যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ১৩

39
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে সৃষ্ট কোমর সমান এক কাদার স্রোতের কবলে পড়ে কমপক্ষে ১৩ জনের মুত্যু হয়েছে।
অবিরাম প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা কাদার স্রোতের রূপ নিয়ে বাড়িঘর, মানুষজনসহ সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বহু লোক নিখোঁজ রয়েছে। এ কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আহত ১৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০ জন ‘ঝড়ের আঘাতজনিত কারণে’ আহত বলে বিবিসি জানিয়েছে।
আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কাদার বন্যা যে দিক দিয়ে গেছে সেখানকার হাজার হাজার বাড়িঘর গাছপালা ধ্বংস হয়েছে। বহু বাড়িঘর ভেসে গেছে। হাজার হাজার আতঙ্কিত মানুষ প্রাণ হাতে নিয়ে দুর্গত এলাকা ছেড়ে নিরাপদ এলাকার দিকে পালিয়ে গেছে। কাদার স্রোতের কারণে আটকাপড়া ৫০ জনের বেশী মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসে সান্তা বারবারার পূর্ব দিকে অবস্থিত রোমেরো ক্যানিয়নের মধ্যে এখনো প্রায় তিনশ জন আটকা পড়ে আছেন মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ভয়াবহতাকে পুলিশ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহ দৃশ্যের সাথে তুলনা করে বলেছে,’লুকড লাইক আ ওয়ার্ল্ড ওয়ার ওয়ান ব্যাটলফিল্ড’।
আকস্মিক এই ভয়াবহ বন্যা ও কাদার প্লাবন ঠিক সেসব স্থানকেই কবলিত করেছে যেগুলো গতমাসে ভয়াবহ দাবানলের শিকার হয়েছিল। এদিক থেকে নতুন এই বিপর্যয় ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’। কোমর সমান কাদার এই স্রোতের কারণে প্রধান উপকূলীয় মহাসড়কের ৪৮ কিলোমিটার এলাকা দৃশ্যত অচল হয়ে গেছে। অনেক স্থানে রেললাইন ধ্বংস হয়ে গেছে।
এখনো অনেকে নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা উদ্ধারকর্মীদের।

বন্যাক্রান্ত এলাকাগুলোর হাজার হাজার অধিবাসী বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন; কাদায় চাপা পড়া অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব এলাকা ‘খালি করে ফেলার’ নির্দেশনার মধ্যে ছিলনা সেসব এলাকাতেই বন্যা বড় ধরণের আঘাত হেনেছে। কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ক্যালিফোর্নিয়ায় এক জরুরি সতর্কতায় যেসব বাড়ি আগে কখনোই বন্যায় আক্রান্ত হয়নি এবার সেগুলোও ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছিল।
ভূমিধসে মন্টেসিটো এলাকার অনেক বাড়িরই ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সান্তা বারবারা কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মাইক এলিয়াসন জানিয়েছেন।
দমকল বাহিনীর ক্যাপ্টেন ডেভ জানিবোনি মঙ্গলবার শহরটি থেকে পাঁচ ব্যক্তির মৃতদের উদ্ধারের কথা জানান। ঝড়ের কারণে এদের মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা তার।
উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দিতে মার্কিন কোস্টগার্ড বেশ কয়েকটি বিমান পাঠানোর কথা জানিয়েছে। এ কারণে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ড্রোন ওড়াতে সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
ডিসেম্বরে হওয়া ভয়াবহ দাবানলে গাছ ও মাটি পুড়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দেখা দেয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
“সম্প্রতি পুড়ে যাওয়া এলাকা যেখানে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ প্রবাহিত হতে পারে সেগুলো ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে আছে,” বিবৃতিতে জানিয়েূছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস।
বিবিসি বলছে, ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে ৪ থেকে ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কোনো কোনো এলাকায় এটি ৯ ইঞ্চিও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কোনো কোনো এলাকায় তুষারপাতের পরিমাণও বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা আবহাওয়া বিভাগের।
কাদার স্রোত রীতিমতো প্রমত্ত নদীর রূপ নিয়ে যা সামনে যা পাচ্ছে তা-ই তছনছ করে ভেঙে-গুঁড়িয়ে এগিয়ে চলেছে।
ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়ির মালিকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যেসব বাড়িঘর আগে কখনোই বন্যাকবলিত হয়নি, সেসবও বন্যা ও কাদাস্রোতে তলিয়ে যেতে পারে।