শপথ নেননি বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের ৭ বিজয়ী প্রার্থী

এমএনএ রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ২৮৮ এবং তিন স্বতন্ত্র নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করলেও শপথ নেননি বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের ৭ বিজয়ী প্রার্থী। এই শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হল একাদশ জাতীয় সংসদের।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার কিছু সময় পর শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের প্রথম লেভেলের শপথকক্ষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথমে নিজে নিজের শপথ গ্রহণ করেন; এর নির্বাচিতদের শপথবাক্য পাঠ করান তিনি।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মহাজোটের বিজয়ী প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এসময় বিএনপির নির্বাচিত পাঁচ সংসদ সদস্যের কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না; দেখা যায়নি দলটির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের দুই বিজয়ী প্রার্থীকেও।

সংবিধান অনুযায়ী-২৯১ জনকে শপথবাক্য পাঠ করান দশম সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

নতুন এমপিরা একসঙ্গে সমস্বরে স্পিকারের সঙ্গে শপথবাক্য পাঠ করেন। সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করানোর আগে নিয়ামানুযায়ী স্পিকার নিজেই শপথগ্রহণ করেন।

শপথের পর নবাগত এমপিরা স্পিকারের সামনে শপথ ফরমে স্বাক্ষর করেন এবং গ্রুপ ছবি তোলেন।

এ অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে সকাল ১০টা থেকেই এমপিরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করতে শুরু করেন। দশম সংসদের সংসদ নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একে একে প্রবেশ করতে থাকেন সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের শপথকক্ষে।

এমপিরাও হাত নেড়ে সংসদে প্রবেশ করেন। সব মিলে সংসদ ভবন এলাকায় একটি উৎসবমুখর পরিবেশের তৈরি হয়।

নিয়মানুযায়ী দুপুরে পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে দলনেতা নির্বাচিত হবেন।

তার পর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বলবেন, আমাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে সংসদে। তখন রাষ্ট্রপতিকে তিনি সরকারপ্রধান করার অনুরোধ করবেন। তার পরেই গঠিত হবে নতুন সরকার।

এদিকে নির্বাচনে জয়ী হলেও শপথ নেননি বিএনপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। তারা ‘ভোট কারচুপি’ ও ‘অনিয়মের’ প্রতিবাদস্বরূপ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে সরকারের বৈধতা দেয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

তবে আজ শপথ না নিলেও তাদের সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে তাদের শপথ নিতে হবে।

তবে সংবিধান অনুযায়ী-সংসদ অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে তাদের শপথ নিতে হবে, তা না হলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আসন গ্রহণের পর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন।

এ আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। পরে স্পিকার নিজে শপথবাক্য পাঠ করে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।

জানা গেছে, দুপুরে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভাতেই তারা নিজ দলের সংসদ নেতা নির্বাচন করবেন। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন-এটি অনেকটাই নিশ্চিত।

নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জাতীয় পার্টির ভূমিকা সংসদে কী হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। বুধবার নির্বাচন-পরবর্তী জাতীয় পার্টির প্রথম প্রেসিডিয়াম বৈঠকের পর জানানো হয়, আজ সংসদীয় দলের সভায় এ বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার ইসিতে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এতে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফল বাতিল ও নতুন নির্বাচনের দাবি জানানো হবে।

শপথের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এর আগে সমকালকে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনী এলাকা থেকে তিনি মাত্রই ঢাকায় এসেছেন। জোটের সঙ্গে আলাপ করে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।

সংসদ সচিবালয়ের আমন্ত্রণ তার হাতে এখনও পৌঁছায়নি জানিয়ে সুলতান মনসুর বলেন, শপথ নেওয়ার সময় তো আর পেরিয়ে যাচ্ছে না। পরেও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সাতজনের মধ্যে পাঁচজন বিএনপির ও দু’জন গণফোরামের। মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে জোটের প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং সিলেট-২ আসন থেকে নিজস্ব প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে মোকাব্বির খান বিজয়ী হয়েছেন।

সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ এবং শপথ নেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক ডাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে বা স্পিকারকে না জানালে বিজয়ীদের আসন শূন্য হওয়ার বিধানও রয়েছে।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ১ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ২৯৮ জনের নাম-ঠিকানাসংবলিত ওই গেজেট প্রকাশের পর নতুন এমপিদের শপথের আয়োজন করতে বুধবার সকালে সংসদ সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয় ইসি।

দশম সংসদের নির্বাচন বর্জনকারী দল বিএনপি এবারের নির্বাচনে অংশ নিলেও দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের তুলনায় আসন সংখ্যা কম হওয়ায় তারা প্রধান বিরোধী দল হতে পারছে না। তবে জাতীয় পার্টি পুরোপুরি সরকারের সঙ্গে থাকলে সে ক্ষেত্রে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে পারে।

গত ৩০ ডিসেম্বর ২৯৯ আসনে ভোট হয়। তার মধ্যে একটি আসনে কয়েকটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত থাকায় নির্বাচন কমিশনের গেজেটে ২৯৮টি আসনের বিজয়ীদের নাম ও ঠিকানা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৮টি। বিপরীতে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আসন মাত্র সাতটি।

মহাজোটের শরিকদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৬টি, জাতীয় পার্টি ২২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, জাসদ দুটি, বিকল্পধারা দুটি এবং বাংলাদেশ জাসদ, তরীকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টি (জেপি) একটি করে আসন পেয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি পাঁচটি, গণফোরাম দুটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটি আসন পেয়েছেন।

x

Check Also

ভারতের লোকসভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল পাস

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : বিরোধীরা অসাংবিধানিক বললেও সাত ঘণ্টা বিতর্ক শেষে গতকাল সোমবার মধ্যরাতে ভারতের ...

Scroll Up