শততম টেস্ট জয়ে বাংলাদেশের টার্গেট ১৯১

59

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : শততম টেস্ট জয়ে ১৯১ রানের সহজ টার্গেট পেয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজ ড্র করার হাতছানি টাইগারদের সামনে। গোটা দেশ তাকিয়ে আছে টাইগারদের এই জয়ের প্রত্যাশায়।

একদিকে নিজেদের শততম টেস্ট, অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে শক্তিশালী কোনো দলের বিপক্ষে প্রথমবার জয়ের হাতছানি। সবমিলিয়ে কলম্বোর পি সারা ওভালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পঞ্চম ও শেষ দিনে বেশ রোমাঞ্চ নিয়েই ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৬ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে অপরাজিত আছেন সাকিব আল হাসান ৩৩ বলে ১২ রান এবং মুশফিকুর রহিম ১৫ বলে ৬ রানে। জয়ের জন্য আরও ৩৫ রান প্রয়োজন।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ১২৮ রানে পিছিয়ে থাকা শ্রীলংকা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে আজ রবিবার ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনের প্রথম সেশনে অলআউট হওয়ার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৯ রান তুলতে সক্ষম হয়। শেষ দিনের শুরুতে দিলরুয়ান পেরেরা ও সুরাঙ্গা লাকমাল বাংলাদেশ বোলারদের হতাশ করে ব্যাটিং করতে থাকেন। জুটি গড়েন ৮০ রানের।

দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলংকার পক্ষে সর্বোচ্চ ১২৬ রান করেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান দিমুথ করুণারত্নে। এছাড়াও বাংলাদেশকে বেশ ভুগিয়েছেন দিলরুয়ান পেরেরা। ৫০ রান করলেও খেলেছেন ১৭৪ বল। তবে অবশেষে রান আউটের ফাঁদে পড়েছেন তিনি। মেহেদি হাসান মিরাজের বলে রান নেওয়ার সময় আউট হন তিনি। আর এক রান পরেই সাকিব আল হাসানের বলে মোসাদ্দেককে ক্যাচ দিয়ে ৪২ রানে ফেরেন লাকমাল। বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিব আল হাসান ৭৪ রানে ৪টি ও মোস্তাফিজুর রহমান ৭৮ রানে ৩টি উইকেট নেন।

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় অষ্টম ওভারে রঙ্গনা হেরাথের শেষ দুই বলে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস বিদায় নেন। সৌম্য ১০ রান করে উপল থারাঙ্গার ক্যাচে পরিণত হন। পরের বলেই শূন্য রানে থাকা গুনারত্নেকে ক্যাচ দেন ইমরুল।

সৌম্য-ইমরুল দ্রুত ফিরে গেলেও উইকেটে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে থাকেন তামিম ইকবাল। তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাব্বির রহমানকে নিয়ে ১০৯ রানের জুটি গড়েন। তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২২তম হাফসেঞ্চুরি। তবে ব্যক্তিগত ৮২ রানের মাথায় দিলরুয়ান পেরেরার বলে তুলে মারতে গিয়ে চান্দিমালের ক্যাচে পরিণত হন তিনি। অসাধারণ ইনিংসটি সাজাতে খেলেছেন ১২৫ বল, রয়েছে সাতটি চার ও একটি বিশাল ছক্কার মার।

তামিমের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাব্বির রহমান। টেস্ট মেজাজে খেলতে থাকা এই হার্ডহিটার পেরেরার দ্বিতীয় শিকারে এলবির ফাঁদে পড়েন। ৭৬ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে ৪১ রান করেন তিনি।

প্রথম চারদিনের খেলা শেষে দারুণ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের পঞ্চম দিনের শুরুটা আশানুরূপ হয়নি। ১৩৯ রানে এগিয়ে থেকে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করা শ্রীলংকার অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যান দিলরুয়ান পেরেরা ও সুরঙ্গা লাকমল বাংলাদেশের হতাশা বাড়িয়ে এগিয়ে নিতে থাকেন দলের লিড। নব উইকেটে তারা গড়েন ৮০ রানের মূল্যবান জুটি। দলীয় ৩১৮ রানে দিলরুয়ান পেরেরার রানআউটে ভাঙে এই জুটি। অবশ্য তার আগেই পেরেরা তুলে নেন অর্ধশতক। আউট হন সেই ৫০ রানেই।

এরপর শ্রীলংকার শেষ উইকেটটি তুলে নিতে অবশ্য সময় নেয়নি বাংলাদেশ। ইনিংসের পরের ওভারেই বোলিংয়ে এসে সুরঙ্গা লাকমলকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে লংকার ইনিংস গুটিয়ে দেন সাকিব। লাকমল করেন ৪২ রান।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ১২৮ রানে পিছিয়ে থেকে ম্যাচের তৃতীয় দিন শুক্রবার বিকেলে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ফের ব্যাট করতে নামে শ্রীলংকা। তবে কোনো বিপদ ছাড়াই নির্বিঘ্নে দিনটি পার করেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান থারাঙ্গা ও করুণারত্নে। দিন শেষে দু’জনেই অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে। আর লংকার সংগ্রহ দাঁড়ায় কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান।

এই অবস্থায় ম্যাচের চতুর্থ দিন গতকাল শনিবার সকালে ফের ব্যাট করতে নামেন লংকার দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। তবে দিনের দ্বিতীয় ওভারে নিজের প্রথম বলেই থারাঙ্গাকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন মিরাজ।

দিনের দারুণ এই শুরু অবশ্য ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারানো শ্রীলংকা এরপর আর কোনো উইকেট না হারিয়েই পার করে দেয় প্রথম সেশনের খেলা। পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে ১২৮ রানে পিছিয়ে থাকা লংকানরা ঘাটতি পূরণ করে ৮ রানের লিড নিয়ে যায় মধ্যাহ্ন বিরতিতে।

তবে বিরতি থেকে ফেরার পর দ্বিতীয় ওভারেই বোলিংয়ে এসে লংকান ব্যাটসম্যান মেন্ডিসকে তুলে নেন মোস্তাফিজ। তার অফস্টাম্পের বাইরের বল মেন্ডিসের ব্যাট ছুয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে গেলেও আউট দেননি মাঠের আম্পায়ার। পরে রিভিউতে বদলে যায় সিদ্ধান্ত। সাজঘরে ফেরার আগে মেন্ডিস করেন ৩৬ রান।

এরপর ব্যক্তিগত দশম ওভারে বোলিংয়ে এসে আবারও আঘাত হানে মোস্তাফিজ। এবার তার শিকার প্রথম ইনিংসে শতক তুলে নেওয়া দিনেশ চান্ডিমাল। উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে চান্ডিমাল করেন ৫ রান।

দলীয় ১৭৬ রানে আসেলা গুণারত্নেকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে দিনের চতুর্থ সাফল্য এনে দেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। গুণারত্নে করেন ৭ রান।

পরের ওভারেই বোলিংয়ে এসে আবারও আঘাত হানেন মোস্তাফিজ। এবার তার শিকার ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তিনি কোনো রান করতে পারেননি।

দলীয় ১৯০ রানে আবারও শ্রীলংকার ইনিংসে আঘাত হানেন সাকিব। তার বলে সুইপ করেছিলেন নিরোশান ডিকওয়েলা। তবে আগেই বুঝতে পেরে ডানদিকে সরে যাওয়া উইকেটরক্ষক মুশফিক দারুণ দক্ষতায় গ্লাভসবন্দি করেন ডিকভেলার তুলে মারা বল। এর মধ্য দিয়ে শ্রীলংকার ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয়। ডিকভেলা করেন ৫ রান। পরে করুণারত্নেতে তুলে নেন সাকিব। তিনি ১২৬ রান করেন।

গত বুধবার কলম্বোর পি সারা ওভাল স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া বাংলাদেশের শততম এই টেস্টে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলংকা। দিনেশ চান্দিমালের ১৩৮ রানের ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৩৮ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিকরা।

জবাবে সাকিব আল হাসানের শতক এবং অভিষিক্ত মোসাদ্দেক হোসেন, উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের অর্ধশতকে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪৬৭ রান করে সফরকারীরা। সাকিব করেন ১১৬ রান। এছাড়া মোসাদ্দেক ৭৫, সৌম্য ৬১ ও মুশফিক ৫২ রান করেন।