মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদন আ.লীগের প্রত্যাখ্যান

50

এমএনএ রিপোর্ট : বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দলটির মতে, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের রাষ্ট্রের মানবাধিকারের ওপর নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

আজ রবিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং মুখপাত্র হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিবেদন আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে বলব, নিজেদের রাষ্ট্রের মানবাধিকারের ওপর সবিনয়ে নজর দেন।’

তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো। তাদের দেশের প্রতিবছর পুলিশের গুলিতে ১ হাজার ১০০ লোক মারা যায়, যাদের অধিকাংশ সংখ্যালঘু। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কালো মানুষের জীবনও মূল্যবান’—এ শিরোনামে আন্দোলন গড়ে উঠেছে।

জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো বলে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তাদের দেশে পুলিশের গুলিতে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। আর বাংলাদেশে পুলিশের গুলিতে তখনই কেউ মারা যায়, যখন সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা করতে পাল্টা গুলি করে।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখছেন—অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এমন বক্তব্যের বিষয়ে দলটির মুখপাত্র হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেখুন, অর্থমন্ত্রী অনেক সময় অনেক কথা বলেন। এটা তাঁর ব্যক্তিগত মত হতে পারে। তিনি অনেক সময় এমন বক্তব্য দেন এবং প্রত্যাহার করেন। হয়তো কিছুদিন পর এটাও তিনি প্রত্যাহার করবেন।’

দায়িত্বশীল জায়গা থেকে সরকার এবং দলীয় মতের বাইরে এমন বক্তব্য দিতেন পারেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র বলেন, ‘এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য। অর্থাৎ আওয়ামী লীগে যে-কেউ যে তার মত প্রকাশ করতে পারে, এটিরই উদাহরণ হচ্ছে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য। তিনি অকপটে তাঁর ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম প্রমুখ।