মার্কিন অপারমাণবিক বোমা হামলায় নিহত ৯২

34

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কথিত আস্তানা লক্ষ্য করে মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা হামলায় অন্তত ৯২ জন নিহত হয়েছে।

আফগান কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আজ শনিবার আন্তর্জাতিক গণসাধ্যমকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির নাঙ্গাহার প্রদেশে পাহাড়ি গুহা ও টানেল নেটওয়ার্কে অবস্থিত আইএসের একটি ঘাঁটিতে অপারমাণবিক সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী এই বোমাটি ফেলা হয়, যা ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি নামে পরিচিত।

গতকাল শুক্রবার জানানো হয়েছিল, ওই বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৩৬ জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে আজ শনিবার মার্কিন বাহিনীর নেতৃত্বে আইএসের ওই ঘাঁটিতে ব্যাপক তল্লাশি চালানোর পর আফগান কর্তৃপক্ষ জানান, গত বৃহস্পতিবারের হামলায় অন্তত ৯২ জন নিহত হয়েছে।

নাঙ্গারহার প্রদেশের আচিন জেলার গভর্নর ঈসমাইল শিনওয়ারি এএফপিকে বলেন, ‘বোমা হামলায় আইএসের অন্তত ৯২ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে।’

তবে নাঙ্গাহারের প্রাদেশিক মুখপাত্র আত্তাউল্লাহ খোগিয়ানি জানিয়েছেন, বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ৯০ জন।

নাঙ্গাহারের পূর্বাঞ্চলে আচিন জেলায় জিবিইউ-৪৩ নামে শক্তিশালী বোমাটি ফেলতে একটি এমসি-১৩০ পরিবহন বিমান ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

এটি আফগানিস্তানে এ পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে নিক্ষিপ্ত সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা। এমনকি এই বোমা এর আগে কোনো যুদ্ধক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়নি।

পেন্টাগনের মুখপাত্র অ্যাডাম স্টাম্পকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, বোমাটিতে ১১ টন বিস্ফোরক ছিল। এটি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্ল্যাস্ট (মোয়াব) বোমা নামে পরিচিত।

আইএসকে আফগানিস্তানে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র এমন বোমা আরও ফেলবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে পেন্টাগন।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই এক বোমাতেই পর্বত অভ্যন্তরের সুরক্ষিত ওই জঙ্গি ঘাঁটিটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

নাঙ্গাহার প্রদেশের আচিন জেলার গভর্নর ইসমাইল শিনওয়ারি বিবিসিকে নিহতের সংখ্যাটি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আইএস দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ফেলা ওই বোমার বিস্ফোরণে তাদের কেউ আহতও হয়নি।

ওই বিস্ফোরণে কোনো বেসামরিক নিহত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিনওয়ারি। কিন্তু বিস্ফোরণস্থলের নিকটবর্তী এক বাসিন্দা একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই বোমার বিস্ফোরণে কিছু বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।

আফগান সরকারের প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, তার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই হামলাটি চালানো হয় এবং এতে ‘বেসামরিকদের ক্ষতি এড়াতে ব্যাপক সতর্কর্তা গ্রহণ করা হয়’।

আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কমান্ডার জেনারেল জন নিকোলসন বলেছেন, শত্রুরা অনেক বাঙ্কার, টানেল তৈরি করার পাশাপাশি চারদিকের ব্যাপক এলাকায় প্রচুর মাইন পেতে রেখেছিল, এসব বাধা দূর করে দক্ষিণ নানগারহরে আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখতেই বোমাটি ব্যবহার করা হয়।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আইএস তাদের খোরাসান শাখা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। আফগানিস্তান ও এর আশপাশের এলাকার প্রাচীন নাম খোরাসান। এই ঘোষণার মাধ্যমেই আরব এলাকা থেকে জঙ্গিগোষ্ঠীটির অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়া শুরু হয়।