মার্কিন রণতরীর নিখোঁজ ৭ নৌসেনার মরদেহ উদ্ধার

42

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : জাপানের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি রণতরীর সঙ্গে ফিলিপাইনের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় মার্কিন নৌবাহিনীর নিখোঁজ ৭ নৌসেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ রবিবার সকালে উদ্ধারকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর ক্ষতিগ্রস্ত ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ফিটজেরাল্ডের পানি ঢুকে যাওয়া একটি কম্পার্টমেন্টে নিখোঁজ সেনাদের মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। মার্কিন নৌবাহিনীর সপ্তম নৌবহর ও জাপানের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইন এ খবর জানায়।

প্রাথমিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তবে মরদেহগুলো জাপানের ইয়োকোসুকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ঘাঁটির হাসপাতালে নেওয়ার পর পরিচয় শনাক্তের কাজ করা হবে।

জাপানের স্থানীয় সময় শনিবার ভোররাত আড়াইটায় টোকিও উপসাগরের দক্ষিণে এবং বন্দরনগরী ইয়োকোসুকা থেকে ১০৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার ফিটজেরাল্ডের সঙ্গে ফিলিপাইনের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্য জাহাজের সংঘর্ষ হয়।

তিনগুণ বড় এসিএক্স ক্রিস্টাল নামের ওই বাণিজ্য জাহাজের ধাক্কায় ফিটজেরাল্ডের স্টারবোর্ড সাইডে পানির উপরে ও নিচে উভয় দিকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং সাত নৌসেনা নিখোঁজ ও অপর তিনজন আহত হয়। অপরদিকে এসিএক্স ক্রিস্টালের সামান্য ক্ষতি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ফিটজেরাল্ডের দুটি স্লিপিং বার্থ ও অন্যান্য কয়েকটি এলাকা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়।

আহত তিন নৌসেনার মধ্যে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারটির কমান্ডিং অফিসার ব্রেইস বেনসনও রয়েছেন। তাদের হেলিকপ্টার যোগে সরিয়ে নিয়ে ইয়োকোসুকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।

ক্ষতিগ্রস্ত ফিটজেরাল্ড শনিবার সন্ধ্যায় বন্দরে ফিরে যায়। অপরদিকে নিখোঁজ সাত সেনার খোঁজে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের জলযান ও বিমানগুলো তল্লাশি অভিযান চালাতে থাকে।

কোন পরিস্থিতিতে জাহাজ দুটির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে তা পরিষ্কার নয়। ‘তদন্ত শেষ হলে যেকোনো বৈধ ইস্যু প্রকাশ করা হবে’ বলে জানিয়েছেন সপ্তম নৌবহরের এক মুখপাত্র।

ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের দায়িত্বে নিয়োজিত ‘পেশাদারদের অবহেলা জনিত কারণ’ এর জন্য দায়ী কি না, তা তদন্ত করে দেখছে জাপানের কর্তৃপক্ষ। তবে তদন্ত দুই জলযানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বলছে, ঘটনাটি স্থানীয় সময় ভোররাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে ঘটেছে; অপরদিকে জাপানের কোস্টগার্ড বলছে, ঘটনাটি স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে ঘটেছে।

এসিএক্স ক্রিস্টালকে অনুমোদন দেওয়া জাপানের প্রতিষ্ঠান নিপ্পন ইয়ুসেন কেকে এক বিবৃতিতে জাপানের কোস্টগার্ডের তদন্তে ‘পূর্ণ সহযোগিতা করবে’ বলে জানিয়েছে।

জাপানের বৃহত্তম দুটি কন্টেইনার পোর্ট টোকিও ও ইয়োকোহামা মুখি জাহাজ চলাচলের কারণে টোকিও উপসাগরে ঢোকার জলপথটি বাণিজ্যিক জাহাজের আনাগোনায় ব্যস্ত থাকে। এই জলপথেই জাহাজ দুটির সংঘর্ষ হয়েছে।

প্রকাশিত ছবি থেকে বোঝা গেছে, কন্টেইনারবাহী ৩০ হাজার টনি এসিএক্স ক্রিস্টালের সম্মুখভাগের একপাশ ইউএসএস ফিটজেরাল্ডের স্টারবোর্ড পাশে আঘাত করেছে। এতে ফিটজেরাল্ডের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এসিএক্স ক্রিস্টালের পোর্ট বো অংশ শুধু কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সামান্য ক্ষতি নিয়ে এসিএক্স ক্রিস্টাল শনিবার রাতে টোকিও উপসাগরে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।