রনকি-তাসকিনের নৈপুণ্যে চিটাগংয়ের জয়

32
এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : রনকি-তাসকিনের নৈপুণ্যে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। ম্যাচ জিততে ৮ ওভারে দরকার ৬৫ রান; হাতে ৭ উইকেট। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে জয়ের পথেই হাঁটছিল রংপুর রাইডার্স।
কিন্তু তাসকিন আহমেদের একটি দুর্দান্ত ওভারই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেয়। একটি রানআউট-সহ তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে রংপুরকে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে দেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। শেষদিকে মাশরাফি, মালিঙ্গা ও সোহাগ গাজীর দারুণ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রংপুরকে ১১ রানে পরাজিত করে ছন্দে ফেরে চিটাগং।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান তোলে চিটাগং ভাইকিংস। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রানে আটকে যায় রংপুর রাইডার্স।
রংপুরের হয়ে রবি বোপারা ৩২ বলে ৩৮, শাহরিয়ার নাফীস ২৩ বলে ২৬ এবং মোহাম্মদ মিঠুন করেন ১৫ বরে ২৩ রান। মাশরাফি ১২ বলে ১৩ এবং সোহাগ গাজী ১১ বলে ১১ এবং মালিঙ্গা করেন ১০ বলে ১৪ রান।
চিটাগং ভাইকিংসের সফলতম বোলার তাসকিন আহমেদ। ৩১ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া লুইস রিকি দুটি এবং সানজামুল ইসলাম ও শুভাশিষ রায় নেন একটি করে উইকেট।
জয়ের জন্য ১৬৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই জনসন চার্লসের (১) উইকেট হারায় রংপুর রাইডার্স। ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই দলীয় ২০ রানের মাথায় ফিরে যান জিয়াউর রহমান (১১)।
দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে মিঠুন ও নাফীস মিলে ৩৬ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। দলীয় ৫৬ রানের মাথায় মিঠুন ফিরে গেলে নাফীস ও বোপারা মিলে ৪৯ রানের আরেকটি জুটি গড়ে রংপুরকে কক্ষপথে ফেরান। এরপরই ছন্দপতন ঘটে রংপুর শিবিরে।
জিততে শেষ ৪৮ বলে ৭ উইকেট হাতে রেখে ৬৫ রান দরকার ছিল রংপুরের। তখনই তাসকিনের তোপের মুখে পড়ে ধস নামে দলটির ইনিংসে। ইনিংসের ১৩তম ওভারের চতুর্থ বলে শাহরিয়ার নাফীসকে আউট করে রংপুরকে ধাক্কা দেন তাসকিন। পরের বলে সামিউল্লাহ সেনওয়ারিকে মিসবাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে বাধ্য করেন তিনি। ওভারের শেষ বলে থিসারা পেরেরার শট বোলার তাসকিনের বুটে লেগে স্টাম্প ভেঙে দিলে ক্রিজে বাইরে থাকা নন-স্ট্রাইক প্রান্তের ব্যাটসম্যান রবি বোপারা আউট হয়ে গেলে ম্যাচ থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তিন বলে তিন উইকেট হারানো রংপুর।
১৫তম ওভারে আক্রমণে এসে চিটাগংয়ের মুখে ফের হাসি ফোটান তাসকিন। ওভারের শেষ বলে থিসারা পেরেরা বিগ শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে তানভির হায়দারকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।
মাশরাফি ও সোহাগী গাজী মিলে ১৪ বলে ১৭ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। দলীয় ১৩৬ রানের মাথায় মাশরাফি যখন আউট হয়ে ফিরে যান তখনো ২ উইকেট হাতে রেখে জিততে ৩৩ রান দরকার ছিল রংপুরের। ঠিক তখনই চমক দেখিয়ে ম্যাচে রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনেন মালিঙ্গা ও গাজী।
রিকি লুইসের করা ১৮তম ওভারের শেষ বলে চার হাঁকিয়ে ব্যবধান ১২ বলে ২৭ করে ফেলেন গাজী। তাসকিনের করা ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে রংপুর শিবিরে ক্ষীণ আশা জাগিয়ে তোলেন মালিঙ্গা। তবে পরের দুই বলে কোনো রান নিতে পারেননি এই লঙ্কান তারকা। শেষ বলে মালিঙ্গা সিঙ্গেল নিয়ে ব্যবধান দাঁড়ায় ৬ বলে ১৬ রান। তবে শুভাশিষ রায়ের করা ইনিংসের শেষ ওভারে মাত্র ৬ রান নিতে সক্ষম হন গাজী ও মালিঙ্গা। ফলে হার মেনেই মাঠ ছাড়তে হয় রংপুরকে।
এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জিতে চিটাগংকে ব্যাটিংয়ে পাঠান রংপুরের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৯ ওভারে ১০০ রান তোলা চিটাগংয়ের ২০০ রান সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষদিকে তালগোল পাকিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রানেই আটকে যায় চিটাগং। দুর্দান্ত শুরুর পর ৮ উইকেট হাতে থাকা সত্ত্বেও শেষ ৬৬ বলে মাত্র ৬৬ রান করতে সক্ষম হয় বন্দর নগরীর দলটি।
চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৮ রান করেন লুক রনকি। তার ৩৫ বলের ইনিংসটি সাতটি করে চার-ছক্কায় সাজানো ছিল। এছাড়া দিলশান মুনারাবিরা ১৭ বলে ২০, মিসবাহ-উল-হক ৩২বলে ৩১, এনামুল হক বিজয় ১৪ বলে ১৭ এবং রিকি লুকস ১৬ বলে করেন ১০ রান।
রংপুর রাইডার্সের হয়ে রবি বোপারা সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট পান মাশরাফি ও থিসারা পেরেরা।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে রাজশাহীকে পরাজিত করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে হারের মুখ দেখল রংপুর রাইডার্স। অন্যদিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে হারার পর দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ে ফিরল চিটাগং ভাইকিংস।