রাহুল গান্ধীই হচ্ছেন কংগ্রেসের নতুন সভাপতি

34
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই আজ সোমবার জানা যাবে দেশটির সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সভাপতি হচ্ছেন কে। তবে রাহুল গান্ধী যে তার মা সোনিয়া গান্ধীর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন সেটা একরকম নিশ্চিত। কারণ গতকাল রবিবার বিকেল পর্যন্ত এই পদের জন্য লড়তে একমাত্র রাহুলই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন আজ সোমবার।
কংগ্রেস নেতা জিতীন প্রসাদ জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ব্যাপারটিই সত্যি হতে চলেছে। রাহুলই কংগ্রেসের সভাপতি পদের জন্য একমাত্র প্রার্থী। আর কেউ এ পদে লড়তে মনোনয়ন কিনবেন না। সে কারণে তিনিই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। আগামীকাল মঙ্গলবার মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ দিন। ওই দিনই কংগ্রেস দলের নির্বাচন কমিটির প্রধান মুল্লাপালি রামচন্দ্রন সভাপতি হিসেবে রাহুল গান্ধীর নাম ঘোষণা করবেন।
কংগ্রেসের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি জানায়, সভাপতি পদের নির্বাচনের জন্য ১ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। পরের দিন মনোনয়নপত্র খতিয়ে দেখা হবে। প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ১১ ডিসেম্বর। নির্বাচন হবে ১৬ ডিসেম্বর। ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ হবে ১৯ তারিখ। তবে নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকলে মনোনয়ন বাছাইয়ের দিনই নির্বাচিত সভাপতির নাম ঘোষণা করা যাবে।
সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া হয় কয়েক ধাপে। প্রথমে জেলা স্তরে কমিটির নির্বাচন হয়। সেই কমিটিই প্রদেশ কমিটি নির্বাচন করে। প্রদেশ কমিটি কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সদস্য নির্বাচিত করে যার সংখ্যা ১৮শ’। তারাই কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত করে থাকেন।
জানা গেছে, রাহুল সভাপতি হলে সোনিয়া গান্ধী দলটির পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারম্যান পদে থাকবেন। বর্তমান কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যস্ত রয়েছেন।
তবে রাহুলকে এখনই কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব দেয়া নিয়ে দলের মধ্যে নানা মত রয়েছে। দলের এক অংশ মনে করে, যদি রাহুলের প্রচারের পরও গুজরাট বা হিমাচলের বিধানসভা ভোটের ফল ভাল না হয়, তাহলে এই পদোন্নতি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আগামী বছর বিধানসভার একাধিক ভোটে। এমনকি লোকসভার ভোটেও।
৯ ডিসেম্বর গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই ভোটের আগেই রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হতে পারেন। অক্টোবরে এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেসের বর্তমান সভাপতি সোনিয়া গান্ধীও রাহুলের কাঁধে দলের দায়িত্ব তুলে দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের সদস্য হওয়ার পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৮-এর এপ্রিলে সীতারাম কেশরীকে সরিয়ে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি তাকে সভাপতি মনোনীত করে। তার পর থেকে তিনিই দলের সভাপতি। মাঝে ২০০০ সালে সভাপতি পদের জন্য কংগ্রেসে একবারই নির্বাচন হয়। সেবার সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন জিতেন্দ্র প্রসাদ। কিন্তু জিতেন্দ্র প্রসাদকে হারিয়ে ফের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন সোনিয়া। তার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি পদেই থেকে গেছেন সোনিয়া। টানা ১৭ বছর ধরে সোনিয়া গান্ধী দলটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।এবার সে জায়গাই পেতে চলেছেন রাহুল গান্ধী।
২০১৩ সালের জানুয়ারিতে কংগ্রেসের সহ-সভাপতি হওয়ার পর থেকেই রাহুল দলটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা। এবার পদোন্নতির অপেক্ষায় ‘৪৭-এর এই যুবক। ঘটনাচক্রে দলের সেই ব্যাটন তিনি মায়ের হাত থেকেই নেবেন।