ভেনেজুয়েলায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভে গুলি, নিহত ৩

19

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে।

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার দেশটির রাজধানী কারাকাসে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুইজন শিক্ষার্থী ও দেশটির ন্যাশনাল গার্ডের এক সার্জেন্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বিরোধীদের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে সশস্ত্র সরকার সমর্থকরা গুলিবর্ষণ করলে ফুটবল খেলতে বাড়ি থেকে বের হওয়া ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কার্লোস মোরেনো নিহত হন। মাথায় গুলি লাগার পর জরুরিভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে অস্ত্রোপচারের সময় তিনি মারা যান।

একই দিন আরো পরে সরকার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র সান ক্রিস্টোবালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী পাওলা রামিরেজ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের ছোড়া গুলিতে নিহত হন।

নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও কারাবন্দী বিরোধী নেতাদের মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার মানুষ দেশটির রাস্তায় নেমে এসেছে।রাস্তায় প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সমর্থকরাও আছেন।

পুলিশের ওপর হামলা ও দোকানপাট লুট করার জন্য বিরোধীদের দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কারাকাসে সরকার সমর্থকরাও পাল্টা সমাবেশ-মিছিল করছে।

অধিকার আন্দোলন গোষ্ঠী পেনাল ফোরাম জানিয়েছে, গতকাল বুধবার সারা দেশে মোট ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চলতি মাসে দেশটিতে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আটজন নিহত ও বহু আহত হয়েছে। হতাহতের এসব ঘটনার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী ও কথিত আধাসামরিক গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে বিরোধীরা।

আজ বৃহস্পতিবারও সরকার বিরোধী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিরোধীরা। টানা সরকার বিরোধী আন্দোলনের কারণে লম্বা সময় ধরে দেশটিতে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

গতকাল বুধবার রাতে বিরোধীদলীয় নেতা হেনরিক ক্যাপ্রিলেস বিক্ষোভের ডাক দিয়ে বলেন, একই জায়গায়, একই সময়। আজকের জমায়েতে দশ লাখ হলে আগামীকাল আরো বেশি হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বিরোধীদের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে সশস্ত্র সরকার সমর্থকরা গুলিবর্ষণ করলে ফুটবল খেলতে বাড়ি থেকে বের হওয়া ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কার্লোস মোরেনো নিহত হন।

ভেনেজুয়েলার পাবলিক প্রসিকিউটর দপ্তর জানিয়েছে, উভয় ঘটনা তদন্ত করে দেখছে তারা। উভয় হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকার সমর্থক সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘কালেক্টিভোস’কে দায়ী করেছে বিরোধীরা।

বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের মজুদ থাকা সত্বেও বেশ কয়েক বছর ধরে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক মূল্যস্ফিতি, যথেচ্ছ অপরাধ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের সঙ্কট চলছে।