রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন পাশে থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন চেষ্টা করবে। চীন নিজেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়কেই বন্ধু বলে উল্লেখ করে দেশটির রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং বলেছেন তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিবে।’

চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বিকেল ৪টায় এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে সম্মত করতে চেষ্টা করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেন। রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। চীন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুবার মিয়ানমারে পাঠিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে তারা আবারও মন্ত্রীকে মিয়ানমারে পাঠাবেন।

তিনি বলেন, আমি উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করি। রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে এ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হাতে পারে বলে আমি উল্লেখ করি।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ইলিশ মাছ ও তিস্তা নদীর পানি সংক্রান্ত এক বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কারো কাছে পানি চাইবে না। দেশের সমস্ত নদী খনন করে পানি ধরে রাখা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নের উত্তরে বলেন, উনি (মমতা) বলেছেন তিস্তার পানি দেইনি বলেই ইলিশ মাছ পাচ্ছি না। আমরা বলেছিলাম তিস্তায় পানি নেই, তবে ইলিশ আসবে কীভাবে?

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা দেশের সমস্ত নদী খনন করবো। বর্ষায় পানি ধরে রাখবো। কারোর কাছে আমাদের পানি চাইতে হবে না। আমরা আত্মনির্ভরশীল হতে চাই, পরনির্ভরশীল নয়। গত ১০ বছর আগে দেশের অবস্থা কী ছিল, এখন আমরা কী অবস্থায় দেশকে নিয়েছে এসেছি তা একটু বিচার করুন। দেশের এতো উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলে।

‘আওয়ামী লীগ এদেশ স্বাধীন করেছে। সেই দেশই উন্নতি করতে পারে যারা স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে, মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে। উড়ে এসে জুড়ে বসা কোনো দল দেশের কোনো উন্নয়ন করতে পারে না, অতীতে তা বারবার প্রমাণ হয়েছে।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছে, আশ্রয় দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে তাদেরও অনেক সৈন্য প্রাণ দিয়েছেন। জয় বাংলা স্লোগান এসেছে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা থেকে। কেউ যদি জয় বাংলা স্লোগান দেয়, আমরা তো তার মুখ থেকে তো কেড়ে নিতে পারি না।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ব্যাপকভাবে পালন করা হবে। এজন্য সরকারিভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে, দলীয়ভাবেও আলাদা আলাদা কমিটি করা হয়েছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। ২০২০-২০২১ বর্ষকে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী যেভাবে উদযাপিত হয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী তারচেয়ে ব্যাপকভাবে আমরা উদযাপন করবো। সেভাবেই আমরা কর্মসূচি সাজাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫দিনের সরকারি সফরে গত ১ জুলাই চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। সফরকালে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন এবং চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সফর শেষে গত ৬ জুলাই তিনি দেশে ফেরেন।

x

Check Also

টাকার অবমূল্যায়ন শুরু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

এমএনএ রিপোর্ট : দীর্ঘদিন বিনিময়মূল্য ধরে রাখার পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন শুরু করেছে ...

Scroll Up