মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের ৩ ধাপ উন্নতি

66

এমএনএ রিপোর্ট : জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের তিন ধাপ উন্নতি হয়েছে।

গড় আয়ু বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়সহ সামাজিক বিভিন্ন সূচকে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন-২০১৬’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা কমিশন ও ইউএনডিপি যৌথভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

২০১৫ সালের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। বিশ্বের ১৮৮টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে তৈরি করা এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯তম। বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে ঘানা ও জাম্বিয়া। আগের বছর (২০১৪) বাংলাদেশ ১৪২তম অবস্থানে ছিল।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ নেপাল ও পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভারত ও ভুটান।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সব থেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির অবস্থান ৭৩তম। এর পরেই মালদ্বীপের অবস্থান। ১০৫তম অবস্থানে রয়েছে মালদ্বীপ। এর পরে ভারত ১৩১ এবং ভুটান রয়েছে ১৩২তম অবস্থানে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। বিশেষ বক্তা হিসেবে ছিলেন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন কার্যালয়ের পরিচালক ড. সেলিম জাহান।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, মানব সূচক উন্নয়নের পথ্যে অন্যতম বাধা ক্লাইমেট চেঞ্জ। সারা বিশ্ব এগিয়ে না এলে কারোর একার পক্ষে এটা মোকাবেলা করা সম্ভব না। বিশ্বের মধ্যে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারত ও রাশিয়া জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ৫৫ শতাংশ দায়ী। অথচ আমরা এর জন্য সাফারার। তারপরও সব সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত দুই দশকে মানব সূচকের সব মাপকাঠিতেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনের সকল প্রত্যাশিত খাতে আমরা ভালো করছি। যখন থেকে আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে।

ইউএনডিপির এবারের মানব উন্নয়ন সূচকের মূল প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য মানব উন্নয়ন’। ১৯৯০ সাল থেকে এ সূচক তৈরি করে আসছে ইউএনডিপি। এবারের সূচক-সংক্রান্ত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে মানব উন্নয়নে বেশ উন্নতি হলেও সমতা নিশ্চিত হয়নি। ফলে এখনো সমাজে বিপুলসংখ্যক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ রয়ে গেছে। বৈশ্বিক এ প্রতিবেদনটিতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষাসহ সূচকে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নাম এসেছে গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ও বিকাশের মতো প্রতিষ্ঠানের। সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিরও প্রশংসা করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন সূচক নির্ণয়ে মূল মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নাগরিকদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল, শিক্ষা ও মাথাপিছু জাতীয় আয়। যেসব দেশের মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেশি, শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নত ও মাথাপিছু আয় বেশি, সেসব দেশ এ সূচকের তালিকার শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচক উন্নয়নে প্রথম স্থান অর্জন করে নিয়েছে নিশীথ সূর্যের দেশ হিসেবে পরিচিত নরওয়ে। দ্বিতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়া, তৃতীয় স্থানে সুইজারল্যান্ড, চতুর্থ স্থানে নেদারল্যান্ডস এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর।

মানব উন্নয়ন সূচকে সব থেকে খারাপ অবস্থানে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। এটি রয়েছে ১৮৮তম অবস্থানে। তবে আফ্রিকা মহাদেশের অনেক দেশই খারাপ অবস্থানে রয়েছে। যেমন উগান্ডা ১৬৩, টোগো ১৬৬, দক্ষিণ সুদান ১৮১, কঙ্গো ১৭৬, চাদ ১৮৬। তবে এসব দেশের তুলনায় সার্বিক খাতে ভালো অর্জন করছে বাংলাদেশ। নেপালও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। দেশটি মানব উন্নয়ন সূচকে ১৪৪তম অবস্থানে।

তবে বাংলাদেশে অসমতা বেড়েই চলেছে। এটার লাগাম টেনে ধরার জন্য মত দেন বক্তারা। লিঙ্গ সমতা সূচকে ৫৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৯। দক্ষিণ এশিয়ায় এই সূচকে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।

রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জি, জিইডির (সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ) সদস্য ড. শামসুল আলম, জিইডি প্রধান নাকিব মাহবুব বক্তব্য রাখেন।।