লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস কিনল কাতারের রাজ পরিবার

63
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসটি কিনে নিয়েছে কাতারের রাজ পরিবার। পুরনো এ দূতাবাসটি কাতারের রাজ পরিবারের কাছে ৩১৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করা হয়েছে। এর পেছনে আরো ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ৫ তারকা হোটেল বানানো হবে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, অক্সফোর্ড ট্রিটের দূতাবাসটি সামান্য মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে ২০১৩ সালে কাতারের রাজ পরিবারের কাছে এটি বিক্রি করা হয়। বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার হওয়ার পরেও সেটি ৩১৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
লন্ডনের ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিসের বরাত দিয়ে ডেইলি মেইলে বলা হয়েছে, অক্সফোর্ড স্ট্রিটের দূতাবাসটি ৯৯৯ বছরের জন্য বিক্রি করা হয়েছে। বারাক ওবামার সময়ে এটি বিক্রি করা হলেও এর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল প্রেসিডেন্ট বুশের সময়ে। ১৯৬০ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই দূতাবাসটি নির্মাণ করে।
বিক্রি হওয়া ভবনটিতে মোট ৯টি ফ্লোর রয়েছে। মোট জায়গার পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার বর্গফুট। এর মধ্যে কক্ষ রয়েছে ৬০০টি। ভবনটি কিনে নেয়ার পর কাতার রাজ পরিবার এটি সংস্কারের জন্য ১ দশমিট ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রস্তুতি নিয়েছে। সংস্কারের পর এটি ১৩৭ সদস্যবিশিষ্ট ৫ তারকা হোটেলে রূপ নেবে।
ইতিপূর্বে লন্ডনে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি হয়েছে। ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাস, পরে কানাডিয়ান হাইকমিশনের ভবনও বিক্রি করা হয়।
দূতাবাসটি বিক্রির পর টেমস নদীর তীরে নতুন দূতাবাস তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। লন্ডনের টেমস নদীর তীরে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও দৃষ্টিনন্দন দূতাবাসটি নির্মাণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১০০ কোটি ডলার (প্রায় আট হাজার কোটি টাকা)। এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভবন।
খোলামেলা পরিবেশে নির্মিত হলেও যেকোনো হামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে ভবনটি। এজন্য সবধরনের ব্যবস্থা রয়েছে এর ভেতরে। একটি পার্কের কেন্দ্রে নির্মাণ করা হয়েছে চারকোণা এই ভবন। অবাক করা ব্যাপার হলো এর কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ভবনটির চারপাশে একটা পুকুর রয়েছে। পুকুরে রয়েছে কৃত্রিম জলপ্রপাত ও গভীর পরিখা। ছাদে বসানো হয়েছে সৌর প্যানেল, যা এর চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।
দূতাবাস ভবনে রয়েছে তুষারশুভ্র কাঁচের তৈরি হাঁটার পথ, রয়েছে মার্কিন সংবিধানের বিভিন্ন উদ্ধৃতি। রয়েছে নতুন ধাঁচের ভাস্কর্য। রয়েছে একটি পানশালা, একটি ব্যায়ামাগার, একটি ডাকঘর এবং একটি অত্যাধুনিক মেরিন সেনাব্যারাক। সিআই’র একটি কার্যালয়ও রয়েছে এখানে।
২০১৮ সালে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান দূতাবাস ছেড়ে নতুন ভবনে উঠবেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা। লন্ডন সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। খবর ডেইলি মেইলের।