ভারতে প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে সড়ক

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : রাবারের পর এবার প্লাস্টিকের সড়ক! উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরার পর চমক দেখাল মেঘালয়। প্লাস্টিকের বর্জ্যের সঙ্গে বিটুমিন মিশিয়ে এক কিলোমিটার সড়ক নির্মিত হলো পাহাড়ি রাজ্যটিতে।

বহু বছর আগেই ত্রিপুরায় রাবার দিয়ে সড়ক তৈরির কাজ শুরু হয়। বেশ কয়েক জায়গায় সাফল্যও পান ভারতীয় রাবার বোর্ডের প্রকৌশলীরা। এবার মেঘালয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে বিশেষ পদ্ধতিতে বিটুমিন ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণ করা হলো।

রাজ্যের পশ্চিম খাসি জেলার নংকাইনজেং গ্রামে নির্মিত হয়েছে এই সড়ক। জেলা প্রশাসনের দাবি, সাধারণ সড়কের তুলনায় ঢের মজবুত প্লাস্টিকের এই সড়ক।

জেলা প্রশাসক অরুণ কুমার কেমভাই সাংবাদিকদের জানান, এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ৩৩ লাখ রুপি খরচ হয়েছে। প্লাস্টিকের আবর্জনা লেগেছে ৪৭০ কেজি। জেলা সদর নংস্টেইনের পাশাপাশি রাজধানী শিলং থেকেও তাঁরা প্লাস্টিকের আবর্জনা সংগ্রহ করেন।

জেলা প্রশাসকের দাবি, বৃষ্টিপ্রধান মেঘালয়ের পরিবর্তিত আবহাওয়া পরিস্থিতিতেও এই সড়ক অনেক বেশি মজবুত। তাই তাঁরা প্লাস্টিকের বর্জ্য ব্যবহার করে আরও দুটি সড়ক নির্মাণ করতে যাচ্ছেন।

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর বিজ্ঞানী রাজাগোপালন বাসুদেবন এই পদ্ধতির আবিষ্কারক। মেঘালয়ে প্লাস্টিকের রাস্তা বানানোর কৌশলও তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত।

উদ্ভাবনীশক্তির জন্য বাসুদেবন ইতিমধ্যে ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী লাভ করেছেন।

ভারতের প্লাস্টিক বর্জ্য সমস্যার সমাধানে ২০০৬ সালে একটি উদ্ভাবনী চিন্তার কথা জানান তামিলনাড়ু রাজ্যের থিয়াগরাজর কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন আর বাসুদেবন। তিনি প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের ধারণা দেন। তার মতে, প্লাস্টিক ও বিটুমিন উভয়ই পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য। গলিত পিচের সঙ্গে যোগ করলে এ দুটির মিশ্রণ মজবুত হয়। এতে সড়ক হয় অধিক স্থায়ী ও ভারবহনে সক্ষম। প্লাস্টিক বর্জ্যকে কাজে লাগাতে ১৩ বছর পর ভারতের বড় শহরগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে বাসুদেবন উদ্ভাবিত পদ্ধতি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্লাস্টিক সড়ক নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড সিপিসিবির গবেষণায় বলা হয়, চার বছর ভারী যান ব্যবহারের পরও এ ধরনের সড়কে ভাঙাচোরা সমস্যা দেখা যায় না। বাসুদেবনের মতে, এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ৯ টন বিটুমিনের সঙ্গে এক টন প্লাস্টিক বর্জ্য মেশানো হয়। এর ফলে এক টন বিটুমিনের খরচ ৫০ হাজার রুপি বেঁচে যায়। আর বর্জ্যমিশ্রিত পিচের রয়েছে পানিনিরোধক গুণ, যা পানি চুইয়ে পড়া ঠেকায়। এর ফলে সড়কের স্থায়িত্ব বাড়ে। এ কারণে পদ্ধতিটি ব্যয়সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি সড়কের উন্নত মানের নিশ্চয়তা দেয়। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যকে ভালোভাবে পুনঃব্যবহারও করা যায়।

ভারতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার টনের মতো প্লাস্টিক উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ৯ হাজার টন পুনঃব্যবহার করা হয়। বাকিগুলো পোড়ানো কিংবা ভাগাড়ে ফেলা হয়। এমন বাস্তবতায় বাসুদেবনের পদ্ধতি প্লাস্টিক সংকট মোকাবিলাকে কিছুটা সহজ করে দিচ্ছে।

২০১৫ সাল থেকে সড়ক নির্মাণে প্লাস্টিক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে ভারত সরকার। ভারতীয় সড়ক কংগ্রেস আইআরসির মতে, নতুন সড়ক নির্মাণে কমপক্ষে ছয় থেকে আট শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করা উচিত। এর মাধ্যমে প্লাস্টিককে পুনঃব্যবহারের বড় সুযোগ তৈরি হবে। এরই মধ্যে দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, পুনের মতো বড় শহরগুলো সড়ক নির্মাণে বিক্ষিপ্ত প্লাস্টিক বর্জ্যরে ব্যবহার শুরু করেছে।

x

Check Also

ক্যাসিনো খালেদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাব ক্যাসিনোর মালিক ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ...

Scroll Up