ভারতের নির্বাচনে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ

46

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের নির্বাচনে প্রায় দুই দশক আগে প্রথম ইভিএম ব্যবহার করা হলেও এখন এটি ব্যবহার করে কারচুপি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দেশটির কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক ভোটযন্ত্র বা ইভিএমের সাহায্যে কারচুপি হচ্ছে বলে এ অভিযোগ করেছেন। খবর বিবিসির।

রাজনৈতিক দলগুলো এখন বলছে, ইভিএমে ভোট জালিয়াতির সুযোগ রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত উত্তরপ্রদেশের ভোটে ইভিএমে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী।

তারপর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও দিল্লির কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেনও অভিযোগ করেছেন,ইভিএমে কারচুপি হতে পারে।

দিল্লিতে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য পৌর নির্বাচনে ইভিএমের বদলে কাগজের ব্যালট পেপার ব্যবহার করার দাবি জানিয়েছেন কেজরিওয়াল ও মাকেন।

তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে,ভোটযন্ত্রে কারচুপি করা সম্ভব নয়। আর দেশের সব ভোটে ইভিএম ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

উত্তরপ্রদেশে ভোট গণনার দিন সংবাদ সম্মেলনে মায়াবতী অভিযোগ তুলেছিলেন, ইভিএম যন্ত্রগুলিতে বড় ধরণের কারচুপি করা হয়েছে, যার ফলে শুধু বিজেপির দিকেই ভোট চলে গেছে।

এমনকি অন্য দলকে ভোট দিলেও সেগুলো বিজেপির দিকে চলে গেছে বলে তাদের অভিযোগ। তারপরই কেজরিওয়াল ও কংগ্রেস নেতা মাকেন ইভিএমে কারচুপির প্রসঙ্গ তোলেন।

বিজেপি অবশ্য বলছে,তারা যদি ইভিএমে কারচুপি করেই থাকবে তাহলে দিল্লি এবং বিহার বিধানসভা নির্বাচনে গত বছর তারা পরাজিত হলো কেন? কারচুপি করে সেগুলোতেও তারা জিততে পারতো।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এর আগে ইভিএমে কারচুপি সংক্রান্ত যেসব মামলা হয়েছিল, সেগুলোতে কেউ যন্ত্রে কারচুপির প্রমাণ দিতে পারেননি।

তবে দক্ষিণ ভারতের এক প্রকৌশলী একটি ইভিএম যন্ত্র যোগাড় করে হাতে কলমে দেখিয়েছিলেন কীভাবে তাতে কারচুপি করা যায়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, একটি যন্ত্র কোনোভাবে যোগাড় করে তাতে কারচুপি করা সম্ভব হলেও ভোটের ফলাফল বদলে দেয়ার জন্য বহু সংখ্যক ইভিএমে কারচুপি করতে হবে। আর সেই প্রক্রিয়ায় যতজন নির্বাচনী কর্মকর্তা বা নিরাপত্তারক্ষীকে অংশ নিতে হবে, সেটা গোপনে করা সম্ভব নয়।