রাবিতে ভালোবাসা দিবসে ’প্রেমবঞ্চিতদের’ মিছিল!

42
এমএনএ ক্যাম্পাস রিপোর্ট : ভালোবাসা দিবসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিতে) ক্যাম্পাসে ’প্রেমবঞ্চিতদের’ বিক্ষোভ মিছিল করাতে দেখা গেছে! যদিও আজ ক্যাম্পাস জুড়ে দেখা মেলে অনেক প্রেমিক জুটির। আবার অন্যদিকে ‘প্রেমবঞ্চিতদের’ অনেকে হন্যে হয়ে প্রেমিক বা প্রেমিকা খোঁজেন।
ওই ‘বঞ্চিত’দের একটি দল প্রেমের দাবিতে আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ‘প্রেম বঞ্চিত সংঘের’ ব্যানারে এ মিছিল বের হয়।
এ ব্যাপারে আমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, গতকাল বসন্তবরণের পর আজ বুধবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবসেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তরুণ-তরুণীরা প্রিয়জনের সান্নিধ্যে মতিহারের সবুজ চত্বরকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে ফুলের পসরা বসিয়েছেন দোকানিরা।
এসব ফুলের দোকানের কাছে যেতেই তরুণ-তরুণীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেল। তবে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেমবঞ্চিত সংঘ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের টুকিটাকি চত্বর থেকে একটি মিছিল বের করেন শতাধিক শিক্ষার্থী, যারা সবাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেমবঞ্চিত সংঘের সদস্য। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের স্লোগান ছিল, ‘কেউ পাবে কেউ পাবে না, তা হবে না তা হবে না’।
মিছিলের দিকে তাকিয়ে আশপাশের লোকজন অনেকে হাসেন! আবার কেউ এসে মিছিলে যোগ দেন। এভাবে মিছিলে লোকসংখ্যা বাড়তে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাড়া ঘুরে মিছিলটি প্যারিস রোডে পৌঁছালে অংশগ্রহণকারী চারশ’ ছাড়িয়ে যায়।
ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে মিছিলটি আবার টুকিটাকি চত্ত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেন অংশগ্রহণকারীরা। এসময় তারা ‘প্রেমের নামে প্রহসন বন্ধ কর বন্ধ কর’, ‘তুমি কে আমি কে? সিঙ্গেল সিঙ্গেল’ স্লোগান দেন।
সংগঠনের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অনিক সরকারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন ‘প্রেম বঞ্চিত সংঘের’ সদস্যরা।
মিছিল শেষে সমাবেশে ওই সংঘের শিক্ষার্থীরা বলেন, কিছু কিছু ছেলেমেয়ে একসঙ্গে তিন থেকে চারটি প্রেম করছে। এ জন্য প্রেমের বাজারে তীব্র প্রেমিক-প্রেমিকা সংকট দেখা দিয়েছে। কেউ পাবে কেউ পাবে না, তা হবে না তা হবে না। সাম্যতা বজায় রাখুন একাধিক প্রেম বর্জন করুন। সমাবেশে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোসবাসা দিবসের পাশাপাশি সিঙ্গেল দিবস পালনের দাবি জানানো হয়।
এ ব্যাপারে আরও একজন অভিযোগ করে বলেন, ‘কিছু তরুণ-তরুণী একই সঙ্গে তিন-চারটি প্রেম করছেন। ছেলেরা প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের ধোঁকা দিচ্ছে। তবুও মেয়েরা বুঝতে পারছে না। কিন্তু সত্যিকার প্রেমিকরা প্রস্তাব দিলে কোনো কিছু না ভেবেই মেয়েরা প্রত্যাখ্যান করছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে ও মোটরসাইকেল না থাকায় স্নাতক শেষের পথেও তারা নিজেরা প্রেমবঞ্চিত।