মেসিকে নারী ভক্তের অবিশ্বাস্য সুন্দর উপহার

43
এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : ক্যারিয়ারে কতজনের কাছ থেকে কত কিছুই না উপহার পেয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে এবার যা পেলেন তা সত্যি সত্যিই অবিশ্বাস্য! এক প্যারাগুইয়ান নারী ভক্তের কাছ থেকে একজোড়া বুট উপহার পেয়েছেন তিনি। পেশায় চিত্রশিল্পী এ নারী বুট জোড়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন আর্জেন্টাইন যুবরাজের জীবনের গল্প।
মেসির পাঁড় ভক্ত এ নারীর নাম লিলি কান্তেরো। ফুটবল বিস্ময়ের জীবন-ইতিহাসে দারুণ অনুপ্রাণিত তিনি। তাই তো হাতেই তৈরি করে ফেলেছেন একজোড়া বুট। যাতে বিস্ময়করভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ৩০ বছর বয়সী ফুটবলারের জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো।
কী নেই এ বুটে? স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে চুম্বন, সন্তানদের আদর, বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে গোলের পর জার্সি তুলে ধরা- সব দৃশ্যই অঙ্কিত হয়েছে এতে। তুলে ধরা হয়েছে- কীভাবে দারিদ্র্যপীড়িত রোজারিও থেকে বার্সেলোনায় পাড়ি জমান খুদে জাদুকর। সেখানে কতটা যুদ্ধ করে প্রতিনিয়ত নিজেকে ঘষেমেজে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মেসি স্থানীয় ক্লাব গ্রান্দোলির হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে মেসির গ্রোথ হরমোনের (growth hormone) সমস্যা ধরা পড়ে। স্থানীয় ক্লাব রিভার প্লেট আগ্রহ দেখালেও সেসময় ক্লাবটি মেসির চিকিৎসা খরচ বহন করতে অপারগ ছিল। বার্সালোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাচ মেসির প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হন। ফলে বার্সালোনা মেসির চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে রাজি হয়। তাররপর মেসি এবং তার বাবা বার্সালোনায় পাড়ি জমান।
বার্সেলোনার জার্সিতে তার অভিষেক হয় ১৬ অক্টেবর ২০০৪ সালে। অভিষেকের সাত মাস পর ক্লাবের জার্সিতে প্রথম গোল পান এই ওয়ান্ডার কিড। ১ মে ২০০৫ ঘরের মাঠ ন্যু-ক্যাম্পে আলবাকেট ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রথম গোল। দুই সন্তানের জনক মেসিকে এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
২২ বছর বয়সেই তরুণ মেসি ব্যালন ডি অর এবং ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন। বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত হন ২৪ বছরে। ২০১৬ সালে ক্লাবও জাতীয় দলের গোল মিলিয়ে মেসি তার ক্যারিয়ারের পাঁচশ’ তম গোল করেন। এ বছরেই তিনি লা লিগায় সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার খ্যাতি অর্জন করেন। ফুটবলের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি টানা চারটি ব্যালন ডি অর পুরস্কার জিতেছেন।
আর এই পুরো জীবন কাহিনী দিয়ে মেসির জন্য এই বিশেষ জুতো তৈরি করেছেন প্যারাগুয়ের শিল্পী লিন ক্যান্তেরো। মেসি তার জীবনের আদর্শ। ক্যান্তেরো তাই মেসির জীবনের নানা ধাপ হাতে এঁকে ফুটিয়ে তুলেছেন মেসির জুতাতেই!‌
ছবি আঁকার আগে কোন কোন ঘটনার ওপর জোর দিয়েছিলেন শিল্পী? একেবারে ছোটবেলার মেসি, তারপর ফুটবল হাতে, ফুটবল মাঠে, স্ত্রী আন্তনেল্লা, দুই ছেলে থিয়াগো আর মাতেয়োকে কোলে নিয়ে টুকরো টুকরো মুহূর্ত ফুটিয়ে তুলেছেন। শিল্পী বলেছেন, ‘বার্সায় এই উপহার পাঠিয়েছি মেসির কাছে। সব ছবিই হাতে আঁকা। কতটা পরিশ্রম করে মেসি আজ এই জায়গায়, সেই জীবন কাহিনীই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। বলতে পারেন, প্যারাগুয়ের তরফ থেকে গোটা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের কাছে এটা উপহার।’‌
এদিকে মেসি নিজে এই উপহার পেয়েও খুব খুশি। স্পেশাল জুতা হাতে নিয়ে ছবি তুলেছেন পাঁচবারের বর্ষসেরা এই তারকা। ‌‌
মেসির প্রাণবন্ত ক্যারিয়ারে অবদান রয়েছে অনেকেরই। বাদ যায়নি তাদের নামও। আঁকা হয়েছে রোনালদিনহোর ছবি। বার্সায় সিনিয়র ক্যারিয়ারের শুরুতে যিনি ওয়ান্ডারম্যানকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছিলেন। ঈর্ষা জাগানিয়া ক্যারিয়ার গঠনে তার পরিবার ও বন্ধুদেরও ভূমিকা অঙ্কিত হয়েছে।
ফুটবলবোদ্ধারা বলছেন, বিশেষ বুটগুলোতে সত্যিকার অর্থেই চিত্রিত হয়েছে মেসির উজ্জ্বল ক্যারিয়ার।
লিলির ভাষ্য, ‘বুট জোড়া বার্সেলোনায় প্রিয় খেলোয়াড়ের কাছে পাঠানো হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ হাতে তৈরি। ফুটবলের বরপুত্রের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ বুট জোড়া তৈরি করা হয়েছে। এতে ছবি ব্যবহার করে তার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক বর্ণনা করা হয়েছে। দেখানো হয়েছে শীর্ষে উঠতে কতটা কঠোর পরিশ্রম করেছেন তিনি।’
বুট জোড়াকে মেসির প্রতি প্যারাগুইয়ানদের ভালোবাসার প্রতীক বলে আখ্যায়িত করেছেন লিলি।
তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল