মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মিথ্যা বলছে : যুক্তরাষ্ট্র

34
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধন চালানোর কথা নাকচ করে দিয়ে দেশটির সেনাবাহিনী মিথ্যা বলছে। নৃশংসতার সাক্ষ্য বহনকারী কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে তারা রাখাইনে ঢুকতে দিচ্ছে না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও সেখানে যেতে পারছে না। গতকাল মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালি এসব কথা বলেছেন।
মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযান চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করাকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের ওই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রশংসা করা হয় বলে জানা গেছে।
রোহিঙ্গাদের ওপর বিভৎস হত্যাযজ্ঞের কথা স্বীকার করতে অং সান সু চির ওপর চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে আটক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের মুক্তির দাবি জানান নিক্কি হ্যালি।
তিনি বলেন, ‘আমরা অনতিবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। মিয়ানমারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে গণমাধ্যমকে দোষারোপ করার প্রবণতা আছে।’
ফরাসি রাষ্ট্রদূত ফ্রাঙ্কোইস ডেলাটরে বলেন, ‘রয়টার্সের খবরে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার যে খবর দেখেছি, তা মানবতাবিরোধী অপরাধ।
সাড়ে তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, বলিভিয়াসহ ১২টি দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন কুয়েতের রাষ্ট্রদূত শেখ সাবাহ খালিদ আল হামাদ।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্দি সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠকে যোগ দিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটান।
তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে সৃষ্ট এ সঙ্কটের সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে।
১০ লাখের মতো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একই কথা বলে আসছেন।
গত ৬ মাসে ৬ লাখ ৮৮ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গার বাংলাদেশ আশ্রয় পাওয়ার তথ্য জানিয়ে গ্রান্দি বলেন, শরণার্থীদের নিরাপদে নিজ আবাস ভূমিতে প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আন্তরিক অর্থে সোচ্চার হওয়া দরকার।
এই দফায় আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও প্রত্যাবাসন এখনও শুরু হয়নি। রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আগে তাদের ফেরানোর ক্ষেত্রে আপত্তি রয়েছে জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর।
যুক্তরাজ্যের মার্ক ফিল্ড, রাশিয়ার সের্গেই ল্যাভরব, পোল্যান্ডের এন্ড্রেজেজ ডুডা, কাজাখস্তানের নূরসুলতান নজরবায়েভসহ অন্যরাও মিয়ানমারের ভূমিকার সমালোচনা করে রাখাইনে শান্তি ফেরাতে কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন দাবি করেন।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও তিন বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, মিয়ানমার সরকার দুটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র খুলেছে এবং শিবিরও স্থাপন করেছে। কিন্তু তাতে রোহিঙ্গারা আস্থা পাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, চীন ও রাশিয়ার ভেটো’র কারণে মিয়ানমারকে চাপে রাখতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। ভেটো ক্ষমতার ওই দুই বিশ্ব শক্তি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।