রাডার দুর্নীতি মামলায় এরশাদ খালাস

12

এমএনএ রিপোর্ট : বিমানের রাডার ক্রয়সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস পেলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ সব আসামি।

মামলা থেকে খালাস পাওয়া অপর তিন আসামি হলেন বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান সুলতান মাহমুদ, বিমানবাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও ইউনাইটেড ট্রেডার্সের পরিচালক এ কে এম মুসা। মুসা শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।

আজ ১৯ এপ্রিল বুধবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা এ রায় দেন।

রায় উপলক্ষে বিকেল পৌনে চারটার দিকে রায় শুনতে আদালতে আসেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ। তার সঙ্গে আসেন ছোট ভাই দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও দলের অনেক নেতা-কর্মী।

মামলার অন্য দুই আসামি বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান সুলতান মাহমুদ ও বিমানবাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদও আদালতে হাজির হন।

দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সালামি।

গত ১২ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ। এ রায়কে কেন্দ্র দুপুরের পর থেকেই জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন।

এর আগে মামলাটি আগে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন ছিল।

নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯২ সালের মে মাসে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলাটি দায়েরের পর ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর এরশাদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদক অভিযোগপত্র দাখিল করে।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালের ১২ আগস্ট এরশাদসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর পর ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আদেশে স্থগিত ছিল। ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট মামলায় বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

২০১৩ সালের ১১ জুন মামলাটিতে যুক্তিতর্কের শুনানি পর্যায়ে ওই আদালতের বিচারক বিব্রত বোধ করে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়ে দিলে এই আদালতে মামলাটির বিচার শুরু হয়।

২০১৪ সালের ১৫ মে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন এরশাদ। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে লিখিত বক্তব্য দেন। মামলার অন্য দুই আসামি সুলতান মাহমুদ ও মমতাজ উদ্দিন আহমেদও সেদিন আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন।

মামলাটিতে ৩৮ জন সাক্ষীর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মঞ্জুর আহমেদসহ মোট ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন বিমান বাহিনী প্রধান সদর উদ্দিন আহমেদ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে বিমান বাহিনীর জন্য যুগোপযোগী রাডার কেনার আবেদন জানান। জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানীর নির্মিত অত্যাধুনিক একটি হাই পাওয়ার রাডার ও দুইটি লো লেভেল রাডার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

কিন্তু পরে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদসহ অন্য আসামিরা পরস্পরের যোগসাজসে আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানির অত্যাধুনিক রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিং কোম্পানির রাডার কেনেন। এতে তারা ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকা আর্থিক ক্ষতি করেছিলেন।