ব্রেক্সিট বিল অনুমোদন, ইইউ ছাড়ছে যুক্তরাজ্য

33

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ত থাকা বিষয়ে ব্রিটিশ সংসদ অবশেষে বহুল আলোচিত ‘ব্রেক্সিট বিল’ অনুমোদন করছে। সংসদের উচ্চ কক্ষ, হাউস অফ লর্ডস, আর্টিকেল-৫০ সংসদে পাশ করার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাবার ব্যাপারে আলোচনা শুরু করতে পারে।

রয়্যাল এসেন্ট বা রানির সম্মতি পেলে এই বিলটি আজ মঙ্গলবারই আইনে পরিণত হতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইইউ নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে সরকারের ওপর চাপ রয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইইউ নাগরিক যারা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন তাদের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক।

এদিকে স্কটল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নিকোলা স্টার্জন বলেছেন, ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাবার সিদ্ধান্তের পর এই গণভোটের প্রয়োজন রয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোটের অনুমতি চাইবেন। যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের সিদ্ধান্তে স্কটিশ জনগণের স্বার্থরক্ষায় এই গণভোট আয়োজন করা জরুরি।

স্কটল্যান্ডের স্কটল্যান্ড বহু মানুষ ই-ইউ-তে থেকে যাওয়ার পক্ষে রায় দেয়ায় নিকোলা স্টার্জন বলেন, স্কটিশরা যদি সত্যিই এমনটি চায় তাহলে যুক্তরাজ্য থেকে বেবিয়ে যাবার জন্য ‘২০১৮ সালের গ্রীষ্ম থেকে আগামী বছরের হেমন্ত’ এই সময়সীমার মধ্যে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তিনি বলেন, পার্লামেন্টে গণভোট সংশ্লিষ্ট সেকশন ৩০ অর্ডার জারি করার অনুমতি চাইবেন তিনি। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য নতুন গণভোট আয়োজনের আইনগত ভিত্তির জন্য নির্দেশটি জারি করা প্রয়োজন।

অবশ্য, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে বলেছেন, স্বাধীনতার জন্য স্কটল্যান্ডে আবারো গণভোট হলে ভেদাভেদ সৃষ্টি হবে এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এতদিন পর্যন্ত এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছিলেন যে স্কটল্যান্ডের গণভোট আয়োজনের অনুমতি দেয়া হবে কী না। স্টার্জনের ঘোষণার প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, এটা পরিষ্কার যে স্কটল্যান্ডের মানুষ দ্বিতীয় গণভোট চায় না। দুই বছরেরও কম সময় আগে স্কটল্যান্ডের মানুষ যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছে যে ভোটকে এক প্রজন্মে একবার ভোট বলে অভিহিত করেছিল স্কটিশ সরকার।

তিনি যোগ করেন, আরেকটি গণভোট আয়োজন করলে বিভেদ সৃষ্টি হবে এবং সবচেয়ে সংকটময় সময়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। কিন্তু স্টার্জন এডিনবার্গে বুট হাউসে দেয়া বক্তব্যে বলেন, স্কটল্যান্ডের মানুষকে হার্ড ব্রেক্সিট কিংবা স্বাধীনতা যেকোনো একটি বেছে নেয়ার সুযোগ দিতে হবে।

স্কটিশ সরকারের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য একক ইউরোপীয় বাজার ত্যাগ করলেও স্কটল্যান্ড এর সদস্য থাকবে। থেরেসা মে বলেছেন, স্কটল্যান্ড এই সুযোগ পাবে।

যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে গতকাল সোমবার যখন আর্টিকেল ৫০ অনুসরণবিষয়ক ব্রেক্সিট বিল নিয়ে এমপিরা বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন তখনই স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোটের দাবি তুলেছেন স্টার্জন।

স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য ২০১৮ সালের শুরুর দিকে গণভোটের দাবি করায় এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইইউ নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা নিয়ে চাপের কারণে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি নিয়ে জটিলতায় ছিলেন মে।

কিন্তু পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে ইইউপন্থি কনজারভেটিভ এমপি’দের বিরোধিতা এবং উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা দুইই ঠেকাতে সফল হন মে।

হাউজ অব লর্ডস ইইউ নাগরিকদের অধিকারের শর্ত ২৭৪-১৩৫ ভোটে নাকচ করে। আর এর আগে হাউজ অব কমন্সে এ শর্ত ৩৩৫-২৮৭ ভোটে নাকচ হয়।