রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি এখনও পোড়ানো হচ্ছে : অ্যামনেস্টি

31

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এখনও রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পোড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবারের স্যাটেলাইট ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এমনটি দাবি করেছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী রাখাইন রাজ্যে আরও বহু জায়গায় নতুন করে আগুন দেওয়া হয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্র ছাড়াও গতকাল শুক্রবার রাখাইন রাজ্যের তিনটি ভিডিও এসেছে অ্যামনেস্টির হাতে, যেখানে নতুন করে আগুন দেওয়ার চিত্র স্পষ্ট এবং এসব ভিডিওতে তীব্র ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখা গেছে।

রাখাইনের স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী নতুন করে এসব আগুন দিয়েছে।

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে রাখাইনে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছে বলে জানান মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভান থিও। সংস্থাটি এর আগে ২২ সেপ্টেম্বরের উপগ্রহ চিত্রেও রোহিঙ্গা গ্রামে জ্বালিয়ে দেওয়া ঘর থেকে ধোঁয়া ওড়ার কথা জানায়।

অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্স ডিরেক্টর তিরানা হাসান বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশটির নেত্রী অং সান সু চি বলেছিলেন ৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে রাখাইনে আর কোনো সেনা অভিযান হয়নি। নতুন ভিডিও ও স্যাটেলাইট চিত্র সু চির কথাকে অসারতা প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, নতুন করে রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ পর এই প্রথম অ্যামনেস্টির হাতে এমন অকাট্য ভিডিও প্রমাণ এলো। সেনাবাহিনী শুধু রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করেই ক্ষান্ত থাকেনি, তারা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরও জ্বালিয়ে দিচ্ছে। তারা এটা নিশ্চিত করতে চাইছে যে, রোহিঙ্গাদের যেন ফেরার মতো আর কোনো আশ্রয় বাকি না থাকে।

অ্যামনেস্টির হাতে থাকা ৩টি ভিডিওর একটি গত ২১ সেপ্টেম্বর তোলা হয়েছে। ওই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, মংডুর কাছেই পার ওয়াত চং গ্রামে কৃষকের ক্ষেত খামার পুড়ছে, সেখান থেকে ব্যাপক ধোঁয়ার কুন্ডলী বের হচ্ছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেছেন, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি ওইদিন বিকেলে এ আগুন দিয়েছে।

অ্যামনেস্টি গত ১৬ সেপ্টেম্বর ও ২২ সেপ্টেম্বর ওয়াত চং গ্রামের স্যাটেলাইট চিত্রের তুলনামূলক বিশ্লেষখ করে দেখেছে। একই গ্রামের দুই সময়ের দুই চিত্র থেকে পুড়িয়ে গ্রামটিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সেনা মোতায়েনের পর ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ‘জাতিগত নিধন’ শুরু করে। ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী। পুরানো পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার সাথে নতুন অভিযানে ইতোমধ্যে যোগ হয়েছে আরও প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা।

সারা বিশ্বে ইউএনএইচসিআর কতৃক নিবন্ধিত ১৭.২ মিলিয়ন শরণার্থীর ৩০% এখন বাংলাদেশে। এরই মধ্যে চলমান রোহিঙ্গা ঢল অব্যাহত থাকলে শরণার্থীর এ সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। এত সংখ্যক শরণার্থীর দায়িত্ব তাদের পক্ষেও নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে কোনো এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ নিহত হন ৭০ জনের বেশি মানুষ। ওই হামলার জন্য ২৫ আগস্ট থেকে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে দায়ী করে তাদের ওপর নির্বাচারে নির্যাতন ও হত্যা শুরু করে। এরপর থেকেই রাখাইন ও আরাকান রাজ্য থেকে কক্সবাজারের টেকনাফসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ।