ নিয়ে মুইন উদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘এটি বৈশ্বিক লিগ্যাসির অংশ। অন্যান্য দেশে ব্যবসায় পরিচালনা ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে যে ধরনের নিয়ম মানা হয় বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সরিয়ে নেয়া কিংবা মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হবে। কর্মীদের ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে। ভবিষ্যতে যে প্রতিষ্ঠান এর দায়িত্ব নেবে তাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে সতর্কভাবে এগোব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে আমরা যেভাবে এ দেশে ব্যবসা করছি, ঠিক সেভাবেই নতুন প্রতিষ্ঠান কাজ করবে।’

প্রতিষ্ঠানটি তার প্রায় এক হাজার কর্মীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলছে, সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডে থাকা নিজেদের শেয়ার মালিকানা হস্তান্তর করলেও কর্মীদের চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তা নিশ্চিত করবে সানোফি। এ লক্ষ্যে সামষ্টিকভাবে চাকরি স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি মালিকানা হস্তান্তরের সময় থেকে পরবর্তী ১২ মাস পর্যন্ত চাকরির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করবে সানোফি।

যে কটি বহুজাতিক কোম্পানি বাংলাদেশে কারখানা করে ওষুধ উৎপাদন এবং বাজারজাত করে আসছিল, তাদের মধ্যে সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেড একটি।

৩৬ কোটি টাকা মুলধন নিয়ে ফরাসি এ কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা করছে ১৯৫৮ সাল থেকে। সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডের ৪৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের হাতে। বাকিটা সানোফির হাতে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে পরিচালিত এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান।

x

Check Also

সংকটের মুখে পদত্যাগ করলেন অনিল আম্বানি

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড (আরকম) ভারতের অন্যতম শীর্ষ সেলফোন অপারেটর। তবে দেশটির ...

Scroll Up