রেকর্ড ইনিংস গড়েও বোলিং ব্যর্থতায় হারল বাংলাদেশ

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : নিজেদের টি-২০ ইতিহাসে রেকর্ড ইনিংস গড়েও ম্যাচে বোলিং ব্যর্থতায় হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। পাওয়ার ব্যাটিংয়ে ২০ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে অনায়াসেই ১৯৪ রানের টার্গেট অতিক্রম করে শ্রীলঙ্কা।
এর আগে টস জিতে সৌম্য-মুশফিক-মাহমুদউল্লার ব্যাটিং নৈপুণ্যে পাঁচ উইকেটে ১৯৩ রানের রেকর্ড সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিক শিবির। টি-টোয়েন্টিতে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর। আগের সর্বোচ্চ ১৯০ (আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১২ সালে বেলফাস্টে)।
শ্রীলংকার বিপক্ষে টাইগারদের আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০১৩ সালে পাল্লেকেলেতে করা ৭ উইকেটে ১৮১ রান।
বাংলাদেশের দেয়া ১৯৩ রানের জবাবে ১৬ দশমিক ৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান সংগ্রহ করে জয় তুলে নেয় লংকানরা।
বাংলাদেশের মতো উড়ন্ত সূচনা করে শ্রীলঙ্কাও। দানুষ্কা গুনাথিলাকা আর কুশল মেন্ডিস উদ্বোধনী জুটিতেই তুলেন ৫৪ রান। এ জুটিটা ভাঙেন নাজমুল ইসলাম অপু। অভিষিক্ত এ বাঁ-হাতি স্পিনারের বলটা মিস করে মুশফিকের বুদ্ধিদীপ্ত স্ট্যাম্পিংয়ে সাজঘরে ফেরেন ৩০ রান করা গুনাথিলাকা।
তবু ঝড়ো ব্যাটিং চালিয়েই যাচ্ছিলেন কুশল মেন্ডিস। মাত্র ২৭ বলে ৫৩ রান করা এ ব্যাটসম্যানকে শেষপর্যন্ত আউট করেন আফিফ হোসেন। এরপর উপুল থারাঙ্গার ক্যাচটিও নেন অভিষিক্ত এ অলরাউন্ডার। নাজমুল অপুকে তুলে মারতে গিয়ে অভিজ্ঞ এ ব্যাটসম্যান আউট হন মাত্র ৪ রান করে।
এরপর রুবেল হোসেনের বাউন্সি এক ডেলিভারিতে পুল করেন নিরোশান ডিকভেলা। ৯ বলে ১১ করা এ ব্যাটসম্যানের বাতাসে ভাসানো বলটি অনেক ওপরে উঠলেও বাউন্ডারিতে দাঁড়িয়ে দারুণভাবে ধরে ফেলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
তবে পরের সময়টায় বাংলাদেশি বোলারদের আর পাত্তা দেননি লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। দাসুন শানাকা আর কুশল পেরেরা মিলে ৩০ বলে ৬৫ রানের বিধ্বংসী জুটিতে জয় নিশ্চিত করে দেন শ্রীলঙ্কার। পেরেরা করেন ১৮ বলে অপরাজিত ৩৯ রান, শানাকা ২৪ বলে ৪২।
দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বৃহস্পতিবার টস জিতে আগে ব্যাট করে মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকারের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটে ১৯৩ রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিকরা।
পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে আসে ৭১। ১০ ওভারে ১০০। চতুর্থ উইকেটে ৭৩ রানের জুটিতে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৪৪ বলে ৬৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন মুশফিক। তাতে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছক্কার মার। ১৯তম ওভারে আউট হওয়ার আগে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ৩১ বলে ৪৩।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে উড়ন্ত শুরু এনে দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম ফিফটি তুলে নেন সৌম্য সরকার (৫১)। তার ৩২ বলের মারকুটে ইনিংসটিতে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কার মার। দলীয় ৪৯ রানের মাথায় ওপেনিং জুটি ভাঙে। ইনজুরি আক্রান্ত তামিম ইকবালের জায়গায় নামেন অভিষিক্ত জাকির হাসান (১০)। সৌম্য-মুশফিক দ্বিতীয় উইকেট পার্টনারশিপে যোগ হয় ৫১।
অভিষেক ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্ভাগ্যের শিকার আফিফ হোসেন (০)। সৌম্যর বিদায়ের একই ওভারে (একাদশ) বল পায়ে লেগে নিচে পড়ার সময় ব্যাটের পেছনে লেগে যায়। ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচ লুফে নেন উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকভেলা। দলীয় ১০০ রানেই তৃতীয় উইকেট হারায় টাইগাররা। শেষ ওভারে আউট হন সাব্বির রহমান (১)।
দলে ফেরা লেগস্পিন অলরাউন্ডার মেন্ডিস দু’টি উইকেট লাভ করেন। একটি করে নেন গুনাথিলাকা, ইসুরু উদানা ও থিসারা পেরেরা।
বাংলাদেশ একাদশে নতুন মুখ চারজন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত জাকির হাসান, আফিফ হোসেন, আরিফুল হক ও নাজমুল ইসলাম অপু। বাহুর পেশীর ব্যথা পুরোপুরি সেরে ওঠায় তামিমকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেয়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। কবজির সমস্যা কাটিয়ে শঙ্কা দূর করেন মুশফিক।
আঙুলের চোটের কারণে টেস্ট সিরিজ মিস করেন সাকিব আল হাসান। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে ইনজুরি আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই মাঠের বাইরে তিনি। টি-২০ সিরিজের শেষ ম্যাচে খেলা নিয়েও রয়েছে সংশয়। সাকিবের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ।
বাংলাদেশ দল : সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, সাইফউদ্দিন, রুবেল হোসেন, সুস্তাফিজুর রহমান, জাকির হোসেন, আফিফ হোসেন, নাজমুল হক অপু, আরিফুল হক।
শ্রীলংকা একাদশ : দিনেশ চান্ডিমাল (অধিনায়ক), উপুল থারাঙ্গা, দানুস্কা গুনাথিলাকা, নিরোশান ডিকবেলা, কুশল মেন্ডিস, আকিলা ধনঞ্জয়া, ইসুরু উদানা, থিসারা পেরেরা, দাসুন শানাকা, জিহান মেন্ডিস ও সিহান মাদুশঙ্কা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৯৩/৫ (জাকির ১০, সৌম্য ৫১, মুশফিক ৬৬*, মাহমুদউল্লাহ ৪৩, সাব্বির ১, আরিফুল ১*; মাদুশাঙ্কা ০/৩৯, গুনাথিলাকা ১/১৬, উদানা ১/৪৫, থিসারা ১/৩৬, ধনঞ্জয়া ০/৩২, জীবন ২/২১)
শ্রীলংকা : ১৬.৪ ওভারে ১৯৪/৫ (কুশল মেন্ডিস ৫৩, দানুস্কা গুনাথিলাকা ৩০, উপুল থারাঙ্গা ৪, দাসুন শানাকা ৪২*, নিরোশান ডিকবেলা ১১, থিসারা পেরেরা ৩৯*; নাজমুল ২/২৫, সাইফুদ্দিন ০/৩৩, মাহমুদউল্লাহ ০/২৩, রুবেল ১/৫২, মোস্তাফিজুর ০/৩২ ও আফিফ ১/২৬)
ফল : শ্রীলংকা ৬ উইকেটে জয়ী (৩.২ ওভার হাতে রেখে)।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কুশল মেন্ডিস।