ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চলছে

26

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুরু হয়েছে। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ ভারতের এটি চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনের ভোট গণনা করা হবে ২০ জুলাই বৃহস্পতিবার।

রাজধানী নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট ভবন ও রাজ্যের বিধানসভাগুলোতে লোকসভা, রাজ্যসভা ও বিধানসভার সদস্যরা ভোট দিয়ে তাদের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ইলেক্টোরাল কলেজের ৪ হাজার ৮৯৬ জন সদস্য। এর মধ্যে লোকসভায় ৫৪৩ জন, রাজ্যসভায় ২৩৩ জন সদস্য এবং ২৯টি স্টেট অ্যাসেম্বলির মোট ৪ হাজার ১২০ জন বিধায়ক। তবে ভোট গণনা পদ্ধতি সাধারণ নির্বাচনের মত সরল নয়।

সাধারণ নির্বাচনে প্রতিটি ভোটের মান সমান হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের মান নির্ভর করে ভোটারের ওপর।

ভোটার যদি লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্য হন, তাহলে তার ভোটের মান ৭০৮। আবার বিধানসভার সদস্যদের ভোটের মান নির্ধারিত হয় ওই বিধানসভার মোট আসন ও জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে।

এই বিচারে উত্তর প্রদেশের বিধায়কদের ভোটের মান সবচেয়ে বেশি, ২০৮। আর সিকিম ও অরুণাচলের বিধায়কদের ভোটের মান সবচেয়ে কম, মাত্র ৮।

পরোক্ষ এই নির্বাচনে লোকসভা, রাজ্যসভা ও বিধানসভার সদস্যদের ভোটে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর প্রার্থী বিহারের সাবেক রাজ্যপাল রামনাথ কোভিন্দ এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএর প্রার্থী লোকসভার সাবেক স্পিকার মীরা কুমারের মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নেবেন ভোটাররা।

রাজনীতির এ খেলায় প্রধান দুই জোটই এবার প্রার্থী বেছে নিয়েছে দলিত সম্প্রদায় থেকে। ফলে ১৯৯৭-২০০২ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা কে আর নারায়ণের পর এবার দ্বিতীয় দলিত রাষ্ট্রপতি পাচ্ছে ভারত।

২৪ জুলাই ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মেয়াদপূর্তির পরদিন শপথ নিয়ে দিল্লির রাইসিনা হিলের রাষ্ট্রপতি ভবনে উঠবেন নতুন রাষ্ট্রপ্রধান।

বিবিসি লিখেছে, ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তাদের শরিক দলগুলোর বিধায়ক সংখ্যা ধরে হিসাব করলে ৭১ বছর বয়সী রামনাথ কোভিন্দের জয় অনেকটাই নিশ্চিত।

তাছাড়া জনতা দল ইউনাইটেড, বিজু জনতা দল, এআইএডিএমকে ও তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির মত আঞ্চলিক দলগুলো এনডিএর প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় বিরোধী শিবির বড় ধাক্কা খেয়েছে।

পেশায় আইনজীবী রামনাথ কোভিন্দ বিহারের গভর্নর হওয়ার আগে দুইবার রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৭২ বছর বয়সী মীরা কুমার ২০০৯ সালে লোকসভার স্পিকার হওয়ার আগে পাঁচবার লোকসভার সদস্য ছিলেন।

ভারতের ইতিহাসে কেবল প্রথম রাষ্ট্রপতি বাবু রাজেন্দ্র প্রসাদ দুই মেয়াদে ওই পদে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। কংগ্রেসের সময়ে রাষ্ট্রপতি হওয়া প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ফের রাষ্ট্রপতি করার প্রস্তাব কোনো কোনো দল দিলেও ক্ষমতাসীনরা তা মানেনি।

হিন্দুত্ববাদীদের সমর্থনে ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিজেপি এই প্রথম নিজেদের আদর্শের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পেয়েছে।

সে বিষয়টি ইংগিত করেই কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী গতকাল রবিবার বলেন, এ নির্বাচন পরিণত হয়েছে আদর্শের লড়াইয়ে। সংকীর্ণ ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই বিরোধী জোট এ ভোটে প্রার্থী দিয়েছে।