রাজনৈতিক দৃর্বৃত্তায়নে আইনের শাসন বাধাগ্রস্ত

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন যেমন উন্নয়নের অন্তরায়, অন্যদিকে তা আইনের শাসন বা সুশাসন বাধাগ্রস্ত করে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে দেশের রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের গতি দিন দিন বেড়ে চলেছে। ফলে দলগুলো, বিশেষ করে বড় দলগুলো আদর্শভিত্তিক রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

এসব দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ যেসব কর্মী জনকল্যাণের লক্ষ্যে রাজনীতি করতেন, তাঁরা রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হচ্ছেন। তাঁদের স্থান দখল করে নিচ্ছে সুবিধাভোগীরা। তারা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়ম করে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হচ্ছে। অনেকের বিরুদ্ধে চোরাচালান, মাদক ব্যবসা পরিচালনাসহ নানা গুরুতর অপরাধের অভিযোগও রয়েছে। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তারা নিজস্ব মাস্তান বাহিনী লালন করছে। রাজনীতিতে কেউ তাদের প্রতিপক্ষ হলে মাস্তানদের হামলার শিকার হচ্ছে। ফলে ত্যাগী ও সৎ নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে রাজনীতি থেকেই বিদায় নিচ্ছেন। দখলবাজি ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষও তাদের হামলা-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ফলে জনমনে রাজনীতি সম্পর্কে ক্রমশ বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ দেশ পরিচালনায় রাজনীতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই। তবে সেটি হতে হবে অবশ্যই সুস্থ রাজনীতিচর্চা।

Politics

রাজনীতির এই অধোগতি বা নেতিবাচকতার দায় বড় দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে নমিনেশন-বাণিজ্য একটি বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। কোটি টাকা খরচ করে কোনো সৎ ব্যক্তির পক্ষে নমিনেশন কেনা সম্ভব নয়। এটি সুযোগসন্ধানীদের পক্ষেই সম্ভব। কারণ তারা জানে দল ক্ষমতায় গেলে সুদে-আসলে এই অর্থ বহু গুণ করে ফিরিয়ে আনতে পারবে। আর এই ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বরাবরই অবৈধ হয়ে থাকে। সেই অবৈধ কাজ করার জন্য তাদের সাহায্য নিতে হয় মাস্তান-চাঁদাবাজদের। দলের মধ্যে যাঁরা তার অবৈধ কাজের বিরোধিতা করবেন, তাঁদের দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমনটাই ঘটছে এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে। ত্যাগী ও সৎ নেতাকর্মী, যাঁরা দলের দুর্দিনে মামলা-হামলা উপেক্ষা করে দলীয় কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিয়েছেন, তাঁরা আজ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন কিংবা ছিটকে যাচ্ছেন দলীয় রাজনীতি থেকে। অন্যদিকে সুযোগসন্ধানী, মাস্তান, চাঁদাবাজ, এমনকি স্বাধীনতাবিরোধী বা দলীয় আদর্শের বিরোধিতাকারীরাও দল ও অঙ্গসংগঠনের কমিটিগুলো দখল করে ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত-বিএনপি থেকে অনেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। অভিযোগ আছে, অনেক কুখ্যাত রাজাকার কিংবা একই মানসিকতাধারী তাদের সন্তানরাও এখন আওয়ামী লীগের অনেক স্থানীয় কমিটির নেতা বনে গেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হয়তো বিষয়টি ভেবে দেখছে না যে দলের দুর্দিনে তাদের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। নানা অপকর্মের মাধ্যমে দলকে ডুবিয়ে তারা সময়মতো কেটে পড়বে।

স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের মতো একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলের কাছে দল পরিচালনায় এমন উদাসীনতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা আশা করি, তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় রাখার ব্যাপারে শিগগিরই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

-সম্পাদক

x

Check Also

জাকাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে এগিয়ে আসুন

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে জাকাত। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীকে প্রতিবছর স্বীয় আয় ...

Scroll Up