যুবলীগের কংগ্রেস উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা

এমএনএ রিপোর্ট : আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আজ শনিবার সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধন করেন তিনি। আজকের কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে আসবে যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব।

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, চাঁদা ও টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য, অনুপ্রবেশসহ নানা অপকর্মে হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাই নতুন কমিটির মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সংগঠনটির আগামী দিনের করণীয় কী হবে- সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। বিকাল ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে কংগ্রেসের দ্বিতীয় পর্ব- কাউন্সিল অধিবেশন।

সেখানে গঠনতন্ত্রের সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন ও অনুমোদন ছাড়াও নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন। সভাপতি পদে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তিনি সরাসরি রাজনীতিতে ছিলেন না। বিদেশে পড়াশোনা করেছেন। এখন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের নীতিনির্ধারক নেতারা আগেই স্পষ্ট করে বলেছেন, দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিতদের আর ঠাঁই হবে না যুবলীগে। সৎ, যোগ্য, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনপ্রিয়রাই আসবেন এই সংগঠনের নেতৃত্বে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ খুঁজে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার কংগ্রেসের দ্বিতীয় পর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করা হবে। আর আলোচিত নেতারা নতুন নেতৃত্বে এলে যুবলীগের চলমান কলঙ্ক কিছুটা হলেও মুছবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

ক্যাসিনোকাণ্ডে সম্পৃক্ত শীর্ষ নেতাদের ধারাবাহিক গ্রেপ্তার ও বয়কটের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ে দেশজুড়ে আলোচনার পুরোভাগে রয়েছে যুবলীগ। দুর্নীতির কারণে ইতোমধ্যে নিষিদ্ধের তালিকায়ও উঠেছে এই সংগঠনের কয়েকজন প্রশ্নবিদ্ধ নেতার নাম। এ সব কারণে গত সেপ্টেম্বর থেকে রাজনীতির নানা হিসেব-নিকেশও বদলে গেছে। দুর্নীতির তৃণমূল উপড়ে ফেলে যুবলীগে শতভাগ পরিচ্ছন্ন রাজনীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হচ্ছে।

এমন অবস্থায় প্রচণ্ড ইমেজ সংকটে থাকা যুবলীগের ৭৭টি সাংগঠনিক জেলাও ৮টি জেলার মর্যাদাসম্পন্ন বৈদেশিক শাখার প্রায় ৩ হাজার কাউন্সিলর ও ২৫ হাজার ডেলিগেট এবং ৮ হাজার অতিথিকে কংগ্রেসে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ২৮ হাজার কাউন্সিলর এবং ডেলিগেটস আজ শনিবার সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসে অংশ নিয়েছেন। কংগ্রেস মঞ্চে উপস্থিত আছেন ২১ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য, পাঁচজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নয়জন সাংগঠনিক সম্পাদক, উত্তর-দক্ষিণ শাখার চারজন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

সূত্র মতে, এবারের কংগ্রেসে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে যুবলীগে। ইতিমধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে।

যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অব্যাহত দেয়া হয়েছে আগেই। ফলে সংগঠনটির শীর্ষ দুই পদেও পরিবর্তন আসছে তা অনেকটাই নিশ্চিত।

যুবলীগের কংগ্রেসে অংশগ্রহণের জন্য সংগঠনের অব্যাহতিপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এই নেতার প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তার ব্যাংক হিসাবও তলব করা হয়েছে। ওমর ফারুক চৌধুরীর মতো যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ ও শেখ আতিয়ার রহমান দীপুকেও কংগ্রেসে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নিষিদ্ধের তালিকায় তাদের নামও রয়েছে।

যুবলীগের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গণভবন থেকে ‘সবুজ সংকেত’ না মেলায় তাদের দাওয়াতপত্র দেয়া হয়নি। ক্যাসিনোসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে তাদের সম্মেলন প্রস্তুতি থেকে দূরে রাখা হয়েছে।

কংগ্রেসকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে নেতাদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ৫৫ বছরের বেশি বয়সের কোনো নেতা এবারের কংগ্রেসে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না।

২০১২ সালের ১৪ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হারুনুর রশিদ নির্বাচিত হন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর কংগ্রেস হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত বছর পর সপ্তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

যুবলীগ বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন যা ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের এই সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি।

x

Check Also

করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু

এমএনএ রিপোর্ট : করোনার উপসর্গ জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল ...

Scroll Up