রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে ১২ জনের মৃত্যু

এমএনএ জেলা প্রতিনিধি : টানা ভারী বর্ষণে রাঙামাটির নানিয়ারচরের তিনটি গ্রামে পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন একজন।
আজ মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে আজ মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এক বছর আগে যে দিনে রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে শতাধিক মানুষ মারা গিয়েছিল, সেই দিনটিতে একই ঘটনা ঘটল।
প্রশাসন সূত্র জানায়, উপজেলার বড়পুল পাড়ায় দুই পরিবারের চার জন, ধর্মচরন কার্বারি পাড়ায় একই পরিবারের চার জন এবং হাতিমারা এলাকায় চার জন মারা গেছেন।
নিহতরা হলেন- বড়পুল পাড়া এলাকার একই পরিবারের সুরেন্দ্র লাল চাকমা (৪৮), স্ত্রী রাজ্য দেবী চাকমা (৪৫) ও মেয়ে সোনালী চাকমা (০৯)। বাকিরা হলেন- রুমেল চাকমা (১২), ধর্মচান পাড়ার ফুল দেবী চাকমা, ইতি চাকমা, দুই বছরের শিশু ও আরো একজন অজ্ঞাত। এছাড়া হাতিমারা এলাকার রীতা চাকমা ও রিটেন চাকমা ছাড়া আরও অজ্ঞাত দুজন মারা যান।
নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লা আল মামুন ও নানিয়ারচর থানার ওসি আব্দুল লতিফ পাহাড় ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কতজন মারা গেছেন তা জানাতে পারেননি।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, তারা আটজনের মৃত্যুর খবর শুনেছেন। নানিয়ার চরে তিনটি জায়গায় পাহাড় ধস হয়েছে। জেলা সদরসহ সব মিলিয়ে বিশটির মতো পাহাড় ধস হয়েছে গত রাত থেকে। জেলায় গত কয়েকদিন ধরেই টানা বৃষ্টি হচ্ছিলো। এখনো একটানা বৃষ্টি হয়েই যাচ্ছে। বৃষ্টির যে অবস্থা, এভাবে যদি বৃষ্টি হতে থাকে তাতে আমরা আরো পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছি।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত একুশটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাহাড় ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক না থাকায় ইউএনও ওই এলাকাগুলোতে এখনও পৌঁছাতে পারেনি। ফলে নিহত বা নিখোঁজের সঠিক তথ্য পেতে কিছুটা সময় লাগছে।
এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড় ধসে উপজেলার ইসলামপুরে ৪৫টি, বগাছড়িতে ৪২টি এবং বুড়িঘাটে একটি বসত ঘর মাটি চাপা পড়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দিদারুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। উদ্ধার কাজে অংশ নিতে আমাদেরও দু’টি টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
গত বছরের ভয়াবহ ধসে ১২০ জন মারা গেলেও নানিয়ারচরে কেউ মারা যায়নি। ওই ধসের পর জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ বসববাসকারীদের যে তালিকা করেছেন, তাতে নানিয়ারচর উপজেলার চার ইউনিয়নে ২৩৯ পরিবারের এক হাজার ১১১ জনকে রাখা হয়।