যবিপ্রবির ৬টি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

এমএনএ রিপোর্ট : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ৬টি ইউনিটেরই ফলাফল একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এ ফলাফল প্রকাশ করেন।

প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভর্তির আবেদন, ফলাফল প্রকাশ ও চয়েস ফর্ম পূরণসহ যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করা হয়।

উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন জানান, ৬টি ইউনিটে ৯১০টি আসনের বিপরীতে মোট ৪৩ হাজার ১৮২ জন আবেদন করেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৩০ হাজার ১৪১ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল ৬৯.৮০ শতাংশ। এদের মধ্যে পাস করেছে ৭ হাজার ২৭৭জন। সবচেয়ে কম পাসের হার ‘ডি’ ইউনিটে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি ‘সি’ ইউনিটে পাসের হার ৫৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

‘এ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ভুল প্রসঙ্গে উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রশ্নের যে কোনো ত্রুটি বা বেনিফিট অব ডাউট শিক্ষার্থীদের পক্ষে রেখে ফলাফল মূল্যায়ণ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কোনো শিক্ষার্থীর যদি সংশয় থাকে বা তার মেধার প্রকৃত মূল্যায়ণ হয়নি বলে মনে করেন, তাহলে ওই পরীক্ষার্থীর আবেদন সাপেক্ষে তার ফলাফল পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা, ভর্তি পরীক্ষাসহ সকল কার্যক্রম উন্মুক্ত। এখানে সংশয়ের কিছু নেই।

‘ডি’ ইউনিটে পাসের হার কম প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, এই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে ৪০ নম্বরের মধ্যে ২০ না পেলে উত্তীর্ণ হবে না। এমন নির্দেশনা ছিল। এজন্য পাসের হার কম।

উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন আরও জানান, ‘এ’ ইউনিটে ২৪৫ আসনের বিপরীতে ১৪ হাজার ১৮৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। ভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ৯ হাজার ৭০২ জন। পাস করেছে ৯৬৭ জন। পাসের হার ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ‘বি’ ইউনিটে ১৯০ আসনের বিপরীতে ১২ হাজার ৪০১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। ভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ৮ হাজার ৯৯৭ জন। পাস করেছে এক হাজার ৭৯৮জন। পাসের হার ১৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ‘সি’ ইউনিটে ২৫৫ আসনের বিপরীতে ৯ হাজার ২০১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। ভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ৬ হাজার ৭৫৪ জন। পাস করেছে ৩ হাজার ৬২৩জন। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ‘ডি’ ইউনিটে ৪০টি আসনের বিপরীতে ৩ হাজার ৪৩৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এরমধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ১৮৫ জন। পাস করেছেন মাত্র ৬৩জন। পাসের হার দুই দশমিক ৮৮ শতাংশ। ‘ই’ ইউনিটের ২৫টি আসনের বিপরীতে ৯৯২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ৬৮৩ জন উপস্থিত ছিলেন। পাস করেছে ৩০৫জন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ‘এফ’ ইউনিটের ১৫৫ আসনের বিপরীতে ২ হাজার ৯৬৮ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৪৪ জন। ৫২১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ২৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

এ বছর ৬টি ইউনিটের সাতটি অনুষদের অধীনে ২৬টি বিষয়ে ৯১০টি আসনে ভর্তির সুযোগ পাবেন মেধা তালিকায় থাকা পরীক্ষার্থীরা। এর বাইরে পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও যবিপ্রবিতে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের সন্তানের পোষ্য কোটায় ৫৪ জন ভর্তির সুযোগ পাবেন। এ ফলাফল পরবর্তীতে জানানো হবে। আজ রবিবার থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা চয়েস ফরম পূরণ করতে পারবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল মজিদ, ডিনস কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আনিছুর রহমান, ডিন ড. এএস এম মুজাহিদুল হক, অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, ড. কিশোর মজুমদার, ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ড. জাফিরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক ড. নাজমুল হাসান, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারি ও সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামরুল হাসান, কর্মচারী সমিতির সভাপতি সাজেদুর রহমান জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক কে এম আরিফুজ্জামান সোহাগ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অনলাইনে রবিবার থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ‘চয়েস ফর্ম’ পূরণ করতে পারবে। পরবর্তীতে ১ ডিসেম্বর ‘এ’ ইউনিট, ২ ডিসেম্বর ‘বি’ ইউনিট, ৩ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিট, ৪ ডিসেম্বর ‘ডি’ ও ‘এফ’ ইউনিট এবং ৫ ডিসেম্বর ‘ই’ ইউনিটে উত্তীর্ণদের মেধা তালিকার ক্রম অনুযায়ী ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার যাবতীয় তথ্যসমূহ বিশ^বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট www.just.edu.bd থেকে জানা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল মজিদ, ডিন্স কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান, ডিন ড. এ এস এম মুজাহিদুল হক, অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, ড. কিশোর মজুমদার, ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ড. জাফিরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক ড. মো. নাজমুল হাসান, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

x

Check Also

বরেণ্য অধ্যাপক অজয় রায়ের জীবনাবসান

এমএনএ রিপোর্ট : একুশে পদকপ্রাপ্ত পদার্থ বিজ্ঞানের বরেণ্য অধ্যাপক অজয় রায় (৮৫) রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ...

Scroll Up