মিয়ানমারে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণই করলেন না পোপ

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : পোপ ফ্রান্সিস মিয়ানমারের রাজধানীতে তার ভাষণে একবারের জন্যও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। তবে রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ না করলেও ‘প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে শ্রদ্ধাপূর্ণ’ আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু।
রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পোপের প্রতি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে সফরকালে পোপকে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার না করতে অনুরোধ জানিয়েছিল মিয়ানমারের ক্যাথলিক চার্চ। অন্যথায় মিয়ানমারে ক্যাথলিকরা সমস্যায় পড়তে পারে বলে তাকে বলা হয়।
এর আগে মিয়ানমার সফরকালে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ না করতে পোপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কার্ডিনাল চার্লস মং বো। কার্ডিনাল চার্লস মং মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের আর্চবিশপের দায়িত্ব পালন করছেন। ৩ দিনের সফরে এখন মিয়ানমার রয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।
গত সোমবার সফরের প্রথম দিনে তিনি মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হেইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠক শেষে এক ফেসবুক পোস্টে সেনাপ্রধান মিন বলেন, রাখাইনে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হয়নি। বৌদ্ধ প্রধান দেশ মিয়ানমারে প্রথমবারের মতো কোনো পোপ সফরে এসেছেন।
তিনি মূলত মিয়ানমার প্রশাসনের আহ্বানেই সাড়া দিয়েছেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কিছুই বললেন না দেশটিতে সফররত খ্রিস্টান ম্প্রদায়ের শীর্ষ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিও তার ভাষণে তিনি কোথাও ব্যবহার করেননি। অথচ বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠনগুলো ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছিল।
গতকাল মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতায় নির্দিষ্টভাবে রোহিঙ্গাদের কথা উল্লেখ না করে তিনি ‘প্রত্যেক নৃগোষ্ঠীর প্রতি সম্মানের’ আহ্বান জানান। দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকের পর পোপ ফ্রান্সিস ওই বক্তৃতা দেন। প্রসঙ্গত রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত। আর এই শান্তি আসবে সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে মর্যাদা ও অধিকার প্রদান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধার জানানোর মাধ্যমে। প্রতিটা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে গণতন্ত্রের নির্দেশ অনুরসরণ করতে হবে—কেউ বাদ যাবে না। এতে করে সবারই মঙ্গল হবে।’
তিনি রাখাইনে জাতিগত নিধনের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও বলেছেন এই সংকট সমাধানে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো দেশটির জনগণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিক সংঘাত ও সহিংসতার ফল ভোগ করে যাচ্ছে এই জনগণ; যা গভীর বিভাজনের সৃষ্টি করেছে।’
তবে পোপ ফ্রান্সিস অতীতে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তিনি তাদের ‘ভাইবোন’ বলে অভিহিত করেন।
সু চিও তার দেয়া ভাষণে রোহিঙ্গাদের বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে রাখাইন সংকটের বিষয়টি বলেছেন। তিনি বলেন, রাখাইনে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দীর্ঘ সমস্যার কারণে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারসাম্য ও সহযোগিতায় শিথিলতা এসেছে। তবে আমাদের বন্ধুদের সহায়তায় আমরা এগুলোর সমাধান করতে পারব।
নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের’ অভিযোগ ওঠে। মিয়ানমার সরকার ওই জনগোষ্ঠীকে ‘রোহিঙ্গা’ না বলে ‘বাঙালি’ বলে উল্লেখ করে আসছে। তাদের যুক্তি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে মিয়ানমার এসেছে।
ভাষণ দেওয়ার আগে পোপ ফ্রান্সিস মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে দেখা করেন। সু চিও তার বক্তব্যে সরাসরি রোহিঙ্গা মুসলিমদের কথা উল্লেখ করেননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, রাখাইনের পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে ‘বিশ্বের নজর’ কেড়েছে।
x

Check Also

জাপানে শক্তিশালী টাইফুন ‘হাগিবিস’-এর আঘাত

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : স্থানীয় সময় আজ শনিবার বিকেলে জাপানে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন ‘হাগিবিস’। ...

Scroll Up