যাত্রীবাহী প্লেনে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন পুতিন

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এক মর্মান্তিক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে যে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০১৪ সালে একটি সন্দেহজনক যাত্রীবাহী প্লেনে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাশিয়ার সোচিতে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বোমা হামলার জন্য প্লেনটি এগিয়ে আসছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আঘাত হানার আগেই সেটা ‘ভুয়া অ্যালার্ম’ প্রতিপন্ন হলে পুতিন তার নির্দেশ বাতিল করেন।
সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া একটি তথ্যচিত্রতে এ কথা স্বীকার করতে দেখা যায় রুশ প্রেসিডেন্টকে। ‘পুতিন’ শীর্ষক তথ্যচিত্রটি প্রকাশের পর তা রাশিয়ার জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রায় দুই ঘণ্টা দীর্ঘ তথ্যচিত্রটিতে পুতিনকে বলতে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সোচি অলম্পিক উদ্বোধনের অল্প কিছুক্ষণ আগে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছ থেকে তার কাছে ফোন আসে। ফোনে বলা হয়, ইউক্রেন থেকে ইস্তানবুলগামী একটি ফ্লাইট জিম্মি করা হয়েছে এবং তারা সোচিতে ল্যান্ড করতে চাইছে।
ইস্তানবুলগামী ওই প্লেনটির ক্যাপ্টেন রেডিওতে জানিয়েছিলেন, তাদের একজন যাত্রীর কাছে বোম রয়েছে। তাই, প্লেনটি যাত্রাপথ বদল করে ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিংয়ের জন্য সোচির দিকে যাচ্ছে।
ওই মুহূর্তে পুতিনের একদিকে ছিল প্লেনের ১১০ জন যাত্রী, অপরদিকে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৪০ হাজার দর্শক। এমন পরিস্থিতিতে সবকিছু বিবেচনা করে পুতিন প্লেনটি গুলি করে নামানোর নির্দেশ দেন।
ওদিকে অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল পুতিনেরও। বোমা হামলার জন্য মাঝ আকাশে প্লেন উড়তে থাকলেও, নিরাপত্তার ভার অধীনস্থদের কাঁধে ছেড়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন পুতিন।
স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর পুতিনের কাছে আরেকটি ফোন আসে। এতে বলা হয়, বোমা হামলার অ্যালার্মটি ভুয়া! প্লেনের একজন যাত্রী মাতলামি করায় এমন ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। প্লেনটি তুরস্কের পথে আবার রওনা হয়েছে।
ডকুমেন্টারিতে দেখানো পুতিনের সংলাপগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দেমিত্রি পেসকভ।
যাত্রীবাহী প্লেনে গুলি চালানোর নির্দেশকে ভয়ানক শোনালেও, নিজ দেশের নিরাপত্তার ব্যাপারটি সবার আগে বিবেচনা করার জন্য পুতিনের প্রশংসা করেন সোশ্যাল মিডিয়ার অনেকেই।
আগামী ১৮ মার্চ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন ভ্লাদিমির পুতিন। এদিকে বিশ্ব কাপ ফুটবলের দিনও ঘনিয়ে আসছে। ফলে দেশটির নিরাপত্তার দিকটা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার।